মহিমান্বিত মাস মাহে রমজানের আগমনে মক্কা-মদিনায় যত প্রস্তুতি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিকে তারাবির নামাজ আদায় করার উপযোগী, সুন্দর, পরিপাটি ও সুগোছালো করে সাজানোর জন্য হারামাইন শরিফাইন কমিটিকে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের সরকারী সংবাদ সংস্থা ‘এস পি এ’ জানিয়েছে, মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে শুধু রমজান উপলক্ষে অন্যান্য শাখা থেকে বাছাই করে আলাদাভাবে দশ হাজার পুরুষ ও মহিলা কর্মীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তাদেরকে প্রতিদিন মসজিদ, টয়লেট, ওজুখানা, বাইরের মাঠসহ ও মসজিদ সীমানার অন্তর্ভূক্ত জায়গাকে যত্মসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ও ঝাড়ু-মোছার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

হারামাইন শরিফাইন পরিচালনা কমিটির সভাপতি শায়খ আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজীজ আস সুদাইস বলেন, মসজিদ পরিস্কার প্রকল্পটি বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন বিভাগ, শিক্ষা, কারিগরী ও সামাজিক বিভাগকে এ বিষয়গুলোতে রমজান মাসে বিশেষ মনোযোগ দিবে আমাদের সরকার।

মসজিদ পরিস্কারে অত্যাধুনিক স্পিড গাড়ী ও মানব শ্রমিক রাখা হয়েছে। তারা বিশেষ প্রক্রিয়ায় এ কাজ আঞ্জাম দিবে। মসজিদুল হারামে ২৮ টি বৈদ্যুতিক ইউনিট ২৪ ঘন্টা কাজ করবে।

একইভাবে মসজিদে নববিতেও মুসুল্লিদের সুবিধার্থে চারটি পৃথক বৈদ্যুতিক ইউনিট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অক্ষম লোকদের মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩৮ টি পৃথক রাস্তা ও মহিলাদের প্রবেশের জন্য সাতটি পৃথক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া পবিত্র রমজানে মসজিদ পরিচালনা কমিটি কর্তৃক কুরআন শরিফ, বিভিন্ন ভাষার ধর্মীয় বই ও জুমআর খুতবার অনুবাদ বিতরণ ও আল্লাহর মেহমানদেরকে নিজ নিজ ভাষায় হেদায়াতি বয়ান পেশ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উভয় মসজিদে নিরবাচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এস পি এ আরো জানিয়েছে, হারামাইন শরিফাইন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এ বছরের সিদ্ধান্তসমূহের মধ্যে রয়েছে,

হজ ও উমরা পালন করতে আসা লোকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্বিঘ্ন ইবাদাত পালনের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর আল্লাহ মেহমানদের যথাযথ সুবিধা প্রদান করা হবে।

সুত্র: আওয়ার ইসলাম

আরো পড়ুন: নাইজেরিয়ায় গভর্নরের স্ত্রী খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহন

নাইজেরিয়ার ওগান রাজ্যের গভর্নর ইবিখুনলের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি ওলুফানসো আমুসোন তার খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।

সিনেটর আমুসোন ২০১১ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হন। পরে একই বছরের মে মাসে রাজ্যের চতুর্থ নির্বাচিত গভর্নর হিসেবে শপথ নেন। নাইজেরিয়ার ‘অ্যাকশন কংগ্রেসের’ হয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ওলুফানসো বলেন, ‘প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আমি আমার মাকে এ সিদ্ধান্ত জানাই। তাকে বলি, ‘আমি একজন মুসলিমকে বিয়ে করতে চাই’। এটা শুনে প্রথমেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন,

কেন তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: এ সম্পর্কে সম্প্রতি নাইজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যানগার্ড’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে গভর্নর-পত্নী স্পষ্ট করেছেন কেন একজন একনিষ্ঠ খ্রিস্টান থেকেও তিনি একজন মুসলিমকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

‘আমি বিষয়টি আমার বাবাকে বলেছি কিনা’ এবং আমি তাকে বললাম ‘না’ এবং এতে আমি তার মাঝে ‘দুষ্ট হাসি’ দেখতে পাই।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজকে আমার মা এবং আমার স্বামী আমাকে তাদের ভাল বন্ধুর চেয়েও বেশি পছন্দ করেন।’

ওলুফানসো আরো বলেন, ‘যখন আমি আমার বাবাকে এ বিষয়ে বলেছিলাম, তখন তিনি বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, আমাদের শুধু এই সম্পর্কে প্রার্থনা করতে হবে। কিন্তু যেকোনো ভাবেই হোক, পরে তারা আমাকে খুব আঘাত করে। আমার স্বামী আল্লাহকে বিশ্বাস করেন। আমি বলব, আমার স্বামী আমার চেয়েও বেশি ধার্মিক।’

‘তিনি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর একজন মুমিন বান্দা। আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের বলেই তিনি মনে করেন ‘সবকিছুই সম্ভব’ এবং যখন আপনি কাউকে অধিক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে দেখবেন তখন আপনাকে তার বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে এটা দেখতে হবে; আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে নয়।

আল্লাহকে বলতে হবে, ‘আমি তোমার উপর ঈমান এনেছি’ এবং তাকে (আল্লাহ) স্পষ্ট বুঝার জন্য আপনাকে বার বার চেষ্টা করতে হবে।’ তিনি বলছিলেন।

তিনি বলেন, ‘স্বামীর বিশ্বাস থেকেই আমার বিশ্বাস শুরু হয়েছে। তার ইসলামের বিশ্বাসের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে এবং তার বিশ্বাসের প্রতি আমার বিশ্বাস স্থাপন সহজ করে দিয়েছে যে জিনিসিটি সেটি হচ্ছে আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা।

তার এই দৃঢ় একাগ্রতার কল্যাণে মহান আল্লাহ তাকে কখনো ব্যর্থ করেনি এবং আমি জানি যে, আমার স্বামী আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুতে বিশ্বাস করে না।’ যা হোক, তার স্বামীর পক্ষ থেকে তাকে ইসলামে ধর্মান্তরের ব্যাপারে ইচ্ছাকৃত কোনো প্রয়াস ছিল না বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি মুসলিম রীতিতে প্রার্থনা করি কারণ আমাদের মধ্যে বন্ধনটা অত্যন্ত দৃঢ়। আমি আমার সন্তানদের যখন বলব, ‘প্রার্থনা করার সময় হয়েছে’। ওই সময় আমি যদি ভিন্ন উপায়ে প্রার্থনা করি তখন বাচ্চারা বলবে, ‘মা আপনি আমাদের সঙ্গে প্রার্থনা করেন না কেন? তাহলে বাবার প্রভু কি ভাল প্রভু নন?’