চীনের হামলা রুখতে যত প্রস্তুতি ভারতের

চীনে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ নিয়ে খবরে ‘খয়রাতি’ শব্দ ব্যবহারে ক্ষমা চাইলো কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার। আজ পত্রিকাটি ভুল স্বীকার করে এ বিবৃতি দেয়। এদিকে, চলমান উত্তেজনা কমাতে সীমান্তে ১১ ঘণ্টা চীনের সঙ্গে বৈঠক করেছে ভারত।

কূটনৈতিক নানা তৎপরতার মধ্যেই সম্ভাব্য হামলা রুখতে লাদাখে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে দেশটি। চীনা পণ্যবিরোধী বিক্ষোভে এখন সরব ভারতের রাজপথ। লাদাখে চীন-ভারত সংঘাতের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই এমন বিক্ষোভ হচ্ছে।

এদিকে চীনা গণমাধ্যমগুলো বলছে, ভারতীয় শিল্পকারখানাগুলো চীনা কাঁচামালনির্ভর হওয়ায় তাদের সহায়তা ছাড়া অচল ভারত।
এদিকে সীমান্তে ১১ ঘণ্টা বৈঠক করেছে প্রতিবেশী দুই দেশ। সেখানে সেনা সরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়াও গালওয়ান উপত্যকার দিকে মুখ করে যেসব নির্মাণকাজ চালাচ্ছে চীন তা বন্ধেরও দাবি জানায় ভারত। বেইজিং- এর সঙ্গে এ সপ্তাহেই আরও একটি কূটনৈতিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নয়াদিল্লি।

উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও আকাশপথে চীনা হামলা রুখতে লাদাখে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারিভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

এদিকে, লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেইজিং শীর্ষক খবরে খয়রাতি শব্দটি ব্যবহারে তোপের মুখে ক্ষমা চেয়েছে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার। খবরে দাবি করা হয়, খয়রাতি টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশে পাশে পাওয়ার চেষ্টা নতুন নয় চীনের। সুত্র: সময় টিভি

ভারত যেন বেইজিংকে পাকিস্তান মনে না করে: হুঁশিয়ারী চীনা মিডিয়ার

লাদাখ অঞ্চলে চীনা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে ছয় সপ্তাহের চেয়ে বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থার মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কৌশলগত বিশেষজ্ঞরা ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, “পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সাথে তারা যে ধরণের আচরণ করে, চীনের সাথে যাতে সেটা করার চেষ্টা তারা না করে”।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমস পরোক্ষভাবে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। মনিটরেন। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে উরি হামলায় সেনা নিহতের ঘটনায় এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ভারত ওই অভিযান চালিয়েছিল।

কিছু বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি ভারতকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, চীনের বিরুদ্ধে এ ধরণের কোন পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করা হলে তার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে।

সাংহাইয়ের ফুডান ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক লিন মিনওয়াংকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি বলেছে, “ভারতে উত্তপ্ত জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু তবে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই যে, এই জাতীয়তাবাদ ভারতের নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলবে”।

আরও পড়ুনঃ ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও প্যাংগংয়ে চীনের শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত

লিন বলেন, “ভারত যখন পাকিস্তান বা অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাথে সঙ্ঘাতে লিপ্ত হয়, তখন জাতীয়তাবাদ হয়তো নয়াদিল্লীকে অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে, কিন্তু চীনের প্রসঙ্গে বিষয়টি ভিন্ন”।

সংবাদপত্রটিতে বেইজিং-ভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ ওয়েই ডোংশুকেও উদ্ধৃত করা হয়েছে, যিনি শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলেছেন যে, “ভারতীয় বাহিনী যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটা দেশের জনগণকে তুষ্ট করা এবং ভারতীয় সেনাদের মনোবল শক্ত করার জন্য বলা হয়েছে’।

১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সঙ্ঘটিত সঙ্ঘর্ষের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই সঙ্ঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছে। ওই ঘটনায় চীনা হতাহতের সংখ্যা জানা যায়নি।

ওয়েই বলেন: শুধু সামরিক দিক থেকে নয়, বরং সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিক থেকে চীন ভারতের চেয়ে অনেক অগ্রসর জায়গায় রয়েছে”।

সংবাদের শিরোনাম ছিল যথেষ্ট উসকানিদায়ক। এতে বলা হয়েছে, “ভারত জানে যে, চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না তারা”।

চীনা বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানের সাথে তুলনা করার চেষ্টা করেছেন, যে দেশটি এরই মধ্যে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধিতে লিপ্ত রয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকায় গোলাগুলির মাত্রা বাড়িয়ে যাচ্ছে, যার কারণে সেনা ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে এবং ভারত তাদেরকে উপযুক্ত জবাবও দিচ্ছে।

করোনার কথা ভুলে চীনে আবারও কুকুর খাওয়ার উৎসব!

করোনার কারণে বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয়েছে চীনের বন্যপ্রাণীদের বাজার। শুধু তাই নয় শুরু হয়েছে কুকুরের মাংস খাওয়ার বার্ষিক উৎসবও।

চীনের ইউলিনে ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনের এই উৎসবে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।

চলে দেদার কুকুর কেনাবেচা ও কুকুরের মাংস খাওয়া। আয়োজকদের ধারণা এবছর লোক সমাগম কম হবে।

তবে চীনা প্রশাসন যেভাবে কুকুর রক্ষা করতে উদ্যোগী হচ্ছে তাতে পশুপ্রেমীরা বলছেন আশা করা যায় এটাই শেষ উৎসব।

একজন পশুপ্রেমী পিটার লি জানিয়েছেন তিনি আশা রখেন শুধুমাত্র প্রাণীদের কথা ভেবে না হলেও নিজেদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই অবস্থা বদলাবে।

করোনাভাইরাস বন্যপ্রাণীদের মাধ্যমে চীনের উহান বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে ধরা হয়।

এপ্রিল মাসে সেনজেন চীনের প্রথম শহর হিসেবে কুকুর খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
কৃষি মন্ত্রণালয় কুকুরকে পোষ্য প্রাণী হিসেবে দেখতে চাইছে। কিন্তু কীভাবে ইউলিনের বাজারে পরিবর্তন আনা যায় তা পরিষ্কার নয়।

সূত্র- সাউথ চায়না মনিটরিং পোস্ট

আরো পড়ুন: আল্লাহ যেন করোনাভাইরাস থেকে আমাদের মুক্তি দেন: প্রধানমন্ত্রী

দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবন চলতে থাকবে, জীবন স্থবির থাকতে পারে না। তারপরেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশবাসীর কাছে এটুক বলব, আসুন সকলে মিলে দোয়া করি আল্লাহ যেন এই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি দেন। রোববার (২১ জুন) গণভবন একনেক বৈঠকে অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের উন্নয়নে একটা ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যতটুক সম্ভব উন্নয়নের গতিটা ধরে রাখতে।’ তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশ বলে না বিশ্বব্যাপী সমস্যা।

মানুষ যেন করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সেটিই আমরা চাই। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এরইমধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যসহ অনেককে হারিয়েছি।

আরো পড়ুন: আরও ভয়ংকর ভাইরাসের সম্ভাবনা, ২ দিনেই ৮ কোটি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা!

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন মারা গেছেন ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি মানুষ।

কিন্তু গবেষকদের তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসের চেয়ে ভয়ংকর একাধিক মারণ ভাইরাস রয়েছে পৃথিবীতে। যা খুব সহযেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালে এমন একটি মহামারি দেখা দিয়েছিল। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণে তখন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। শক্তিশালী এসব ভাইরাস বর্তমান সময়ে ছড়িয়ে পড়লে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সারা বিশ্বে পৌঁছে যাবে এবং প্রায় ৮ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক এক প্রধান এ আশঙ্কা করেছিলেন বেশ কয়েক মাস আগে। তার সতর্ক বার্তা নিয়ে দ্য গ্লোবাল প্রিপেয়ার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড (জিপিএমবি) এর ‘এ্যা ওয়ার্ল্ড এট রিক্স’ শিরোনামে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জিপিএমবি তাদের এ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছিল, জিপিএমপির গবেষকরা বলছেন, আলোচিত ইবোলা, জিকা বা ডেঙ্গুর মতো করেই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এজন্য বিশ্বনেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এমন মহামারি প্রতিরোধে সব প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই গবেষণা রিপোর্টে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রধান ও নরওয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আল হাদ আজ সি এর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। তিনি বর্তমানে জিপিএমবি এর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ২০১৬ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয় অজানা রোগে। ওই এলাকার আরও প্রায় ১১৫ জন অল্প সময়ের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানা যায়, তারা সবাই একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। যার নাম ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস বা অ্যান্থ্রাক্স।

বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে বের করেন, ১৯৪১ সালে একটি বলগা হরিণ মারা গিয়েছিল। ৭৫ বছর আগে মারা যাওয়া ওই হরিণটি থেকে রোগটি ছড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিক উষ্ণ হওয়ায় সেখানকার বরফায়িত মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে বেরিয়ে এসেছিল সেই অ্যান্থ্রাক্স।

২০১৫ সালে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা তিব্বতে গলিত তুষারের স্রোত থেকে ২৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস খুঁজে পান। বায়োরিভ নামে একটি ওয়েবসাইটে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, গবেষকরা ১৬৪ ফুট গর্ত খুঁড়ে ১৫শ’ বছরের পুরনো গ্লাসিয়ার থেকে দুটি নমুনা সংগ্রহ করেন।

পরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে তারা মোট ৩৩ ধরনের ভাইরাসের সন্ধান পান। যার মধ্যে ২৮টি ভাইরাসই আগে কখনো কেউ খুঁজে পাননি। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত গলছে তিব্বত থেকে শুরু করে মেরু অঞ্চলসহ উত্তর গোলার্ধের তুন্দ্রা, সাইবেরিয়া আলাস্কা এবং গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের বরফ।

ভয়ের কথা হলো, গবেষণায় বেরিয়ে আসছে, এসব বরফের স্তরে স্তরে এখনো টিকে আছে আদিম সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ জীবাণু। যার বেশিরভাগই আধুনিক যুগের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ওইসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত নয়।

ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং গবেষণা চলছে। এখন নিশ্চিতভাবেই তা আরো বেড়েছে। এরই মধ্যে তারা অনেক ভয়ঙ্কর ভাইরাসের অস্তিত্বের খোঁজ পেয়েছেন।

সেগুলো সুবিধাজনক পরিবেশ পেলে অর্থাৎ উষ্ণতা আরেকটু বাড়লে প্রকৃতিতে ছড়াতে শুরু করবে। এসব ভাইরাস মহামারী ছড়াতে সক্ষম। ফ্রান্সের এআইএক্স মার্সেই ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. জন মাইকেল ক্ল্যাভেরিয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান,

আমরা প্রথমবারের চেষ্টাতেই ত্রিশ হাজার বছরের পুরনো সুপারভাইরাসকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছি। সেটা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যামিবাকে সংক্রমিত করতে পেরেছে। কিন্তু পারমাফ্রস্টের মধ্যে আরো কি কি ধরনের জীবাণু লুকিয়ে আছে তা আসলে আমরা জানি না। এটা অনুমান করাও সম্ভব না।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) মহামারি নিয়ে একটি গবেষণা প্রোগ্রাম শুরু করে ‘প্রেডিক্ট’ নামে। এটির কাজ ছিল জুনটিক (যেসব ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে ছড়াতে পারে) ভাইরাস শনাক্ত করা যেগুলো মানব সমাজে মহামারি ঘটাতে সক্ষম এবং বিশ্বকে এই ধরনের ভাইরাস মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা।

এর গবেষকরা দেখেছেন, ২১ শতকের শুরুর দিকে যতগুলো নতুন ভাইরাস কিংবা নতুন করে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া ভাইরাস তার ৭৫ শতাংশই অন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। ‘প্রেডিক্ট’ ১ হাজার ১০০টি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস আবিষ্কার করে।