ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলিম মহাকাশ বিজ্ঞানী খুশবু

একের পর এক সাফল্য। প্রথমে চন্দ্রযান-১, তারপর চন্দ্রযান-২। প্রশংসা কুড়িয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দেরও। এহেন কৃতী মুসলিম মহিলা বিজ্ঞানী খুশবু মির্জার মুকুটে নয়া পালক। এবার তিনি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরোর ডিরেক্টর সমতুল্য ‘সায়েন্সটিস্ট-এফ’ পদে অধিষ্ঠিত হলেন।

২০১৮ সালে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেছিলেন, আলিগড়ের শিক্ষার্থীরা আগামীতে দেশকে পথ দেখাবে। রাষ্ট্রপতির সেই কথারই কার্যত প্রতিফলন ঘটল খুশবুর সাফল্যে। খুশবু এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পড়ুয়া এবং খুশবুর পরিবারের সদস্যরা তাঁর সাফল্যে গর্বিত। উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার বাসিন্দা শুধু পড়াশোনায় নয়, খেলাধুলা, রাজনীতির মতো নানা বিষয়ে তাঁর আগ্রহ।

নিয়মিত ভলিবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। এমনকী জেলা স্তরেও তিনি ভলিবল খেলেছেন। এএমইউ-তে খুশবুই প্রথম ছাত্রী যিনি ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনে পরাজিত হলেও সক্রিয় রাজনীতিতে মেয়েদের অংশগ্রহণ কতটা জরুরি তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্রীদের সেদিন বোঝাতে পেরেছিলেন।

২০০৬ সালে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বি.টেক পাশ করেন। ছোট থেকেই তিনি পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। স্কুল ও কলেজে কখনও দ্বিতীয় হননি খুশবু। ইসরোর এই নতুন পদে অনেক দায়িত্ব। তবে তার জন্য তিনি প্রস্তুত।

খুশবু মহাকাশ-বিজ্ঞানের উড়ানে একের পর এক কৃতিত্ব উজ্জ্বল সাক্ষ্য রেখে গিয়েছে। ইসরোর চন্দ্রযান-১ অভিযানের সেরা ১২ ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। মাত্র সাত বছর বয়সে আব্বু সিকান্দার মির্জাকে হারিয়েছিলেন তিনি।

পিতৃহারা হয়েও অসম্ভব জেদ ও মেধাকে সম্বল করে বিজ্ঞানে তাঁর উড়ান ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখি। সিকান্দার নিজে ছিলেন একটি পেট্রোল পাম্পের মালিক। মৃত্যুর পর খুশবুর মা ফারহাত মির্জা এই ব্যবসার দায়িত্ব নেন। মেয়েকে পাঠান পড়াশোনার জন্য।

সিকান্দর সবসময় চাইতেন, খুশবু বড় হয়ে বিজ্ঞানী হোক। আব্বুর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতেই মার্কিন সফটওয়্যার সংস্থা ‘অ্যাডব’-এর মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে তুলনামূলকভাবে কম বেতনের হলেও ইসরোতে যোগ দেন তিনি।

স্বামীর স্বপ্নপূরণের জন্য খুশবুর মা-ও মনে করেন, ইসরোতে যোগ না দিলে বড় ভুল করতেন খুশবু।খুশবুর বাবা নিজে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তাঁর ভাই জামিয়া মিল্লিয়ার প্রাক্তন ছাত্র খুশরাত মির্জাও ইঞ্জিনিয়ার।

যদিও খুশবুর স্বপ্নকে স্বার্থক করতে ও বোনের পড়াশোনার বিপুল খরচ জোগাতে ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে তিনিও মায়ের সঙ্গে ব্যবসায় যোগ দেন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর আব্বুর ইচ্ছাকে সফল করতে অ্যাডবের চাকরি ছেড়ে প্রযুক্তিবিদ হিসেবে যোগ দেন ইসরোতে।

চন্দ্রযান-১ অভিযান পরিকল্পনা রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন খুশবু। তিনি বিশেষ নকশার সফটওয়ার তৈরি করেছিলেন যা উপগ্রহ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং উৎক্ষেপণের প্রাক্ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রত্যেক পরীক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

২০০৮ সালের ২৩ অক্টোবর সফল উৎক্ষেপণ হয় চন্দ্রযান-১-এর। নিজের হাতে তৈরি গোটা পরিকল্পনার রূপকার খুশবু নিজের চোখের সামনে চাক্ষুষ করেছিলেন সেই সাফল্য। তাঁর কথায়, এটা ছিল এক ‘অভাবনীয় মুহূর্ত’। এই ঘটনার পর সবথেকে বেশি খুশি বোধহয় হয়েছিল খুশবুর গ্রাম আমরোহা।

গ্রামবাসীরা এর পর থেকেই আমরোহার নতুন নাম দেয় খুশবু মির্জার গ্রাম’। তাঁদের আদরের মেয়ে ডলি (খুশবুর ডাক নাম) যে এভাবে বিশ্বের কাছে গ্রামের নাম উজ্জ্বল করবে তা তাঁরা ভেবে উঠতে পারেননি। সুত্র: পুবের কলম

