হিমালয়ে ভারতের বিরুদ্ধে বেতার তরঙ্গের যুদ্ধ!

নাৎসি প্রচারণা যন্ত্রের মূল হোতা জোসেফ গোয়েবলস হয়তো কবরে বসে হাসছে, কারণ তিক্ত সীমান্ত বিবাদে লিপ্ত দক্ষিণ এশিয়ার তিন প্রতিবেশী মনে হচ্ছে যেন জার্মান কোমল শক্তি অস্ত্র-রেডিও ওয়েভের দিকে ফিরে যাচ্ছে।

নেপাল সীমান্তঘেঁষা উত্তরখাণ্ডের পিথোরাগড় জেলার ঝুলাঘাটে নিজের দোকানে বসে হতাশ হয়ে একটি নেপাল এফএম রেডিও চ্যানেল শুনছেন প্রমোদ কুমার ভাট। এ রকম প্রায় এক ডজন চ্যানেল গত সপ্তাহ থেকে নেপালি গান প্রচার করে যাচ্ছে, যেগুলোতে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানিসহ উত্তরখাণ্ডের বেশ কিছু জায়গা নেপালকে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ভাটের দোকানের ক্রেতাদের বড় অংশই ছিল মূলত সীমান্তের ওপারের নেপালিরা। যদিও তার দোকানটা পড়েছে কালি নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের ভারতীয় অংশে। এই নদী দিয়েই প্রত্যন্ত হিমালয় উপত্যকায় দুই দেশের সীমানা আলাদা হয়েছে। বিতর্কিত কালাপানি এলাকা থেকে এই জায়গাটি প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে।

এই তিনটি এলাকাকে নিজেদের দাবি করে নেপাল, যেগুলোর আয়তন প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার। কৌশলগত লিপুলিখ পর্বত গিরিপথকে নিয়ন্ত্রণ করে ভারত যেটার মাধ্যমে উত্তরখাণ্ডের সাথে চীনের তিব্বত অঞ্চল যুক্ত হয়েছে।

১৯ জুন নেপালের পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধন করে নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র গ্রহণ করেছে, যেখানে বিতর্কিত তিন এলাকাকে নেপালের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে।

নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে ভারত-নেপাল-চীনের ত্রিদেশীয় সংযোগ পয়েন্টের ছোট্ট একটি এলাকাকে নতুন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেছে এবং নেপালের জনগণ বিক্ষোভে নেমেছে।

কৌশলগত পার্বত্য গিরিপথ দিয়ে ভারত একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা উসকে ওঠে। যে দেশ দুটির মধ্যে ঐতিহ্যগত বহু শতকের পুরনো বেটি আর রুটির সম্পর্ক চলে আসছে, তাদের সেই সম্পর্কে ফাটল ধরেছে এবং জনগণের পর্যায়ে ঘৃণা আর অনাস্থা তৈরি হয়েছে, বললেন ভাট। ভাট এখন একইসাথে দেশি সংবাদপত্রগুলোর জন্য সাংবাদিকের কাজও করছেন।

ঝুলাঘাট থেকে ফোনে সাউথ এশিয়ান মনিটরকে ভাট বলেন, “ঝুলাঘাটে কালি নদী দিয়ে ভারত-নেপালের সীমান্ত ভাগ হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত নেপালের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে এখানে আসতো জিনিসপত্র কিনতে”।

লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি বিতর্কিত এলাকাগুলোর উপর কাঠমাণ্ডুর দাবি প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভারত সীমান্তের কাছাকাছি বেশ কিছু নেপালি এফএম রেডিও চ্যানেল ভারত-বিরোধী গান প্রচার শুরু করেছে। সাথে রয়েছে নেপালের মাওবাদী নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্য। পিথোরাগড়-ভিত্তিক সিনিয়র সাংবাদিক প্রেম পুনেথা এ কথা জানান।

“সীমান্তের দুই পারের মানুষের কাছেই নেপালি গানগুলো খুবই জনপ্রিয় এবং সে কারণে এখন সবাই নেপালের মাওবাদী নেতাদের ভারত-বিরোধী বক্তৃতা শুনছে।

পিথোরাগড় থেকে পুনেথা টেলিফোনে সাউথ এশিয়ান মনিটরকে বলেন, “সম্প্রতি কিছু এফএম রেডিও ও ওয়েবসাইট ভারত-বিরোধী গান ব্যাপক মাত্রায় প্রচার করতে শুরু করেছে, যে গানগুলোতে বিতর্কিত এলাকাগুলো নেপালের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে”।

পুনেথা বলেন, নেপালের প্রচারণার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো ভারতীয় অংশের অধিবাসীদের প্রভাবিত করা এবং বিতর্কিত এলাকাগুলোর উপর নেপালের দাবিকে আরও জোরালো করা।

তিনি বলেন, “উত্তরখাণ্ডের নেপাল সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নেপালের এফএম রেডিওগুলো শোনা যায় এবং তাদেরকে অর্ধ-সত্য তথ্য দিয়ে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে”।

“নেপালের সীমান্তবর্তী দারচুলা আর বাইতিদা জেলায় এক ডজনের মতো এফএম রেডিও চ্যানেল রয়েছে, যারা সংবাদ বুলেটিন ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের মাঝে ভারত-বিরোধী গান প্রচার করছে”।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দিল্লীর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছে নেপাল আর চীন। নাম প্রচার না করার শর্তে এ কথা বলেছেন কাঠমান্ডু-ভিত্তিক এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

“২০১৯ সালের নভেম্বরে দিল্লী বিতর্কিত এলাকাগুলোর একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। ভারত শাসিত রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে বিভক্ত করে কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ গঠনের পর এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়”।

কাঠমাণ্ডু থেকে ফোনে সাউথ এশিয়ান মনিটরকে ওই বিশ্লেষক বলেন, “ভারতের মানচিত্রে নেপালের সাথে বিতর্কিত এলাকাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে, যেটাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে মানচিত্র যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং ভারত আর চীন এখন লাদাখ অঞ্চলে সামরিক অচলাবস্থার মধ্যে অবস্থান করছে”।

নেপাল এমন সময় এই কঠোর অবস্থান নিলো যখন হিমালয়ের বিতর্কিত লাদাখ অঞ্চলে দুই পারমানবিক শক্তিধর এবং দুটো বৃহত্তম জনগোষ্ঠির দেশ তিক্ত সঙ্ঘাতে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে এবং যেখানে সঙ্ঘর্ষে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছে।

সীমান্ত উত্তেজনার মোকাবেলা বা এটাকে সম্ভাব্য অন্য দিকে সরানোর জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দুই শক্তি যদিও কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এর মধ্যেই ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব জন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান প্রচার ভারতী নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যাতে ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি উত্তর সীমান্তের জনগণের কাছে পৌঁছায়।

রাষ্ট্রায়ত্ব সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান অল ইন্ডিয়া রেডিওর (এআইআর) তিব্বত ও চীনা ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অনুষ্ঠানে আগে তিব্বতের সংস্কৃতি ও খবরের দিকে জোর দেয়া হতো। এখন চলমান ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে মতামত এবং চীনের ব্যাপারে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়া হয়েছে। এআইআরের এক্সটার্নাল সার্ভিস ডিভিশানের এক কর্মকর্তা এ কথা জানান।

গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় আর চীনা বাহিনীর রক্তক্ষীয় সংঘর্ষের দুই দিন পর ১৭ জুন ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান প্রচার ভারতী এক টুইটে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা অল ইন্ডিয়া রেডিওর তিব্বত ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অনুষ্ঠান শোনে।

ভারতীয় ব্রডকাস্টাররা জানিয়েছেন, শর্টওয়েভে শোনা ছাড়াও, তিব্বত ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ইউটিউব চ্যানেল এবং এমনকি টেক্স ফরমেটেও শোনা যাবে। খবর সাউথ এশিয়ার মনিটরে’র

তিব্বত ওয়ার্ল্ড সার্ভিস অল ইন্ডিয়া রেডিওর এক্সটার্নাল সার্ভিসেস ডিভিশানের একটি অংশ যেটা ২৭টি ভাষায় সম্প্রচারিত হয়। ১৫টি বিদেশী ও ১২টি ভারতীয় ভাষায় এই অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়, যে ধারাটা ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে।

অল ইন্ডিয়া রেডিও তিব্বতের ভাষায় সম্প্রচার শুরু করে ১৯৫৬ সাল থেকে। ১৯৫০ সালে চীনারা তিব্বতে অভিযান চালানোর পর থেকে এটা শুরু হয়, যদিও মাঝখানে সম্প্রচারে সাময়িক বিরতি ছিল।

তবে, ১৯৫৮ সাল থেকে আবার এটা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রচার চালিয়ে আসছে। এর এক বছর পরে ১৯৫৯ সালে তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামা দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

তিব্বত ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অনুষ্ঠানে সবসময় চীনকে খোঁচা দেয়া হয়েছে। প্রচার ভারতীয়র সাবেক সিইও জওহর সরকার এ কথা বলেন।

“চীন কখনই অল ইন্ডিয়া রেডিওর তিব্বত ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে ভালো চোখে দেখেনি।

সরকার সাউথ এশিয়ান মনিটরকে বলেন, “তাদের সবসময়ই এই ধারণা ছিল যে, ভারত তিব্বতের সন্ত্রাসীদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে।

“সীমান্তের সব দিকের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য তিব্বত ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয় অল ইন্ডিয়া রেডিও’র সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের কেন্দ্র থেকে”।

তখন থেকেই চীনারা অল ইন্ডিয়া রেডিওর শর্টওয়েভ রেডিও সম্প্রচারে জ্যামিং করে আসছে, যে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে তিব্বত ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। এআইআরের এক্সটার্নাল সার্ভিসেস ডিভিশানের এক কর্মকর্তা এ কথা জানান।

এআইআরের এক্সটার্নাল সার্ভিস ডিভিশানের কো-অর্ডিনেশান ইউনিটের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, চীনা নিয়ন্ত্রিত তিব্বতের শ্রোতাদের কাছে তিব্বত ও চীনা ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের অনুষ্ঠান পৌঁছানোর জন্য এখন এগুলো ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ-স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এ জন্য ডিরেক্ট-টু-হোম (ডিটিএইচ) স্যাটেলাইট ডিশ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।

লাদাখে চীনের আরো সেনা ছাউনি স্থাপন, স্যাটেলাইটে যুদ্ধ প্রস্তুতির ছবি

লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনা দিন দিন শুধু বাড়ছেই। সব রকম খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত দুই দেশ। সীমান্তে পৌঁছে গেছে ভারতের ৪৫ হাজার সেনা, টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক, জমি থেকে আকাশমুখী ক্ষেপণাস্ত্র। বসেছে এয়ার সার্ভেল্যান্স সিস্টেম।

এরই মধ্যে উপগ্রহচিত্রে গালওয়ান উপত্যকায় নতুন করে চীনের আরও ১৬টি সেনা ছাউনির ছবি ধরা পড়েছে। তাতেই চিন্তার মাত্রা আরো বেড়ে গিয়েছে ভারতের। গত ২২ জুনের উপগ্রহচিত্রে গালওয়ানে চীনের তৈরি পাকা পরিকাঠামোর হদিস মিলেছিল।

এবার ২৫ ও ২৬ জুনের ছবিতে আরও ১৬টি কালো ত্রিপলে ঢাকা সেনাছাউনি দেখা যাচ্ছে, যা আগের ছবিতে ছিল না। অর্থাৎ চীন সেনা মোতায়েন আরো বাড়িয়েছে।

ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের প্রশ্ন চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ১৮ কিলোমিটার এলাকা দখল করেছে, তাদের ফেরত পাঠানোর কোনও উপায় কি আদৌ রয়েছে? সেটা না থাকলে সেনা-প্রস্তুতি দিয়ে অতি-জাতীয়তাবাদী দেখানোর অর্থ কী?

দেশটির বিরোধীদের মতে, ভারত এখন যে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে তার মূল লক্ষ্য চীন যাতে নতুন করে আর জমি দখল করতে না পারে। ফিঙ্গার চার থেকে আট এবং গালওয়ান উপত্যকার মতো এলাকা যাতে হাতছাড়া না হয়। কিন্তু গালওয়ানে দখল হওয়া কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার জমির কী হবে?

কূটনৈতিক স্তরে নানা ভাবে চীনকে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু এত সহজে যে তা হবে না ঘরোয়াভাবে স্বীকার করছেন ভারতের সরকারি কর্তারাই। দু’দিন আগে চীনের সঙ্গে যুগ্মসচিব স্তরে বৈঠকের পরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি, দ্রুত মেটার নয়।

দু’টি বৃহৎ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কার্যত অসম্ভব। সেটা এমনকি চীনেরও লক্ষ্য নয়। চীনের লক্ষ্য, দৌলত বেগ ওল্ডি সড়কের বাকি থাকা ১৮ কিলোমিটার রাস্তা যাতে শেষ না করেই ফিরে যায় ভারত।

কারণ ওই সড়কের সুবাদে কারাকোরাম পাস আর অন্য দিকে আকসাই চীন ভারতীয় সেনার নাগালে আসুক, তা চায় না বেইজিং। ভারতের উপর সেই চাপ বাড়াতেই গালওয়ান উপত্যকা আঁকড়ে পড়ে থাকার নীতি নিয়েছে চীন। জট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা ছাড়া বিকল্প নেই বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আগে থেকে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে মজুদ রয়েছে চীনের সাবমেরিন!

ভারত-চীনের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ নেই। এরইমধ্যে জানা গেছে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে চীনের ০৯৩-শ্যাং নিউক্লিয়ার সাবমেরিন অবস্থান করছে। লাহোরে জে-১১ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানকে সরাসরি চীনা সমরঘাঁটিতে পরিণত করে ফেলেছে চীন। জানা গেছে,পাকিস্তানের তিনটি বিমানবন্দরে চীনের বিমানাবাহিনীর একঝাঁক ফাইটার জেট রাখা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, শতাধিক সেনাও পাকিস্তানে ঘাঁটি তৈরি করেছে বলে খবর। তবে করাচিতে সাবমেরিন রাখার ঘটনা নতুন নয়। ভারতের সঙ্গে চীনের সংঘাত শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২০১৭ সাল থেকে করাচি বন্দরে একটি চীনের সাবমেরিন রাখা হয়েছে। সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে সংঘাতের খবর আসতে চীনের নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের তৎপরতা ধরা পড়েছে বলে খবর।

এদিকে, বিভিন্ন এয়ারবেসেও ভারতীয় বিমান বাহিনীও তৎপরতা বাড়িয়েছে। সেনাবাহিনীতেও একেবারে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমশ সেনা বাড়ানো হচ্ছে বলেও ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গেছে।

সুত্র: বিডি প্রতিদিন

কাশ্মিরে অধিকার পুনর্বহালের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন

অধিকৃত কাশ্মিরবাসীর অধিকার পুনর্বহাল করার জন্য নয়া দিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে ডেমক্রেট দলীয় প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এক বিবৃতিতে তিনি ভারতের নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন (সিএএ) ও আসামে জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) বাস্তবায়ন নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থা দেশটির দীর্ঘ সেক্যুলার ঐতিহ্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বহু-জাতিক ও বহু-ধর্মীয় গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

সম্প্রতি নির্বাচনী ওয়েবসাইটে আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য জো বাইডেনের এজেন্ডাগুলো তুলে ধরা হয়।

আমেরিকান মুসলিমদের ব্যাপারে পলিসি পেপারে বলা হয়, কাশ্মিরের সব অধিবাসীর অধিকার পুনর্বহালের জন্য ভারত সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ভিন্নমত প্রকাশে বাধা, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধাদান বা ইন্টারনেটের গতি কমানো গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।

এতে আরো বলা হয় যে, আসামের এনআরসি বাস্তবায়ন ও সিএএ পাসের পর ভারত সরকারের নেয়া ব্যবস্থাগুলোর ব্যাপারে জো বাইডেন হতাশ।

চীনের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা সমাবেশ করছে পাকিস্তান

চীনের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা সমাবেশ করছে বলে জানাল ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান কোনও অভিযানে নামলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ১৫ নম্বর কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল পি রাজু।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজুর বক্তব্য, ‘‘লাদাখ পরিস্থিতির কোনও প্রভাব এখনও কাশ্মীরে পড়েনি। ১৪ নম্বর কোর সেখানকার পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। অতিরিক্ত বাহিনী কাশ্মীর হয়ে লাদাখ গিয়েছে।

কারণ সেটাই লাদাখ যাওয়ার স্বাভাবিক পথ। তবে পাকিস্তানও সেনা সমাবেশ করছে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘পাকিস্তান সম্প্রতি জানিয়েছিল তারা ভারতের তরফে আক্রমণের আশঙ্কা করছে। হয়তো তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্যই সেনা সমাবেশ করেছে।

আমরা সতর্ক আছি।’’ পাক সংঘর্ষবিরতি ভঙ্গ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ১৫ নম্বর কোরের কমান্ডার বলেন, ‘‘জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটাতেই সংঘর্ষবিরতি ভঙ্গ করে পাকিস্তান। তবে গত বছরের চেয়ে সংঘর্ষবিরতি ভঙ্গের ঘটনা কম।

এর সঙ্গে লাদাখ পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই।’’ জম্মু-কাশ্মীরে সংযুক্ত কমান্ডের বৈঠকে সেনার তরফে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এলাকায় দ্রুত বাঙ্কার তৈরির উপরে জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের অমরনাথ যাত্রা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজু। তাঁর কথায়, ‘‘সংযুক্ত কমান্ডের বৈঠকে উপরাজ্যপালই জানিয়েছেন এ নিয়ে কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই।’’

উপত্যকায় প্রযুক্তিগত নজরদারি ও চরেদের মাধ্যমে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে জঙ্গি-দমন অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজু। তাঁর বক্তব্য, ‘‘স্থানীয় যুবকদের জঙ্গি দলে যোগ দেওয়া রুখতে সব ধরনের চেষ্টা করছি আমরা। জঙ্গি-দমন অভিযানের সময়ে তাদের আত্মসমর্পণ করারও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’’

এ দিনই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কাশ্মীরের কোকেরনাগ, ত্রাল ও খ্রু-তে ২৯ জন বিদেশি জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজি দিলবাগ সিংহের বক্তব্য, ‘‘বিদেশি জঙ্গিরা অনেক বেশি প্রশিক্ষিত।

তবে আমাদের বাহিনী সব ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে সক্ষম।’’ দিলবাগ জানিয়েছেন, দক্ষিণ কাশ্মীরে জঙ্গির সংখ্যা এখনও উত্তর কাশ্মীরের চেয়ে বেশি। তবে উত্তর কাশ্মীরেও জঙ্গি-দমন অভিযান শুরু হয়েছে। সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা