ভারতের আসাম রাজ্যে মাদরাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্র বন্ধ করে দিচ্ছে সরকার

ভারতের আসাম রাজ্য সরকার সেখানকার সরকারি মাদরাসা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্য এ প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ স্কুলে পরিণত হবে। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপির সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার রয়েছে, তাই সরকারি মাদরাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ, সংস্কৃত ও আরবির মতো ভাষা শিশুদের শেখানো কোনো ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কাজ নয়।

আসামে কোনো স্বতন্ত্র বোর্ড ছাড়া প্রায় ১ হাজার ২০০ মাদরাসা ও ২০০ সংস্কৃত কেন্দ্র চলছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সমমানের সনদ পায় বলে অনেক সমস্যার তৈরি হয়। এ জন্য আমরা এসব মাদরাসা ও সংস্কৃত কেন্দ্রকে সাধারণ বিদ্যালয় করছি।

আসামে দুই হাজার বেসরকারি মাদরাসা আছে। সেগুলোকেও নিয়মকানুনের আওতায় আনা হচ্ছে বলেও জানান রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। সরকারি মাদরাসা বন্ধে বিজেপি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করছেন অনেকেই মুসলিমবিদ্বেষী মানসিকতা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

আসাম সংখ্যালঘু ছাত্র ইউনিয়ন বা আমসুর প্রধান রেজাউল করিম সরকার বলেন, তিনি মুখে যতই বলুন না কেন যে কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি, তবে মি. বিশ্বশর্মার টার্গেট হচ্ছে মুসলমানরা।

রাজ্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, আসামের মাদরাসা শিক্ষা আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক হিসাবে। এমনকি পাকিস্তানে মাদ্রাসাগুলিতে যেভাবে কট্টর ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হয়, তাদেরও আসামের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শেখা উচিত।

বোর্ড আরো লিখেছে, ২০০৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শিক্ষার উঁচু মানের কারণে অ-মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা বড় সংখ্যায় মাদ্রাসায় পড়তে আসছে। ২০১৭ সালে মাদরাসার পাশাপাশি সংস্কৃত কেন্দ্র বোর্ডকে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল।

এবার তা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। অনেক দিন ধরে চলা ধর্মীয় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, ১৭৮০ সালে আসামে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল।

করোনাভাইরাসে হঠাৎ মৃত্যুর মিছিল: ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ২৪২ জনের

হঠাৎ করেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪২ জন। মারা যাওয়া ওই ২৪২ জনের সবাই হুবেইপ্রদেশের। এই ভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন এক হাজার ৩৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাইরে হংকং ও ফিলিপাইনে একজন করে মোট দুজন মারা গেছেন। খবর বিবিসির।

এ ভাইরাসে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৩৯ জন এবং চীনের বাইরে ৫২৪ জন। সব মিলিয়ে পুরো বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার ৬৮০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, বুধবার ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪০ জন।

এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৫৯ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫০০ জনের অবস্থা ভয়াবহ বলে জানানো হয়েছে। পর্যবেক্ষণে রয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার মানুষ। হুবেইপ্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদেশটিতে নতুন করে ১৪ হাজার ৮৪০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এ নিয়ে হুবেইপ্রদেশে মারা গেছে এক হাজার ৩১০ জন, আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ২০৬ জন। হুবেইপ্রদেশের রাজধানী উহানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৮৪০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানকার একটি সামুদ্রিক খাদ্য ও মাংসের বাজার থেকে করোনাভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে না যায়, সে জন্য চীন হুবেইপ্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ওই অঞ্চলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে চীনসহ বাইরের বিশ্বের।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ আক্রান্তের খবর আসছে, তাতে আক্রান্তের আসল খবর জানা যাচ্ছে না।

কারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, শুধু তাদের হিসাব পরিসংখ্যানে ধরা হচ্ছে। তাই এর প্রকৃত হিসাব বের করা বা জানা খুবই কঠিন ব্যাপার, যা আরেকটি আশঙ্কার কারণ।

চীনের সব প্রদেশসহ বিশ্বের ২৬ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ৫২৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।