কাশ্মীরে উত্তেজনা; পাকিস্তানে সাবমেরিন পাঠিয়েছে চীন

লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনা বাড়ছেই। আলোচনার পর সীমান্ত থেকে পিছু হটেছে চীনের সেনাবাহিনী- দাবি ভারতের। কিন্তু স্যাটেলাইট চিত্র বলছে অন্য কথা। ছবিতে দেখা গেছে, লাদাখ সীমান্ত ঘেঁষে ব্যাপক নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে চীন।

গানওয়াল নদীর পর্যন্ত আটকে দেওয়া হয়েছে বলে চীনের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে এসেছে। এছাড়াও সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাকিস্তানের করাচি বন্দরে রাখা হয়েছে চীনের ০৯৩-শ্যাং নিউক্লিয়ার সাবমেরিন।

লাহোরে জে-১১ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানকে সরাসরি চীনা সমরঘাঁটিতে পরিণত করে ফেলেছে চীন। আর তা করে ভারতের বিরুদ্ধে একেবারে যুদ্ধের প্রস্তুতির দাঁর প্রান্তে চীনের সেনাবাহিনী।

লাদাখের সীমান্ত সঙ্কট নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা, বৈঠক এবং শান্তির বার্তার আড়ালে চীন চূড়ান্ত সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। জানা যাচ্ছে,পাকিস্তানের তিনটি বিমানবন্দরে চীনের বিমানাবাহিনীর একঝাঁক ফাইটার জেট রাখা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, শতাধিক সেনাও পাকিস্তানে ঘাঁটি তৈরি করেছে বলে খবর। সূত্র বলছে ২০১৭ সাল থেকে করাচি বন্দরে একটি চীনের সাবমেরিন রাখা হয়েছে। সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে সংঘাতের খবর আসতে চীনের নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের তৎপরতা ধরা পড়েছে বলে খবর।

গোয়েন্দা সূত্রে পাকিস্তানের মাটিতে চীনের এ হেন সেনা তৎপরতা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে ভারত। বিভিন্ন এয়ারবেসে ভারতীয় বিমান বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহেই ভারতের রাডারে ধরা পড়েছিল চীনা বিমানসেনার গতিবিধি।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে চীনা বিমানের আনাগোনা সন্দেহ বাড়ায় ভারতের। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের স্কার্দুতে অবতরণ করে চীনা বিমান। ফলে গোটা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে ভারত।

ভারতের জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলি জানাচ্ছে স্কার্দুতে খুব নিয়ন্ত্রিত গতিবিধি নজরে এসেছে ভারতীয় রাডারের মাধ্যমে। এর প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন এয়ারবেসে ভারতীয় বিমানসেনারাও তৎপরতা বাড়িয়েছে।

সেনাবাহিনীতেও একেবারে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তেও ক্রমশ সেনা বাড়ানো হচ্ছে বলেও ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে। সূত্র: সময় টিভি

‘পশ্চিম এশিয়ায় আইএস-কে পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল’

আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইল হচ্ছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসের সহযোগী। এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তাদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি।

কয়েক দিন আগে সিরিয়ার বুকামালে আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন। তার এ বক্তব্য আজ ইরানের আল-আলম টিভি চ্যানেল সম্প্রচার করেছে।

ইসমাইল কায়ানি আরও বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে দায়েশ বা আইএসের তৎপরতা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের দিকনির্দেশনায়। তিনি আরও বলেছেন, মার্কিন-ইসরাইলি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবতাবিরোধী তৎপরতা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, যে মার্কিন প্রশাসন তার নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে হিংস্রতা দেখায়, নৃশংস কায়দায় জনগণকে দমন করে। তারা স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের অন্য জাতিগুলোর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করবে।

কুদস ফোর্সের প্রধান বলেন, আমরা শহীদদের পথ বিশেষকরে শহীদ কাসেম সুলাইমানির পথ অনুসরণ অব্যাহত রাখব। সুত্র: পার্সটুডে

যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ আইএসের পৃষ্ঠপোষক: পাকিস্তান

সম্প্রতি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বলে আখ্যায়িত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সরকারের এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। জবাবে পাকিস্তান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ আইএসের (ইসলামিক স্টেট) পৃষ্ঠপোষক।

আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে দাবি করে যে, পাকিস্তান উগ্র সন্ত্রাসীদের জন্য অভয়ারণ্য। পাকিস্তানের উগ্র জঙ্গিরা দেশটি থেকে ভারত ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রতিবেদনের সমালোচনা করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার বিকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে জানায়, সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে দেশটির ভূমিকাকে উপেক্ষায় করায় দুঃখ প্রকাশ করছে তারা।

পাকিস্তানের দেয়া ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে এমন সময় সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বলেছে যখন খোদ মার্কিন সরকার উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। অন্যদিকে ইসলামাবাদ নিজেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হামলার শিকার হচ্ছে।

পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন না করা পর্যন্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আয়েশা ফারুকি জানিয়েছিলেন, তার দেশ বিগত তিন বছরের অভিযানে অন্তত ১ হাজার সন্ত্রাসীকে হত্যা ও বন্দি করেছে। পাকিস্তান তিন বছর আগে দেশটির সর্বত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান শুরু করে যার সমাপ্তি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ইরনা।