কাশ্মীরে মুসলমানদের চিত্র বদলানোর পদক্ষেপ; এখনই ভারতকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই কাশ্মীরের মুসলমানদের জনসংখ্যা চিত্র পরিবর্তন থেকে ভারতকে বিরত রাখার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কারণ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের স্থিতিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই কাশ্মীর।

সোমবার (২৯ জুন) একটি আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের নেতারা এ দাবি জানান।

সম্মেলনে বক্তৃতাকালে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী শিবলি ফারাজ বলেন, ভারত দখলকৃত কাশ্মীরের জনসংখ্যা ও স্বতন্ত্র পরিচিতি পরিবর্তন বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘকে অবশ্যই অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

নতুন রেসিডেন্সি আইন বাস্তবায়নের পর কাশ্মীরের হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিককে নাগরিকত্ব প্রদান করায় ভারত দখলকৃত কাশ্মীরে আশঙ্কা বেড়েছে।

ফারাজ বলেন, অব্যাহতভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে ভারতকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের সভাপতি সর্দার মাসুদ খান কাশ্মীরে ভারতের নৃশংসতার প্রতিবাদে দেশটির বিরুদ্ধে বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও অবরোধ আরোপের প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, আমি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানাব, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ভারত থেকে অ-হালাল মাংস ও অ-হালাল পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে।

কাশ্মীরি মুসলমানদের সহায়তার জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও ইসলামী সংহতি তহবিলের সহযোগিতায় কাশ্মীর হিমেনিটেরিয়ান ফান্ড গঠনের আহ্বানও জানান তিনি।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির আইনপ্রণেতা আলী সাহিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাশ্মীর ইস্যু হলো মূল ইস্যু।

চীন ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর। এই অঞ্চলের বেশির ভাগ সমস্যার কেন্দ্র হচ্ছে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৭, ৫১, ৮০, ৯৬, ৯৮, ১২২ ও ১২৬ নম্বর প্রস্তাবে জাতিসংঘের তদারকিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরের জনসাধারণের ভাগ্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

পাকিস্তানের ইতিবাচক ও শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ সত্ত্বেও ভারত অনেক বার এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি আরো বলেন, তুরস্ক শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মির ইস্যুর সমাধান চায়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরের জনসাধারণের আকঙ্ক্ষার আলোকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান হওয়া উচিত বলে তুরস্ক মনে করে।

গত বছরের ৫ আগস্ট কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর সামরিক লকডাউন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা উল্লেখ করে তুরস্কের এরদোগান সরকারের দলের এই আইনপ্রনেতা বলেন, শ্রীনগরের শিশু আর আঙ্কার শিশু একই, কাশ্মীর উপত্যকার নারী মানে আনাতোলিয়ার নারী। কাশ্মীরি মায়ের কান্না তুর্কি মায়ের কান্নাই।

তিনি বলেন, কাশ্মীর আমাদের সমসাময়িক কানাকালে ও দারদেনেলিস। কানাকালের ওই ঘটনার সময় আপনারা আমাদের সাথে ছিলেন, আজ কাশ্মীর প্রশ্নে আমরা আছি আপনাদের সাথে। তিনি এর মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দার্দানেলিস যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিলেন।

তুরস্কে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মাদ সিরাজ সাজ্জাদ কাজি বলেন, ভারত-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে সর্বশেষ যেসব প্রতিবেদন আসছে তা খুবই পীড়াদায়ক। কাশ্মীরিদের অধিকার নিয়মিতভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। প্রায়ই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ড, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কেবল চলতি বছরই শতাধিক কাশ্মীরি হত্যা হয়েছে।

সূত্র: সাউথ এশিয়া মনিটর