যুদ্ধের দামামা আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে : সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ

নাগোরনো কারাবাখ নামে বিতর্কিত একটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুসলিম আজারবাইজান এবং ক্রিস্টান আর্মেনিয়ার মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই মধ্য এশিয়ার দুই বৈরি প্রতিবেশী আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে নতুন করে পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেছেন, আজারবাইজানকে রক্ষার জন্য বিন্দুমাত্র দ্বিধা তিনি করবেন না।

গত ১০ জুলাই থেকে আর্মেনিয়ার উত্তর-পশ্চিমে তাভুশ সীমান্তে দুই দেশের সৈন্যরা ট্যাংক এবং কামানের মতো ভারী অস্ত্র নিয়ে লড়াই করছে।

আজারবাইজানের সরকারি হিসাবে, তাদের একজন মেজর জেনারেল র‌্যাঙ্কের কর্মকর্তাসহ ১১ জন সেনা নিহত হয়েছে।

আর্মেনিয়া স্বীকার করেছে, তাদের একজন মেজর এবং একজন ক্যাপ্টেনসহ চারজন সেনা মারা গেছে। যদিও আজেরিরা দাবি করছে, ওই সংখ্যা শতাধিক।

বিবিসি বাংলা জানায়, দুপক্ষই পরস্পরের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও গোলাবর্ষণ করার অভিযোগ করেছে।

এদিকে, রুশ পত্রিকা প্রাভদা আজারবাইজান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল ভাজিফ দারগিয়াখিলকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, আজারবাইজানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো স্থাপনায় হামলা হলে আর্মেনিয়ার মেটসামোর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ করে মিনগেচভিক জলাধারে আঘাত করলে, আর্মেনিয়াকে ট্রাজেডি ভোগ করতে হবে।’

মঙ্গলবার রাতে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে করোনা বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর দাবি করে।

জাতীয় পতাকা নিয়ে মানুষজন স্লোগান তুলেছে- ‘নাগোরনো কারাবাখ আজারবাইজানের, দ্রুত সৈন্য পাঠাও’।

এ ধরনের পরিস্থিতির পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্য দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ করে মিনগেচভিক জলাধারে আঘাত করলে, আর্মেনিয়াকে ট্রাজেডি ভোগ করতে হবে।’

মঙ্গলবার রাতে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে করোনা বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর দাবি করে।

জাতীয় পতাকা নিয়ে মানুষজন স্লোগান তুলেছে- ‘নাগোরনো কারাবাখ আজারবাইজানের, দ্রুত সৈন্য পাঠাও’।

এ ধরনের পরিস্থিতির পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্য দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন’। তিনি দুই দেশের মধ্যে দ্রুত শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।

সোভিয়েত আমলে অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ ছিল। কিন্তু নাগোরনো কারাবাখের আঞ্চলিক পার্লামেন্টে ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক ভোট করে আর্মেনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু হয়ে যায় ওই এলাকার আজেরি এবং আর্মেনিয়দের মধ্যে জাতিগত সংঘাত।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার পর ১৯৯২ সালের শীতে জাতিগত ওই সংঘাত স্বাধীন আজারবাইজন এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে পুরাদস্তুর যুদ্ধের রূপ নেয়।

রক্তক্ষয়ী ওই যুদ্ধে আজারবাইজান থেকে প্রায় আড়াই লাখের মতো জাতিগত আর্মেনিয়কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। অন্যদিকে নাগোরনো কারাবাখ ছাড়তে হয়েছিল প্রায় লাখখানেক আজেরিকে।

রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ১৯৯৪ সালের মে মাসে যুদ্ধবিরতি হলেও আর্মেনিয়া নাগোরনো কারাবাখের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়ে সেখানে জাতিগত আর্মেনিয়দের ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়।

নাগোরনো কারাবাখ আজারবাইজানের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অংশ হলেও এটির নিয়ন্ত্রণ আর্মেনিয়ার হাতে যা আজেরিরা কখনোই মেনে নেয়নি