ভিক্ষা না চেয়ে চীনকে তাড়িয়ে জমি ফেরত নিন: মোদিকে অধীর রঞ্জন

ভারতের লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এমপি চীন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘সাহস থাকলে চীনের নাম করে হুমকি দিন মোদিজি। ফাঁকা আওয়াজ দেবেন না। ‘মন কী বাত’ (মনের কথা) ছেড়ে ‘লাদাখ কী বাত’ বলুন। ভিক্ষা না চেয়ে চীনকে তাড়িয়ে জমি ফেরত নিন।’

রোববার (২৮ জুন) অধীর বাবু ওই মন্তব্য করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, নরেন্দ্র মোদিজি, অন্তত একবারের জন্য ‘মন কী বাত (মনের কথা) অনুষ্ঠানের বদলে আপনি ‘লাদাখ কী বাত’(লাদাখের কথা) করুন। চীন ভারতের মাটিতে অনুপ্রবেশ করার পরে জায়গা দখল করলেও আপনার কোনও বক্তব্যে তাদের নাম করলেন না কেন? এই পরিস্থিতির মধ্যেও কেন চীন সম্পর্কে চুপ রয়েছেন আপনি?

এর আগে রোববার রেডিওতে ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠানে চীনের নাম উল্লেখ না করে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, লাদাখে যারা চোখ তুলে তাকিয়েছিল, তারা কঠোর জবাব পেয়েছে। ভারত যেমন বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে জানে, তেমনি চোখে চোখ রেখে যোগ্য জবাব দিতে জানে।

এদিকে, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা অভিষেক মনু সিংভি এমপি প্রধানমন্ত্রী কেয়ার্স ফাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, চীনের বিভিন্ন কোম্পানির থেকে ৯ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা পেয়েছে পিএম কেয়ার্স তহবিল। একদিকে চীন ভারতের ভূখণ্ড দখল করছে, আর অন্যদিকে চীনা কোম্পানির থেকেই অনুদান নেওয়া হচ্ছে কেন?

অন্যদিকে, সোমবার (২৯ জুন) গণমাধ্যমে প্রকাশ, সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের একাংশের জিজ্ঞাসা, যদি চীনের নাম মুখে আনতেই বাধে, তাহলে ‘যোগ্য জবাব’ দেওয়ার দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা কতখানি? রেডিওতে ‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে চীনের নাম না শুনে তারা কিছুটা অবাকই হয়েছেন।

সূত্র: পার্সটুডে

কোনো বহিঃশক্তি বা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থে আমাদের যুদ্ধ চলে না: তালেবান

মার্কিন সেনাদের হত্যা করার বিনিময়ে তালেবান রাশিয়ার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে বলে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস যে খবর দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে এই গোষ্ঠী।তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন,

তিনি রোববার এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, তালেবান গত ১৯ বছর ধরে আগ্রাসী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে যে লড়াই করছে তা কোনো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে করেনি এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কারো সাহায্যের প্রয়োজন তালেবানের নেই।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে দাবি করে, আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর পাশাপাশি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সেনাদের হত্যা করার বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের পুরস্কার পায় তালেবান।

তালেবান মুখপাত্র বলেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পথে বাধা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আফগান জনগণসহ গোটা বিশ্ববাসীকে তালেবান এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে,

তারা কারো ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে না এবং দখলদার সেনাদের আফগানিস্তান থেকে বহিষ্কার করা ছাড়া অন্য কোনো লক্ষ্যেও তাদের লড়াই নয়।তালেবান কাতার শান্তি চুক্তি মেনে চলছে দাবি করে মুজাহিদ বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে আফগানিস্তানে শান্তি ফিরে আসবে। সুত্র: পার্সটুডে

খুলে দেয়া হল রোম কেন্দ্রীয় মসজিদ!

মহামারি কেটে যাবার পর ২৬ জুন শুক্রবার থেকে জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে খুলে দেয়া হয়েছে সুপ্রাচীন রোমান সভ্যতার পাদপীঠ ইতিহাস বিশ্রুত রোম মহানগরীতে মাথা উঁচু করে থাকা কেন্দ্রীয় মসজিদ।

১২ হাজার মুসল্লি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩০ হাজার স্কয়ার মিটার জুড়ে ঐতিহাসিক এই মসজিদটি স্থাপত্য শিল্পের এক চোখধাঁধানো নিদর্শন। উত্তর রোমের মন্তি পারিয়লি এলাকায় ইসলামের পতাকা ওড়ানো এই বিশাল মসজিদ প্রতিষ্ঠায় মিশে আছে দারুণ চমকপ্রদ এক ইতিহাস।

রোম পৌর কর্তৃপক্ষ ১৯৭৪ সালে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য সুবিশাল জায়গা দান করলেও দীর্ঘ ১০ বছর অতিবাহিত হয়ে যায় নির্মাণ কাজ শুরু হতেই। ইতালির তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সান্দ্রো পেরতিনি ১৯৮৪ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মসজিদ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ইতালীয় গোষ্ঠীর কিছু বিরোধিতা থাকলেও তৎকালীন খ্রিস্টান প্রধান ধর্মগুরু পোপ জন পল মসজিদের অনুকূলে বিশেষ সমর্থন প্রদান করেন। তারপরও বিপত্তি বাঁধে মসজিদের নকশা বিশেষ করে মিনার কতটা উঁচু হবে তা নিয়ে।

সাত পাহাড়ের মহানগর রোমের স্কাইলাইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার মাপকাঠিতে চলে আসে রোমেরই অভ্যন্তরে ভ্যাটিকান সিটির সিম্বোলিক গীর্জার গম্বুজের উচ্চতা।

সেন্ট্রাল মসজিদের মিনারের উচ্চতা নগরীর আরেক প্রান্তে অবস্থিত ভ্যাটিকানের গম্বুজের উচ্চতার চাইতে অন্তত এক মিটার কম হবে এমন সমঝোতার মধ্য দিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত হয় মসজিদের নকশা।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের সরাসরি অর্থায়ণে নির্মাণ কাজ সুচারুরূপে শেষ হবার পর ১৯৯৫ সালের ২১ জুন আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে এই কেন্দ্রীয় মসজিদ।

রোম কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রতিষ্ঠায় মূল অর্থ যোগানদাতা ছিলেন সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ ফয়সাল। ইতিহাসের পাতায় সোনার হরফে লিপিবদ্ধ আছে আফগানিস্তানের প্রিন্স মুহাম্মাদ হাসান ও তার স্ত্রীর নামও।

বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদানও শ্রদ্ধার সাথে লিপিবদ্ধ আছে রোমের এই ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতিটি ইট-পাথরে। পাওলো পর্তোগেজি, ভিত্তোরিও জিলিওত্তি এবং সামী মুসাওয়ি মসজিদের নকশা প্রণয়ন করেন।

পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে মুসলিম ভাইবোনেরা যারা ভূমধ্যসাগর তীরে রোমে বেড়াতে আসবেন তারা এই মসজিদে দু’রাকাত নামাজ পড়ে ধন্য হতেই পারেন।

সুত্র: দ্য ডেইলী ক্যাম্পাস

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় বাহিনী বিএসএফের ৩৩ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে (বিএসএফ) করোনার ভয়াবহ থাবা পড়েছে। একদিনে ৩৩ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

রোববার (২৮ জুন) ওই গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, এনিয়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে মোট আক্রান্তে সংখ্যা বেড়ে ৯৪৪ জনে দাঁড়ালো।

এদিকে ঝাড়খণ্ডে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) নয়জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার সরাইকেলা খারসাওয়ান জেলায় ১১ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এদের মধ্যে রয়েছেন ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দেয়া ৯ সিআরপিএফ সদস্য। তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ভারতে একদিনেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৬ জন। খবর এনডিটিভির।

রোববার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৯।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪১০ জনের।

আরো পড়ুন-প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বাইডেনই: ট্রাম্প

সদ্য হওয়া তিনটি জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, তাঁকে বেশ খানিকটা পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। একটি খবরের চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রায় বলেই ফেললেন যে, বাইডেনই প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন, কারণ দেশের কিছু মানুষ তাঁকে ভালবাসেন না।

সাক্ষাৎকারের শুরুটা হয়েছিল বাইডেনকে আক্রমণ করেই। অতিমারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং লকডাউনের জেরে আর্থিক মন্দা নিয়ে দেশের তাবড় সেলিব্রিটিরা পর্যন্ত মুখ খুলেছেন।

সেই সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আন্দোলনে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর হুমকিও ভাল চোখে নেননি অনেকেই। সাক্ষাৎকারটির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাইডেনও প্রেসিডেন্টকে বিঁধে বলেছেন, ‘‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্প শিশুদের মতো আচরণ করেছেন। মনে হচ্ছে ওঁকে ছাড়া আমাদের সকলের উপরেই প্রভাব ফেলেছে এই অতিমারি।’’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর এই বক্তব্যেরই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। যার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমে বাইডেনের এক গুচ্ছ সমালোচনা করেন। তার পরেই বলেন, ‘‘একটা লোক ভাল করে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না।

অথচ উনিই আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। কারণ এ দেশেরই কিছু মানুষ আমায় ভালবাসেন না হয়তো।’’ তার পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি আমার কাজটাই করছি।’’

বেশ কিছু সমীক্ষা আবার এ-ও বলছে, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বাড়ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। মিশিগান, ফ্লরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভ্যানিয়া, ভার্জিনিয়ার মতো প্রদেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত চাইছেন, ট্রাম্পই ফের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসুন।

অথচ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদেরই সমর্থন করারই প্রবণতা ছিল এত দিন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সচিব সারা ম্যাথিউস সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এমন সমর্থন পেয়ে প্রেসিডেন্ট অভিভূত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে

সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় জোর দেন ট্রাম্প। তাই নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে এলে হাউডি মোদী ও ট্রাম্প ভারতে গেলে কেমছো ট্রাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সারা বলেছেন, ‘‘আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে ভারতীয়-মার্কিন নাগরিকদের অবদানকে প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দেন।’’

এ দিকে, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অর্থ খরচ করার অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলে রায় দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত।