নতুন বিজয়ের ঘোষণা দিয়ে আজারবাইজানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

আজারবাইজানের ২৯তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে দেশটি।

ইতোমধ্যে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ আর্মেনিয় দখল থেকে জাবরাইল, ফুজুলি এবং হদ্রুত শহরের পাশাপাশি ৫০টিরও বেশি গ্রাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রতিবেশি আর্মেনিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই দেশটি দুঃখ আর গর্বের সাথে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে।

প্রথমবার ১৯১৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও তা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেনি। ১৯১৭ সালে রুশ জারতন্ত্রের পতনের পর গৃহযুদ্ধকালীন সময়ে ১৯১৮ সালের ২৮ মে তৎকালীন আজারবাইজানের উত্তর অংশটি একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কিন্তু মাত্র ২ বছরের মাথায় ১৯২০ সালে বলশেভিক লাল সেনারা এটি আক্রমণ করে আবার রুশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়।

১৯২২ সালে দেশটি আন্তঃককেশীয় সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অংশ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৩৬ সালে আন্তঃককেশীয় সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রটি ভেঙে তিনটি আলাদা প্রজাতন্ত্র আজারবাইজান, জর্জিয়া ও আর্মেনিয়াতে ভেঙে দেওয়া হয়। তখন থেকেই আজারবাইজানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং নাগোর্নো-কারাবাখ এলাকার খ্রিস্টান আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।

নাগোর্নো-কারাবাখের জনগণ আর্মেনিয়ার সাথে একত্রিত হতে চায়। ১৯৯১ সালের ২০ অক্টোবর আজারবাইজান স্বাধীনতা লাভ করলে এই দ্বন্দ্ব সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। ফলে নতুনভাবে স্বাধীন দেশটির প্রথম বছরগুলো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অবনতি, এবং নাগোর্নো-কারাবাখের যুদ্ধে অতিবাহিত হয়।

১৯৯৪ সালের মে মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বিচ্ছিন্নতাবাদী আর্মেনিয়রা যুদ্ধে ক্ষান্ত দেয়। এখনো নাগোর্নো-কারাবাখ ও আরো ৭টি আজারবাইজানি জেলা আর্মেনিয়দের সামরিক নিয়ন্ত্রণে। যদিও কয়েকটি অঞ্চল চলমান যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নিজেদের দখলে নেয় আজারবাইজান।

১৯৯৫ সালে আজারবাইজানে প্রথম আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ঐ বছরই সোভিয়েত-উত্তর নতুন সংবিধান পাস করা হয়।

আর্মেনিয়ান বাহিনী দ্বারা আজারবাইজানিয় অঞ্চল দখল করার পরে আজ প্রায় ৩০ বছর কেটে গেছে। বহু সমস্যা কাটিয়ে দেশটি আজ মাথা তুলে দাঁড়ানো সুযোগ পেয়েছে।

এখন আগের মতো শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী আজারবাইজান তার নিজস্ব ভূমি ফিরিয়ে নিয়ে ১০ লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষকে তাদের নিজ বাসস্থানে ফিরে নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন করে আজারবাইজানের উপর হামলা চালায় আর্মেনিয়া। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়। সর্বশেষ শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গ্যাঞ্জাতে আর্মেনিয়া চালানো হামলায় ১৩ নাগরিক নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়।

গত ১০ অক্টোবর ইয়ারেভান ও বাকু যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও ২৪ ঘন্টা পার হওয়ার আগেই আবারো আর্মেনিয়া প্রথমে মিসাইল হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে। গ্যাঞ্জাতে চালানো সেই হামলায় ১০ জন মারা যায় ও ৩৫ জন আহত হয়।

দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অভিনন্দন জানিয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি