কাশ্মীরি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান বাইডেনের

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন অধিকৃত কাশ্মীরের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বিশেষত মুসলমানদের লক্ষ্য করে কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার বাতিল কোর বিষয়ে ভারতের সাম্প্রতিক সংবিধান সংশোধনী নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

‘মুসলিম আমেরিকান সম্প্রদায়ের এজেন্ডা’ – নামক একটি নীতিমালা বিষয়ক পত্রিকার লেখা সম্প্রতি তার প্রচার ওয়েবসাইটটিতে পোস্ট করা হয়েছে।

সেখানে বাইডেন চীনের দশ মিলিয়ন উইঘুর মুসলমানকে জোর করে আটকে রাখা, রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বৈষম্য ও নৃশংসতা ও ভারতের কাশ্মীর ও আসামে মুসলিম নির্যাতনের সমালোচনা করেছেন।

নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত বাইডেন যে নীতিগুলি অনুসরণ করবেন, তার রূপরেখা তুলে ধরে ওই লেখায় বলা হয়েছে, ‘কাশ্মীরের সকল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ভারতের সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়া।

সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা প্রদান যেমন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রতিরোধ করা, ইন্টারনেট বন্ধ করা বা গতি কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে।’

সেখানে আরও বলা হয়, ‘জো বাইডেন আসামে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধণ এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাস করার পরে ভারত যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে হতাশ হয়েছেন।

এই পদক্ষেপগুলো দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতার দীর্ঘ ঐতিহ্যের সাথে এবং বহু-জাতিগত এবং বহু-ধর্মীয় গণতন্ত্র বজায় রাখার ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্পও কাশ্মীর ইস্যুটি তুলে ধরেছিলেন এবং ২০১৯ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে বৈঠকে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সহায়তা করারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তারপর তিনি আরও দুইবার তার প্রস্তাবটির পুনরাবৃত্তি করেছেন। একবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এবংেআরেকবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে।

তবে বেশিরভাগ মতামত জরিপে মিস্টার ট্রাম্পের চেয়ে কমপক্ষে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা বাইডেন তার নীতিমালাতে ভারতসহ অন্যান্য মুসলিম নির্যাতন ইস্যু সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।

পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মুসলিম-সংখ্যালঘু দেশ ও উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনসংখ্যার দেশগুলোতে যা ঘটছে এবং তাতে আমেরিকান মুসলিমরা যে অনুভূতি বোধ করছে বাইডেন তা বোঝেন।’

অন্য একটি সংবেদনশীল ইস্যু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব নিয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে যে, ‘প্রেসিডেন্ট হিসাবে বাইডেন ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনিদেরকে একত্রে স্বাধীনতা বজায় রেখে শান্তি, সুরক্ষা এবং সমৃদ্ধিতে থাকার উপায় খুঁজে পেতে এবং দু’পক্ষের জন্যই গ্রহনযোগ্য সমাধান বের করতে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত থাকবেন।’

সূত্র: ডন।