কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় গোষ্ঠী হবে মুসলিমরা

দ্য ফিউচার অব ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়াস শীর্ষক এক গবেষণা থেকে জানা যায়, বর্তমান বিশ্ব জনসংখ্যা অনুসারে ২৩.২ ভাগ মানুষ মুসলিম এবং ৩১.৪ ভাগ মানুষ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

আর মাত্র ৫১ বছর, বর্তমানে বিশ্ব জনসংখ্যার হিসেবে মুসলিমদের থেকে খ্রিস্টান ধর্মীও গোষ্ঠী এগিয়ে থাকলেও ২০৭০ সালের মধ্যে বিশ্বে মুসলিমদের সংখ্যা খ্রিস্টানদের থেকে বেশি হবে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্ব জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৩৫ শতাংশ রয়েছে এমন হিসেব করে গবেষণা পত্রটিতে দেখানো হয়েছে। সেই হিসেব অনুসারে প্রতি বছর এমনিতেই ৩৫ শতাংশ প্রতিটি ধর্মীও গোষ্ঠীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া উচিত।

কিন্তু ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতি বছর ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ৭৩ শতাংশের বেশি। সেখানে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ৩৫ ভাগ।

এই গবেষণায় আরো জানানো হয়েছে, যেহেতু ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সুতরাং এর একটি ইতিবাচক প্রভাব থাকবে ধর্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে।

ফলে এই ধর্ম গ্রহণের পরিমাণ আরো অনেক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আর সেটা যদি হয় তাহলে হয়ত ২০৭০ সালের আগেই বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীও গোষ্ঠীর খেতাব পেয়ে যাবে মুসলিমরা।

গবেষণাকারীর এই হিসেব অনুসারে ২০৭০ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যার ৩২ ভাগ হবে মুসলিম এবং সমান সংখ্যক হবে খ্রিস্টানদের সংখ্যা।

আরো পড়ুন: লন্ডনের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ইউরোপের প্রথম ইকো মসজিদ; অর্থায়নে তুরস্ক

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। গত ২৪ এপ্রিল মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়।

লন্ডনের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রোমসির মিল রোডে নির্মিত হল ইউরোপের প্রথম পরিবেশ বান্ধব ইকো মসজিদ।

সবুজ সমারোহের আদলে কাঠ ও ইট ও টাইলসের ব্যবহারে তৈরি করা হয়েছে এক গম্বুজ বিশিষ্ট পরিবেশ বান্ধব ক্যামব্রিজ ইকো মসজিদ। এই মসজিদে একসঙ্গে ১ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। এছাড়া জনকল্যাণমূলক নানা সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে এ মসজিদে।

স্থানীয় মুসলিম ও অমুসলিমদের সেমিনার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। বড় আকারে করা হয়েছে লাশ রাখার স্থানটি।

ইউরোপের প্রথম ইকো মসজিদ নির্মাণে এগিয়ে আসেন ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ার কয়েকটি দেশ। ২০০৮ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের লেকচারার ড. টিমোথি উইন্টার এই মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন এবং তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন।

তবে তুরস্ক মসজিদটি নির্মাণে মোট খরচের প্রায় দুই তৃতীংশ খরচ বহন করেছে বলে জানিয়েছে অ্যারাবিয়ান বিজনেস ডট কম। ২০০৯ সালে ক্যামব্রিজের মিল রোডে ৪ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে ১ একর জমি কেনা হয়।

মসজিদের নকশা তৈরিতে লন্ডনের প্রখ্যাত ইকো আর্কিটেকটারার মার্ক বারফিল্ডকে নিয়োগ দেয়া হয়। মসজিদ চত্বরের সৌন্দর্য বর্ধনে অলংকরণে কাজ করেন বিখ্যাত শিল্পী ইম্মা ক্লার্ক। এসব নকশা ২০১২ সালে মসজিদ কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত হয়।