পশ্চিম তীরকে মুক্ত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছে হামাস

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস পশ্চিম তীরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছে। হামাসের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মাহমুদ আল-জাহার এই আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) লেবাননের আল-মায়াদিন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পশ্চিম তীর মুক্ত করার জন্য ফিলিস্তিনের সমস্ত সংগঠনকে সশস্ত্র সংগ্রামের মতো সফল মডেল অনুসরণ করতে হবে।

ইহুদিবাদী ইসরাইল যে সম্প্রসারণবাদী নীতি বাস্তবায়ন করতে চাইছে তার মোকাবেলায় সশস্ত্র সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই।

মাহমুদ আল-জাহার বলেন, ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা বা পিএলও-কে অবশ্যই ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে অসলো চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে এবং পশ্চিম তীরকে মুক্ত করার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে।

তিনি বলেন, হামাস এ ব্যাপারে পিএলও এবং ফাতাহ দলের সঙ্গে আলোচনা করবে।

আরো পড়ুন: যুক্তরাজ্যের বর্ষসেরা চিকিৎসক বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফারজানা, বিলবোর্ডে ছবি টানিয়ে সম্মান !

যুক্তরাজ্যের বর্ষসেরা চিকিৎসক (জিপি অব দ্য ইয়ার) মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফারজানা হুসেইন। এজন্য তার প্রতি সম্মান জানাতে ছবি টানানো হয়েছে পিকাডেলী বিলবোর্ডে।

যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ‘জেনারেল প্র‍্যাকটিস’ এর জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, পূর্ব লন্ডনেরযুক্তরাজ্যের বর্ষসেরা চিকিৎসক বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফারজানা, বিলবোর্ডে ছবি টানিয়ে সম্মান ! নিউহ্যামে বসবাসকারী ফারজানা হুসেইন গত ১৮ বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে এই খেতাব পেয়ে আসছিলেন। এবার তিনি জাতীয় পর্যায়ে ‘জিপি’ মনোনীত হলেন। ফারজানা হুসেইন গত ৩ বছরে তিনি নিউহ্যামের স্থানীয় চিকিৎসা কমিটিতে ছিলেন।

সেইসঙ্গে নিউহ্যামের ‘জেনাারেল প্র‍্যাকটিস ফেডারেশন’ এর বোর্ড ডিরেক্টর। এছাড়া ফারজানা হুসেইন যুক্তরাজ্যের ‘এনএপিসি’-র কাউন্সিল সদস্য। এবং সম্প্রতি তিনি প্রাথমিক কেয়ার নেটওয়ার্কের জন্য একজন ক্লিনিকাল পরিচালক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।

সূত্র: জেনারেল প্র্যাকটিস অ্যাওয়ার্ডস। ইত্তেফাক

আরো পড়ুন-ভারতকে কি ঘিরে ধরছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো!

ভারতকে কি ঘিরে ধরছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো? গত কয়েক দিনে ভারতীয় সেনা বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দাদের একাধিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গটি বার বার উত্থাপিত হয়েছে বলে সূত্র জানাচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা সেনা বাহিনীকে জানিয়েছে, উত্তর লাদাখের গিলগিট বালতিস্তান অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান।

উত্তরে ভারতকে পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘিরে রেখেছে চীন, পাকিস্তান এবং নেপাল-ভুটান। পুরোটাই দুর্গম হিমালয়ের অংশ। এর মধ্যে লাদাখের এক প্রান্তে চীন, অন্য প্রান্তে পাকিস্তান। এই মুহূর্তে চীনের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনা চলছে লাদাখের পূর্ব প্রান্তে।

গত ১৫ জুন রাতে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষ এবং ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এরপর বেশ কয়েকটি কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠক হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ভারত-চীন সীমান্ত চুসুলে বুধবারও একটি বৈঠক হয় দুই দেশের সেনার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি।

আলোচনা চলছে। কিন্তু তার মধ্যেই লাদাখে চীন সীমান্তে ক্রমাগত সেনা সমাগম ঘটিয়েছে ভারত। সরকারিভাবে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য সেখানে মজুত করা হয়েছে। যদিও সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ১০ হাজারের অনেক বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্ত বরাবর।

পাঠানো হয়েছে ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য যুদ্ধের সরঞ্জাম। লাদাখের লে বিমানঘাঁটিতে তৈরি রয়েছে বায়ুসেনা। ৬০ দিনের জন্য সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সূত্র জানাচ্ছে, মাত্র ৮ মিনিটে সীমান্তে পৌঁছে অপারেশন চালিয়ে ফের এয়ারবেসে ফিরে আসতে পারে ভারতীয় ফাইটার বিমান।

চীনও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অন্য দিকে সৈন্য সাজিয়েছে। সেখানেও প্রায় সমপরিমাণ সেনা মজুত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার খুব কাছে তিনটি এয়ারস্ট্রিপে চীন তাদের বিমানবাহিনীকে প্রস্তুত রেখেছে বলে জানা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নেপাল এবং পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখন ভালো। কারাকোরাম হাইওয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তা। বাণিজ্যিক দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে এখন সুসম্পর্ক রয়েছে। ভারতের কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পরে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে আপত্তি তুলেছিল।

একমাত্র চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে পাকিস্তান-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে নেপালের মতো ছোট দেশও ভারতের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে ভাঙন এখন স্পষ্ট। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডের সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দলে এখনও প্রচণ্ডের শক্তি বেশি। কিন্তু ওলি এত শক্তি পাচ্ছেন কোথা থেকে, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে। অনেকেরই বক্তব্য, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি গোপনে সাহায্য করছে ওলিকে। ফলে ওলিও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির পরিচিত স্ট্যান্ড উপেক্ষা করে ভারত বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।

গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, উত্তর লাদাখে গিলগিট বালতিস্তানে সৈন্য মজুত করার পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলেও সীমান্তের কাছে সৈন্য বাড়িয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে কাশ্মীরের ভিতরে কট্টরপন্থীদের সঙ্গেও পাকিস্তান চীনের কথা বলিয়ে দিয়েছে বলে কোনও কোনও মহল দাবি করছে।

এই পরিস্থিতিতে যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তা হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত গোটাটাই আক্রান্ত হবে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, সেনা বাহিনীকে এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়ে রাখা হয়েছে। এএনআই, পিটিআই