কাশ্মীরি মায়ের কান্না তুর্কি মায়ের কান্নাই: তুরস্ক

গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কর্তৃক বাতিল করা হয় স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন।ফলে উপত্যকার মুসলমানদের জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় নতুন এক শঙ্কা। ভারতীয় বাহিনীর প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হওয়া-ই সেখানকার জনজীবেনের সাধারণ চিত্র হয়ে দাড়িয়েছে।এ দিকে স্বাধীনতার লক্ষে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা। কাশ্মীরে শুধু নিয়ন্ত্রন নয়; সেখানকার মুসলমানদের জনসংখ্যার চিত্র বদল করে দিতে চাচ্ছে ভারতের ক্ষতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।মুসলমানদের জনসংখ্যার চিত্র বদল করতে নতুন রেসিডেন্সি আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে গত ১৮ মার্চের পর থেকে প্রায় পঁচিশ হাজার ভারতীয়দের নাগরিকত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার।এই সনদের অধীনে অনেকটা নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়া হয়েছে, যেটা একজন ব্যক্তিকে এই অঞ্চলে বসবাসের এবং সরকারি চাকরির অধিকার দেবে। গত বছর পর্যন্ত এই অধিকার শুধুমাত্র স্থানীয়দের জন্য নির্ধারিত ছিল।গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার যখন মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্বশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়, তখন স্থানীয়দের বিশেষ নাগরিকত্ব আইনও তারা বাতিল করে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(এ) -তে তাদের এই অধিকার দেওয়া ছিল।ভারতের এমন পদক্ষেপের প্রতিবাদ এবং জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাতে গত সোমবার (২৯ জুন) একটি আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা।সাউথ এশিয়ান মনিটরের খবরের মতে ওই সম্মেলনে যুক্ত হন তুরস্ক, পাকিস্তানসহ অন্যান্য মুসলিম বিশ্বের নেতারা।সম্মেলনে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির আইনপ্রণেতা আলী সাহিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাশ্মীর ইস্যু হলো মূল ইস্যু। চীন ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর। এই অঞ্চলের বেশির ভাগ সমস্যার কেন্দ্র হচ্ছে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে।তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৭, ৫১, ৮০, ৯৬, ৯৮, ১২২ ও ১২৬ নম্বর প্রস্তাবে জাতিসংঘের তদারকিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরের জনসাধারণের ভাগ্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।পাকিস্তানের ইতিবাচক ও শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ সত্ত্বেও ভারত অনেক বার এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।তিনি আরো বলেন, তুরস্ক শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মির ইস্যুর সমাধান চায়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরের জনসাধারণের আকঙ্ক্ষার আলোকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান হওয়া উচিত বলে তুরস্ক মনে করে।গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কর্তৃক স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর সামরিক লকডাউন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা উল্লেখ করে তুরস্কের এরদোগান সরকারের দলের এই আইনপ্রনেতা বলেন, শ্রীনগরের শিশু আর আঙ্কারার শিশু একই, কাশ্মীর উপত্যকার নারী মানে আনাতোলিয়ার নারী। কাশ্মীরি মায়ের কান্না তুর্কি মায়ের কান্নাই।তিনি বলেন, কাশ্মীর আমাদের সমসাময়িক কানাকালে ও দারদেনেলিস। কানাকালের ওই ঘটনার সময় আপনারা আমাদের সাথে ছিলেন, আজ কাশ্মীর প্রশ্নে আমরা আছি আপনাদের সাথে। তিনি এর মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দার্দানেলিস যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিলেন।