চীন হামলা, করোনা ও আর্থিক সঙ্কটের জন্য বিজেপি সরকার দায়ী: সোনিয়া গান্ধী

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, দেশ একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, বিশাল পরিমাণে মহামারী এবং চীনের সাথে সীমান্ত বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যেক সংকটের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং ভুল নীতিমালা এজন্য দায়ী।

তিনি মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ওই মন্তব্য করেন। সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘করোনা মহামারীর মধ্যে চীনের সাথে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সীমান্ত সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ২০২০ সালের এপ্রিল/মে থেকে এ পর্যন্ত,

চীনা সেনাবাহিনী প্যাংগং তসো লেক অঞ্চল এবং লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় আমাদের সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই সত্যের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ৫ মে অনুপ্রবেশের খবর আসে। সমাধানের পরিবর্তে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে এবং ১৫/১৬ জুন উভয়পক্ষের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ হয়। এরফলে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহীদ হয়েছেন, ৮৫ জন আহত এবং ১০ জন ফিরে না আসা পর্যন্ত নিখোঁজ ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য গোটা দেশকে আহত করেছে যখন উনি বলেছিলেন, লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডে কেউ অনুপ্রবেশ করেনি।’ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে দলীয় মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের ২০ সাহসী সেনার বীরত্ব দেশবাসীকে গর্বিত করেছে। কিন্তু বিজেপি সরকার সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মোদিজি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চীনা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত চীনা সেনা আমাদের ভূখণ্ডে ২ হাজার ২৬৪ বার অনুপ্রবেশ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

বিজেপির কাছে এর কোনও জবাব আছে? বিজেপি কী বলবে যে এটা ঠিক নয়?’বিজেপি সরকারের আমলে জম্মু-কাশ্মীরে ভারত-পাক সীমান্তে গত ৬ বছরে বিগত ৩০ বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি জওয়ান ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলেও রণদীপ সূর্যেওয়ালা মন্তব্য করেন। সুত্র: পার্সটুডে

ভারতে ৫ দিনে ৪০ হাজারেরও বেশি সাইবার অ্যাটাক করেছে চীন!

ভৌগোলিক এলাকাতে তো বটেই, এ বার ভার্চুয়াল জগতেও চীনা হামলার চেষ্টা চলছে। লাদাখে আগ্রাসনের পর মাত্র পাঁচ দিনেই ৪০ হাজারেরও বেশি বার দেশের সাইবার পরিকাঠামো আক্রমণের চেষ্টা করেছে চীনের হ্যাকাররা। এমনটাই জানিয়েছে মহারাষ্ট্রের সাইবার সিকিউরিটি সেল।

শি চিনফিং সরকারের মদতপুষ্ট ওই হ্যাকারেরা সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাইবার হানা শুরু করেছে। তবে মূলত পরিকাঠামো, ব্যাঙ্কিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেই তাদের তৎপরতা বেশি বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্রে সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

‘সাইবার ক্রাইম অ্যাক্টর’ নামে পরিচিত ওই চীনা হ্যাকারদের পাশাপাশি পাকিস্তানের হ্যাকাররাও দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থায় হানাদারির চেষ্টা করছে। মহারাষ্ট্র পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেলের আইজি বৈষ্ণবী যাদব জানিয়েছেন, গত চার-পাঁচ দিনে হঠাৎ করেই দেশের সাইবার জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনা হ্যাকারদের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে।

তাঁর কথায়, “বিশেষ করে পরিকাঠামো, ব্যাঙ্কিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র লক্ষ্য করেই বেশির ভাগ হামলা শুরু হয়েছে। ওই কয়েক দিনে অন্তত ৪০ হাজার ৩০০টি সাইবার অ্যাটাক হয়েছে। এবং চীনের সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী শহর চেংডু থেকেই বেশির ভাগ হানাদারি চলছে।”

ঠিক কী ধরনের সাইবার হানা চলছে? বৈষ্ণবী যাদব বলেন, “এই সাইবার অ্যাটাকগুলোকে তিনটে ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। পরিষেবা দিতে অস্বীকার করা, আইপি হাইজ্যাকিং এবং ফিশিং। মূলত ভারত সরকারের সাইবার পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এই মুহূর্তে আঘাত হানা হচ্ছে।”

মহারাষ্ট্রের সাইবার সেলের আধিকারিকদের মতোই এ নিয়ে সতর্কবার্তা শুনিয়েছেন অ্যান্টি-ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। কুইক হিল সিকিউরিটি ল্যাবের ডিরেক্টর হিমাংশু দুবে বলেন, “গত কয়েক দিনে আমরা দেখছি, বেশ আঁটঘাট বেঁধেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সাইবার হানা চলছে।

ম্যালওয়ারের সাহায্যে চীনের কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল (সিএনসি) সার্ভারের মধ্য়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। যে কম্পিউটার সিস্টেমে টার্গেট করা হচ্ছে. তাতে ক্রিপ্টো মাইনার্স এবং রিমোট অ্যাকসেস টুল (আরএটি) ম্যালওয়ার ঢোকানো হচ্ছে। যাতে ওই কম্পিউটারগুলোর সাহায্যে দূর থেকেই সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে।”

চীনের হ্যাকারদের পাশাপাশি পাক সাইবার হানাদারদেরও প্রচেষ্টা কিছু কম নয় বলে জানিয়েছেন হিমাংশু। গত মার্চ থেকেই পাক হ্যাকারেরা বেশ সচেষ্ট বলে জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের একটি হ্যাকার সংগঠন এপিটি-৩৬ বা ট্রান্সপারেন্ট ট্রাইবও দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থায় ক্রমাগত হানাদারি চালাচ্ছে।

তবে এই দুই হ্যাকার গোষ্ঠীর মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা এখনই স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। হিমাংশু বলেন, “হ্যাকাররা হানিট্র্যাপিংয়ের সাহায্যেও স্পর্শকাতর তথ্য চুরির চেষ্টা করছে।”

এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়? সাধারণ মানুষকে সাইবার সুরক্ষা নিয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন হিমাংশু। তাঁর কথায়, “সকলকেই বলব, সাইবার সিকিউরিটি প্রোটোকল নিয়ে আরও সচেতন হোন।

নিজেদের অনলাইন তথ্যভাণ্ডার রক্ষায় করতে উদ্যোগী হতেও পরামর্শ দেব। বেশ মজবুত ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুন। অন্য দিকে, ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোকে আমার পরামর্শ, সাইবার বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নিজেদের সিকিউরিটি যাচাই করিয়ে নেওয়াটাও জরুরি।” সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

লাদাখে ৪০ সেনা নিহত হওয়ার খবর ভুয়া বলে উড়িয়ে দিল চীন!

সম্প্রতি ভারত-চীন সীমান্তে দু’দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে চীনের ৪০ জন সেনা নিহত হয়েছে বলে নয়া দিল্লি যে দাবি করছে তা অস্বীকার করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের ঘটনায় চীনের কমপক্ষে ৪০ সেনা নিহত হয়েছেন বলে ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক এবং পরিবহন বিষয়ক মন্ত্রী ভিকে সিং যে দাবি করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই।

সম্প্রতি ভারত চীন সীমান্তের লাদাখে গালওয়ান উপত্যকায় দু’দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪০ জন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন ভিকে সিং। তবে সাবেক সেনা প্রধান ভিকে সিং তার বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

গত সোমবার সংঘটিত ওই সংঘর্ষে দুই পক্ষের বহু সেনা হতাহত হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে। ওই ঘটনায় ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৬ ভারতীয় সেনা। তবে চীনের পক্ষ থেকে এই সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।

সূত্র: পার্সটুডে