চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে বিপাকে দিল্লি!

চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে এখন বিপদে পড়েছে ভারত। বিকল্প ব্যবস্থা না করে আবেগের বশে উদ্যোগ নেয়ায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের দাম।

সীমান্ত উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে চীনা পণ্য নির্ভরতা কমাতে তৎপরতা শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারও। এদিকে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা তিনটি প্রকল্প স্থগিত করেছে ভারতের মহারাষ্ট্র সরকার।

প্রকল্পগুলোর সমন্বিত ব্যয় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি রুপি। মহারাষ্ট্রের শিল্পমন্ত্রী সুভাষ দেশাই জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন করে আর কোনো চুক্তি না করার নির্দেশ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এনডিটিভির। ভারত তার প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ৭০ শতাংশই চীন থেকে আমদানি করে থাকে।

লাদাখে চীনের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের দাবি উঠেছে। কিন্তু বাস্তবে তা কতখানি সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই চীন থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও চীন থেকে যেসব পণ্য আমদানি করা হয় ব্যবসায়ীদের কাছে তার তালিকা চাওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে সেগুলো ভারতে উৎপাদিত হলে দাম কত দাঁড়ায়, উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত কী কী অসুবিধা তাও শিল্প উদ্যোক্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

সরকার মনে করছে, এর ফলে চীন থেকে নিুমানের বহু পণ্যের আমদানি কমানো যাবে। একইভাবে দেশে উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণও বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিকেই আরও চাঙ্গা করবে।

কিন্তু সরকারের এই প্রাথমিক তৎপরতার মধ্যেই এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে বাজারে। ইতোমধ্যে দেশটির ওষুধ শিল্প ও এর বাজার উত্তাল হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উত্তরাখণ্ডে শতাধিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার প্রধান কার্যালয় রয়েছে।

সেখানকার এক শীর্ষ ওষুধ উৎপাদক সংস্থার কর্ণধার জানিয়েছেন, গালওয়ান উপত্যকার ঘটনায় চীন বয়কটের ডাক ওঠার জেরে ওষুধের কাঁচামাল সরবরাহকারী সংস্থাগুলো রাতারাতি ৩০ শতাংশ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির দোহাই দিলেও মূলত অনৈতিক উপায়ে লাভবান হওয়ার জন্যই এগুলো করা হচ্ছে বলে মত এ ব্যবসায়ীর।

ভারত ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ৮০ শতাংশই আমদানি করে চীন থেকে। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে তা কিনতে গেলে দ্বিগুণ দাম দিতে হয়। হরিদ্বারের এক ওষুধ উৎপাদক সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, চীন থেকেই ভারতে তৈরি বেশির ভাগ ওষুধের উপাদান জোগাড় করা হয়।

এমনকি সাধারণ প্যারাসিটামল তৈরি করতে গেলেও চীনা কাঁচামালের ওপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় নেই। তাই ভারতের জন্য চীনা পণ্য পুরোপুরি বয়কট এক প্রকার অসম্ভব।

ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৪ শতাংশ এখন চীনের দখলে রয়েছে। তার মধ্যে মোবাইল ফোন, টেলিকম, শক্তি ক্ষেত্র, প্লাস্টিকের খেলনা এবং ওষুধের কাঁচামালের জন্যই চিনের ওপরে বেশি নির্ভরশীল ভারত।

চীন থেকে যে পণ্য এবং কাঁচামাল বা সরঞ্জাম আমদানি করতে হয়, সেগুলো নিয়ে শিল্পমহলের মতামত এবং পরামর্শ চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সেই তালিকায় রয়েছে হাত এবং দেয়াল ঘড়ি, ইনজেকশনের অ্যাম্পুল, কাচের রড এবং টিউব, হেয়ার ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেস পাউডার, চোখ এবং ঠোঁটের মেক আপের জিনিস, প্রিন্টিং কালি, রং, তামাকজাত পণ্যের মতো জিনিসও।

সরকারি তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে চীনা আগ্রাসনের প্রতিবাদে ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে একাধিক ব্যবসায়ী সমিতি।

খেলনা, ফার্নিশিং ফ্যাব্রিক, টেক্সটাইল, বিল্ডার হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে ফুটওয়্যার, গার্মেন্টস, রান্নাঘরের জিনিস, লাগেজ, হ্যান্ড ব্যাগ, কসমেটিক্স, গিফট, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র, ঘড়ি, রত্ন ও গয়না, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পণ্য (হেলথ প্রোডাক্ট), মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ, দিওয়ালি ও হোলির জিনিসসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রায় তিন হাজার পণ্যের তালিকা তৈরি করেছে ব্যবসায়িক সংগঠন ‘দ্য কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স’ (সিএআইটি)।

লক্ষ্য, ২০২১ সালের মধ্যে এ ধরনের পণ্য সামগ্রীর ঘরোয়া উৎপাদনের পরিকাঠামো প্রস্তুত এবং আমদানি খাত থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার অঙ্কটি ছেঁটে ফেলা। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে চীন থেকে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে ভারত।

তবে বণিকসভার ‘চীন বর্জন’ পদক্ষেপের সঙ্গে মোদি সরকারের ‘আত্মনির্ভর’ প্রকল্পও যদি মিলিয়ে দেয়া যায়, তাহলেও মাত্র ৩০% চীনা পণ্যের আমদানি বন্ধ করা সম্ভব। সুত্র: সময় টিভি

‘খয়রাতি’ বলায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল ভারতীয় মিডিয়া!

ভারত-চীন উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশকে দেয়া চীনের শুল্কমুক্ত সুবিধাকে ‘খয়রাতি’ শব্দ ব্যবহার করে ভারতীয় সংবামাধ্যমগুলো যে সমালোচনার মুখে পড়েছিল; সেই ঘটনায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংবাদমাধ্যমটির প্রিন্ট ভার্সনে চতুর্থ পৃষ্ঠায় এ ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।

‘ভ্রম সংশোধন’ শিরোনামে ক্ষমা প্রার্থনা করে সংবাদমাধ্যমটি লেখে, ‘লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং’ শীর্ষক খবরে (২০-৬, পৃ ৮) খয়রাতি শব্দের ব্যবহারে অনেক পাঠক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৯ জুন জানায়, চীনের বাজারে আরও পাঁচ হাজার ১৬১টি পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে দেশটিতে মোট শুল্কমুক্ত পণ্যের সংখ্যা দাঁড়াল আট হাজার ২৫৬টি।

এর ফলে চীনে বাংলাদেশের মোট রফতানি পণ্যের ৯৭ শতাংশই শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় এলো। এরপরই ওই শব্দ ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করে আনন্দবাজারসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম। সুত্র: সময় টিভি

যারা সৌদিতে বসবাস করেন কেবল তারাই এবার হজে অংশ নিতে পারবেন

করোনাভাইরাসের এ মহামারিতে পবিত্র হজ সীমিত আকারে আয়োজন করবে সৌদি সরকার। কেবল সৌদি আরবে বসবাসকারীরাই এবার হজে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

সোমবার এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় দেশটিতে বসবাসকারীদের নিয়ে সীমিত পরিসরে হজের আয়োজনের খবর দিয়েছে।

ঘোষণায় বলা হয়, বিভিন্ন দেশের মুসলিম যারা বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে সীমিত সংখ্যক হাজিদের নিয়েই এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক বের হয়নি। এই অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হাজিদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সে জন্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: আল্লাহ যেন করোনাভাইরাস থেকে আমাদের মুক্তি দেন: প্রধানমন্ত্রী

দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবন চলতে থাকবে, জীবন স্থবির থাকতে পারে না। তারপরেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশবাসীর কাছে এটুক বলব, আসুন সকলে মিলে দোয়া করি আল্লাহ যেন এই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি দেন। রোববার (২১ জুন) গণভবন একনেক বৈঠকে অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের উন্নয়নে একটা ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যতটুক সম্ভব উন্নয়নের গতিটা ধরে রাখতে।’ তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশ বলে না বিশ্বব্যাপী সমস্যা।

মানুষ যেন করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সেটিই আমরা চাই। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এরইমধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যসহ অনেককে হারিয়েছি।

আরো পড়ুন: আরও ভয়ংকর ভাইরাসের সম্ভাবনা, ২ দিনেই ৮ কোটি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা!

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন মারা গেছেন ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি মানুষ।

কিন্তু গবেষকদের তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসের চেয়ে ভয়ংকর একাধিক মারণ ভাইরাস রয়েছে পৃথিবীতে। যা খুব সহযেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালে এমন একটি মহামারি দেখা দিয়েছিল। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণে তখন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। শক্তিশালী এসব ভাইরাস বর্তমান সময়ে ছড়িয়ে পড়লে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সারা বিশ্বে পৌঁছে যাবে এবং প্রায় ৮ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক এক প্রধান এ আশঙ্কা করেছিলেন বেশ কয়েক মাস আগে। তার সতর্ক বার্তা নিয়ে দ্য গ্লোবাল প্রিপেয়ার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড (জিপিএমবি) এর ‘এ্যা ওয়ার্ল্ড এট রিক্স’ শিরোনামে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জিপিএমবি তাদের এ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছিল, জিপিএমপির গবেষকরা বলছেন, আলোচিত ইবোলা, জিকা বা ডেঙ্গুর মতো করেই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এজন্য বিশ্বনেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এমন মহামারি প্রতিরোধে সব প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই গবেষণা রিপোর্টে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রধান ও নরওয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আল হাদ আজ সি এর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। তিনি বর্তমানে জিপিএমবি এর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ২০১৬ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয় অজানা রোগে। ওই এলাকার আরও প্রায় ১১৫ জন অল্প সময়ের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানা যায়, তারা সবাই একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। যার নাম ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস বা অ্যান্থ্রাক্স।

বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে বের করেন, ১৯৪১ সালে একটি বলগা হরিণ মারা গিয়েছিল। ৭৫ বছর আগে মারা যাওয়া ওই হরিণটি থেকে রোগটি ছড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিক উষ্ণ হওয়ায় সেখানকার বরফায়িত মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে বেরিয়ে এসেছিল সেই অ্যান্থ্রাক্স।

২০১৫ সালে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা তিব্বতে গলিত তুষারের স্রোত থেকে ২৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস খুঁজে পান। বায়োরিভ নামে একটি ওয়েবসাইটে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, গবেষকরা ১৬৪ ফুট গর্ত খুঁড়ে ১৫শ’ বছরের পুরনো গ্লাসিয়ার থেকে দুটি নমুনা সংগ্রহ করেন।

পরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে তারা মোট ৩৩ ধরনের ভাইরাসের সন্ধান পান। যার মধ্যে ২৮টি ভাইরাসই আগে কখনো কেউ খুঁজে পাননি। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত গলছে তিব্বত থেকে শুরু করে মেরু অঞ্চলসহ উত্তর গোলার্ধের তুন্দ্রা, সাইবেরিয়া আলাস্কা এবং গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের বরফ।

ভয়ের কথা হলো, গবেষণায় বেরিয়ে আসছে, এসব বরফের স্তরে স্তরে এখনো টিকে আছে আদিম সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ জীবাণু। যার বেশিরভাগই আধুনিক যুগের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ওইসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত নয়।

ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং গবেষণা চলছে। এখন নিশ্চিতভাবেই তা আরো বেড়েছে। এরই মধ্যে তারা অনেক ভয়ঙ্কর ভাইরাসের অস্তিত্বের খোঁজ পেয়েছেন।

সেগুলো সুবিধাজনক পরিবেশ পেলে অর্থাৎ উষ্ণতা আরেকটু বাড়লে প্রকৃতিতে ছড়াতে শুরু করবে। এসব ভাইরাস মহামারী ছড়াতে সক্ষম। ফ্রান্সের এআইএক্স মার্সেই ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. জন মাইকেল ক্ল্যাভেরিয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান,

আমরা প্রথমবারের চেষ্টাতেই ত্রিশ হাজার বছরের পুরনো সুপারভাইরাসকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছি। সেটা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যামিবাকে সংক্রমিত করতে পেরেছে। কিন্তু পারমাফ্রস্টের মধ্যে আরো কি কি ধরনের জীবাণু লুকিয়ে আছে তা আসলে আমরা জানি না। এটা অনুমান করাও সম্ভব না।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) মহামারি নিয়ে একটি গবেষণা প্রোগ্রাম শুরু করে ‘প্রেডিক্ট’ নামে। এটির কাজ ছিল জুনটিক (যেসব ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে ছড়াতে পারে) ভাইরাস শনাক্ত করা যেগুলো মানব সমাজে মহামারি ঘটাতে সক্ষম এবং বিশ্বকে এই ধরনের ভাইরাস মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা।

এর গবেষকরা দেখেছেন, ২১ শতকের শুরুর দিকে যতগুলো নতুন ভাইরাস কিংবা নতুন করে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া ভাইরাস তার ৭৫ শতাংশই অন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। ‘প্রেডিক্ট’ ১ হাজার ১০০টি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস আবিষ্কার করে।