শীতে চীনকে চ্যালেঞ্জ করবে ভারত

অনেক বছর ধরে অবকাঠামো নির্মাণ ও ধীরে ধীরে ভূমি দখলের পর চীন লাদাখের কাছে ভারতীয় সীমান্তজুড়ে তার সামরিক উপস্থিতি ও পানিতে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়াস ত্বরান্বিত করছে।

বর্তমানে চীন এই লক্ষ্য অর্জনে অনেকটাই সফল বলে মনে হলেও হিমালয়ের কঠোর শীতে উত্তেজনা আবার বাড়তে পারে, ভারত বিরোধপূর্ণ এলাকায় উপস্থিতি বজায় রাখার চীনা সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে যাচ্ছে।

চীন তার সীমান্ত দাবি ও হিমালয়ের পানিসম্পদে তার অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণের প্রেক্ষাপটে মে মাসের প্রথম দিক থেকে ১০ হাজারের বেশি চীনা সৈন্য ভারত সীমান্তের বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে।

গত বছর থেকে বেইজিং সম্ভবত এই ধারণায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠে যে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে রাস্তা ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে লাদাখে ভারত তার সীমান্ত এলাকায় শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

অরুনাচল প্রদেশ বা দক্ষিণ চীন সাগরের মতো অন্যান্য চীনা ভূখণ্ডগত দাবির মতো এখানেও চীন তার সীমান্ত ঘিরে বৃহত্তর কৌশলগত গভীরতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বিশেষ করে লাদাখে এর অর্থ হলো জিনজিয়াঙের উন্মুক্ত সমতল এলাকা থেকে আরো বেশি প্রতিরক্ষাযোগ্য তিব্বত মালভূমিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা। এই পার্বত্য এলাকায় চীন আরো যত তার অবস্থান সম্প্রসারণ করবে, দেশটির পশ্চিম সীমান্তে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধবাদীরা তত বেশি সামরিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।

লাদাখ থেকে সৃষ্ট নদীগুলো নিয়ন্ত্রণ করা চীনের পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হিমালয়ের সব দিকের নিচু এলাকায় এর পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

চীন লাদাখের ওপর তার দাবি রক্ষা করছে লজিস্টিক্যাল প্রয়াসের মাধ্যমে, এই জটিল এলাকায় বেইজিং তার সামরিক শক্তি বাড়িয়ে। বর্তমান উত্তেজনার আগে চীন ও ভারত উভয়েই রাস্তা ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এই এলাকার ওপর তাদের ভূখণ্ডগত দাবি ধীরে ধীরে জোরদার করেছে।

বিশেষ করে চীন কয়েক বছর ধরে সীমান্ত এলাকায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করে গেছে।
অনেক বছর ধরে চীন লাদাখে সামরিক ইউনিট ও তাদের লজিস্টিকসের মধ্যে তথাকথিত লাইন অব কমিউনিকেশনের ব্যবস্থা করতে রাস্তা ও সাপোর্ট বেজের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

চীন হিমালয় অঞ্চলে ল্যান্ডিং প্যাড ও হেলিপোর্ট নির্মাণের মাধ্যমে হেলিকপ্টার অপারেশনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিযেছে। অনেক উঁচু এলাকা হওয়ায় সেখানে হেলিকপ্টার অভিযান কঠিন।

তবে এই বন্ধুর এলাকায় বেইজিংয়ের লজিস্টিক্যাল অবস্থান জোরদার করার জন্য হেলিকপ্টার পরিচালনা করা খুবই দরকার।

গত ১৫ জুন সীমান্ত সঙ্ঘাতের পর ভারতের কাছ থেকে প্রত্যাঘাতের পর চীন লাদাখের কয়েকটি অগ্রসরয়মান অবস্থান থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। প্রত্যাহার ছিল সীমিত এবং তা সীমান্ত এলাকায় চীনের বৃহত্তর সামরিক অগ্রযাত্রার ওপর তেমন প্রভাব পড়েনি।

মে মাসে ১৯৬২ সাল থেকে দুই দেশের সৈন্যদের মধ্যে বিভাজনকারী নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকা অপসারণ করে চীন। নো ম্যান্স ল্যান্ড না থাকায় দুই দেশের মধ্যে সঙ্ঘাতের শঙ্কা বেড়ে গেছে। এখন দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ফলে যে বাফার জোন প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা খুবই স্বল্প পরিসরের হবে।
অবশ্য, চীন তার বেশির ভাগ এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করনি। কেবল গালওয়ান ভ্যালি, হট স্প্রিংস ও প্যানগঙের খুবই বিরোধপুর্ণ এলাকা থেকে প্রত্যাহার করেছে। এমনকি ভারত সীমান্তের কয়েক কিলোমিটার দূরেও চীনের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

চলতি শীতে অপারেটিং কন্ডিশনে নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে চীনের শক্তি বড় ধরনের পরীক্ষঅয় পড়বে। গ্রীস্মকালে এসব এলাকায় কিছু করা তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু নভেম্বরের শীতে পুরো এলাকা গভীর বরফে ঢেকে যায়। ফলে চীনা সৈন্যদের জন্য সেখানে টিকে থাকা হবে কঠিন বিষয়।

চীন হয়তো শীতের মাসগুলোতে সৈন্যদের অবস্থান করার জন্য বেশ কয়েকটি অবস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে। শীতে বরফে রাস্তা জমে গেলে, দৃষ্টি ক্ষমতা হ্রাস পেলে সৈন্যদের চলমানতা বেশ কমে যায়। তখন হয়তো ভারতের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।

স্ট্র্যাটফোর ওয়ার্ল্ডভিউ