গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় বাহিনী বিএসএফের ৩৩ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে (বিএসএফ) করোনার ভয়াবহ থাবা পড়েছে। একদিনে ৩৩ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

রোববার (২৮ জুন) ওই গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, এনিয়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে মোট আক্রান্তে সংখ্যা বেড়ে ৯৪৪ জনে দাঁড়ালো।

এদিকে ঝাড়খণ্ডে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) নয়জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার সরাইকেলা খারসাওয়ান জেলায় ১১ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এদের মধ্যে রয়েছেন ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দেয়া ৯ সিআরপিএফ সদস্য। তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ভারতে একদিনেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৬ জন। খবর এনডিটিভির।

রোববার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৯।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪১০ জনের।

আরো পড়ুন-প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বাইডেনই: ট্রাম্প

সদ্য হওয়া তিনটি জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, তাঁকে বেশ খানিকটা পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। একটি খবরের চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রায় বলেই ফেললেন যে, বাইডেনই প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন, কারণ দেশের কিছু মানুষ তাঁকে ভালবাসেন না।

সাক্ষাৎকারের শুরুটা হয়েছিল বাইডেনকে আক্রমণ করেই। অতিমারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং লকডাউনের জেরে আর্থিক মন্দা নিয়ে দেশের তাবড় সেলিব্রিটিরা পর্যন্ত মুখ খুলেছেন।

সেই সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আন্দোলনে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর হুমকিও ভাল চোখে নেননি অনেকেই। সাক্ষাৎকারটির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাইডেনও প্রেসিডেন্টকে বিঁধে বলেছেন, ‘‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্প শিশুদের মতো আচরণ করেছেন। মনে হচ্ছে ওঁকে ছাড়া আমাদের সকলের উপরেই প্রভাব ফেলেছে এই অতিমারি।’’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর এই বক্তব্যেরই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। যার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমে বাইডেনের এক গুচ্ছ সমালোচনা করেন। তার পরেই বলেন, ‘‘একটা লোক ভাল করে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না।

অথচ উনিই আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। কারণ এ দেশেরই কিছু মানুষ আমায় ভালবাসেন না হয়তো।’’ তার পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি আমার কাজটাই করছি।’’

বেশ কিছু সমীক্ষা আবার এ-ও বলছে, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বাড়ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। মিশিগান, ফ্লরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভ্যানিয়া, ভার্জিনিয়ার মতো প্রদেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত চাইছেন, ট্রাম্পই ফের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসুন।

অথচ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদেরই সমর্থন করারই প্রবণতা ছিল এত দিন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সচিব সারা ম্যাথিউস সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এমন সমর্থন পেয়ে প্রেসিডেন্ট অভিভূত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে

সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় জোর দেন ট্রাম্প। তাই নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে এলে হাউডি মোদী ও ট্রাম্প ভারতে গেলে কেমছো ট্রাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সারা বলেছেন, ‘‘আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে ভারতীয়-মার্কিন নাগরিকদের অবদানকে প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দেন।’’

এ দিকে, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অর্থ খরচ করার অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলে রায় দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত।