মিয়ানমারকে ৩২ বছরের পুরোনো সাবমেরিন কে গুছিয়ে দিল ভারত

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে মিয়ানমারের নৌবাহিনীকে ‘৩২ বছরের পুরোনো’ কিলো ক্লাসের একটি সাবমেরিন হস্তান্তর করতে যাচ্ছে ভারত।

এটি হবে মিয়ানমার নৌবাহিনীর প্রথম সাবমেরিন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘোষণাটি দিয়েছেন। খবর টাইমস নাউয়ের।

নয়া দিল্লিতে ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, উপকূলবর্তী এলাকায় সহযোগিতা বৃদ্ধি মিয়ানমারের সঙ্গে বৈচিত্র্য ও বর্ধিত সম্পর্কের অংশ।

এই বিচারে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন আইএনএস ‘সিন্ধুবীর’ হস্তান্তর করবে ভারত।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান অনুরাগ শ্রীবাস্তব। তিনি বলেছিলেন, আমরা জানি যে, ‘৩২ বছরের পুরোনো’ এই সাবমেরিনটি হবে মিয়ানমার নৌবাহিনীর প্রথম সাবমেরিন।

শ্রীবাস্তবের মতে, মিয়ানমারকে ভারতের সাবমেরিন প্রদান ‘এই অঞ্চলের সবার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সামর্থ্য ও স্বনির্ভরতা বাড়াতে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নাভারনে ও পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলার মিয়ানমার সফরের পর এই সাবমেরিন প্রদানের ঘোষণা প্রকাশ্যে এলো। সফরে শ্রীংলা মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সুচি এবং জেনারেল নাভারনে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সূত্র : এনডিটিভি, এবিপি নিউজ

আরো পড়ুন: আরবদের মধ্যে হুহু করে বাড়ছে এরদোগানের জনপ্রিয়তা !

মিসরকে সাথে নিয়ে উপসাগরীয় অধিকাংশ আরব দেশ তুরস্ককে কোণঠাসা করার উপায় খুঁজতে তৎপর হলেও সিংহভাগ আরব জনগণ মনে করছে যে তুরস্কের রজব তৈয়ব এরদোগানই তাদের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী।

তুরস্ক এবং প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ব্যাপারে আরব দেশের সরকার ও জনগণের এই বিপরীত অবস্থান উন্মোচিত হয়েছে অতি সম্প্রতি প্রকাশিত আরব জনমতের ওপর একটি ব্যাপক-ভিত্তিক জরিপের ফলাফলে। আরব বিশ্বের ১৩টি দেশে পরিচালিত হয় এই জনমত জরিপ।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশই মনে করেন, অন্য যে কোনো দেশের নীতির তুলনায় তুরস্কের মধ্যপ্রাচ্যে নীতি আরব স্বার্থের পক্ষে। ফিলিস্তিন ইস্যু তো বটেই, এমনকি সিরিয়া এবং লিবিয়ায় তুরস্কের বিতর্কিত সামরিক হস্তক্ষেপও সিংহভাগ আরব জনগণ সমর্থন করছে। তুরস্কের পর চীন ও জার্মানির মধ্যপ্রাচ্য নীতির প্রতি আরবদের মনোভাব সবচেয়ে ইতিবাচক।

চীনের নীতির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন ৫৫ শতাংশ, আর জার্মানির নীতির পক্ষে ইতিবাচক মতামত দেন ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা। উল্টোদিকে, সবচেয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতির ব্যাপারে। এশিয়া ও আফ্রিকায় আরব বিশ্বের ১৩টি আরব রাষ্ট্রে বিভিন্ন জাতীয়,

আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সাধারণ আরব জনগণের মনোভাব জানতে এ জরিপটি করেছে দোহা এবং বৈরুত ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজ’। এরদোগান ম্যাজিক লন্ডনে রাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কিত গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রধান এবং মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির বিশ্লেষক সামি হামদি মনে করেন,

তুরস্ক রাষ্ট্রের চেয়ে ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট এরদোগান যে সাধারণ আরব জনগণের বিরাট একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছেন, তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। বিবিসি বাংলাকে হামদি বলেন, ‘সন্দেহ নেই তুরস্কের গ্রহণযোগ্যতা, বিশেষ করে সাধারণ প্রান্তিক আরব জনগোষ্ঠীর কাছে, বাড়ছে।

এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার পেছনে তুরস্ক রাষ্ট্রের চেয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ভাবমূর্তি প্রধান ভূমিকা রাখছে।’ ‘এরদোগানের আগের তুরস্ক এবং এরদোগান পরবর্তী তুরস্ক যে অনেক আলাদা আরবরা তা বুঝতে পারছে।

তারা জানে তুরস্কের নতুন যে বিদেশ নীতি তার স্রষ্টা এককভাবে এরদোগান।’ সামি হামদির মতে, এরদোগানের আগের তুরস্ককে আরবরা দেখতো একটি নিপীড়নকারী রাষ্ট্র হিসাবে – যারা আরব এবং মুসলিমদের স্পর্শকাতরতাকে তোয়াক্কা করতো না।

এটি ঐতিহাসিক সত্য যে একসময় আরবরা যখন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি আদায়ে এককাট্টা হয়ে কাজ করছিল, তুরস্ক তখন পুরো উল্টোপথে গিয়ে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ‘কিন্তু আরবরা এখন দেখছে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তুরস্কের সেই অবস্থান বদলে দিয়েছেন।

মিসর, ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত), তিউনিসিয়া এবং এমনকি সৌদি শাসকরা যখন আরবদের চিরাচরিত মুসলিম পরিচিতি এবং সত্ত্বাকে খাটো করার চেষ্টা করছেন, এরদোগান তখন মুসলিম পরিচিতি তুলে ধরতে দ্বিধাহীনভাবে সোচ্চার।’ ‘এটা আরব বিশ্বের বহু মানুষকে আকৃষ্ট করছে।’ হামদি মনে করেন, এরদোগানের তুরস্কের প্রতি এই মুগ্ধতার সাথে ‘আরব বসন্ত‘ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির যোগসূত্র রয়েছে।

আরব বসন্তের পর মিসর-সহ যেসব দেশে নির্বাচন হয়েছিল, তাতে প্রধানত ইসলামপন্থীরা জয়ী হলেও কিছুদিনের মধ্যে তাদের ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ‘বিশেষ করে মিসরে নির্বাচিত মুসলিম ব্রাদারহুড সরকারকে টেনে-হিঁচড়ে নামানো এবং তা নিয়ে পৃথিবীর অনেক ক্ষমতাধর দেশ যেভাবে চুপ ছিল,

অনেক মানুষ তাতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তারা মনে করেছে, একটি মুসলিম পুনঃজাগরণ ঠেকাতে চক্রান্ত হয়েছে।’ ফলে, সামি হামদির মতে, তুরস্কের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট যখন জোর গলায় ইসলামী সত্ত্বার কথা বলেন, তখন আরব বিশ্বের বহু মানুষ মনে করে যে তিনি আসলে তাদেরই মনের কথা বলছেন।

‘আরব বিশ্বের মানুষ দেখছে এরদোগান একজন ইসলামপন্থী হলেও গণতান্ত্রিক তুরস্কের রাজনীতিতে তিনি একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করতে পেরেছেন। তিনি তার দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়েছেন, দেশের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া বা ইউরোপের মত বড় বড় শক্তির সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলছেন।

এতে বহু আরব মুগ্ধ হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘আরবদেরও স্বপ্ন তেমন, তারা তাদের নিজেদের দেশকে, নিজেদের সরকার এবং নেতাদের এভাবেই দেখতে চায়। ফলে এরদোগানের সাথে তারা নিজেদের মেলাতে পারছেন … এরদোগানের মধ্যে তারা বাস্তবে একটি আদর্শ মুসলিম নেতা খুঁজে পাচ্ছেন।’

ফিলিস্তিন এবং এরদোগান জনমত জরিপে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সাধারণ আরব জনগণের আবেগের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে ইচ্ছুক আরব নেতাদের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

ফলাফলে দেখা গেছে, এখনও ৮৯ শতাংশ আরব মনে করেন যে ফিলিস্তিন ইস্যু বিচ্ছিন্ন কোনো ইস্যু নয়, বরঞ্চ এটি একটি আরব ইস্যু। এমনকি উপসাগরীয় দেশগুলোর জনগণের মধ্যেও এই মনোভাব এখনো খুবই জোরালো। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, এখনও ৮৮ শতাংশ আরব ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিপক্ষে।

মাত্র ছয় শতাংশ সমর্থন করে। ভূমধ্যসাগরে উত্তেজনা ছড়ানোয় তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি কেন? এ প্রশ্নে উত্তরদাতারা প্রধান কারণ হিসাবে ফিলিস্তিনীদের প্রতি ইসরাইলের ‘বর্ণবাদী আচরণ‘ এবং ফিলিস্তিনী ভূমি ‘জবর-দখল‘ করার কথা উল্লেখ করেছেন।

কোন দেশ আরবদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি – এমন এক প্রশ্নের জবাবে ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতাই ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলেছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইসরাইলের ব্যাপারে এই বৈরী জনমত বুঝেই হয়ত ইহুদি ওই রাষ্ট্রের সােথ সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে সৌদি শাসকরা দোটানায় পড়েছেন।