ভারতে প্রতি ৩ ডাক্তারের ২ জনই ভুয়া

ভারতের গ্রামাঞ্চলের প্রতি তিন চিকিৎসকের মধ্যে দু’জনই ভুয়া। মেডিকেল তথা চিকিৎসাশাস্ত্র পড়াশোনা না করেই দিনের পর দিন মানুষের চিকিৎসা করে যাচ্ছে তারা।

করোনাভাইরাস মহামারীতে জনগণের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। এর মধ্যেই উঠে এলো এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সম্প্রতি ভারতের ১৯টি রাজ্যে এক হাজার ৫১৯টি গ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে জরিপ চালায় সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ (সিপিআর) নামে একটি দাতব্য সংস্থা।

সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তাদের এ জরিপের ফলাফল। জরিপে দেখা গেছে, ভারতের ৭৫ শতাংশ গ্রামে একটি স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং একটি গ্রামে গড়ে তিনটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।

সেখানে ৮৬ শতাংশই বেসরকারি চিকিৎসক কাজ করেন এবং ৬৮ শতাংশের কোনো ধরনের মেডিকেল শিক্ষা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছিল প্রায় একই ধরনের তথ্য। সংস্থাটি সে সময় জানায়, ভারতের ৫৭.৩ শতাংশ অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকের কোনো মেডিকেল শিক্ষা নেই।

এদের মধ্যে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ আবার দশম বা দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেই ডাক্তারি করে যাচ্ছেন। জরিপে দেখা গেছে, ভুয়া ডাক্তারের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে তামিলনাড়ু ও কর্নাটক।

সূত্র:-ইনসাফ২৪

আরো পড়ুন: রিজিক ও ঋণের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে শায়েখ আয়েজ আল কারনির ৩ পরামর্শ !

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষ যে বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত তার অন্যতম হলো হালাল রিজিক।

সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামিক স্কলার ও বিশ্বনন্দিত আরবি গ্রন্থ লা-তাহঝানের রচয়িতা শায়েখ আয়েজ আল কারনি হালাল রিজিকের সমাধানসহ মুমিনের আরও কয়েকটি পেরেশানি থেকে মুক্তির পথ বাতলে দিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন- যে কেউ তার সেই পরামর্শসমূহ মেনে চলবে রিজিক, ঋণ ইত্যাদির দুশ্চিন্তা তার আর থাকবে না।

আধামিনিটের এক ভিডিও বক্তব্যে শায়েখ আয়েজ আল কারনি বলেন, তিনটি বিষয়ের ওপর আমি কসম করছি, যে ব্যক্তি এগুলোর প্রতি যত্নবান হবে এবং জরুরি কাজ মনে করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দান করবেন। তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। দুশ্চিন্তা দূর করবেন। বক্ষকে প্রশস্ত করবেন।

তার সমস্ত কাজকে সহজ করে দিবেন। প্রথম বিষয় হল, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা। দ্বিতীয় বিষয়, পিতা-মাতার হক আদায় করা। তৃতীয় বিষয়, বেশি পরিমাণ ইস্তিগফার করা। এই তিনটি কাজ করলে মহান আল্লাহ আপনার দায়িত্ব নিবেন- এই কাজগুলির পরিক্ষিত সুফল পেয়েছেন সালেহ, আওলিয়া ও আবেদগণ।

তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়েছে, দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করা হয়েছে। অনুলেখক, কন্ট্রিবিউটর: আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম। শিক্ষক: মারকাযুদ দিরাসাহ্ আল ইসলামিয়্যাহ্- ঢাকা

আরো পড়ুন: পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীর নকশা করেছিলেন যে ব্যাক্তি !

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত কাবা ঘিরে মসজিদুল হারাম। ইবরাহিম (আ) ও ইসমাইল (আ) এর দ্বারা প্রথম কাবা নির্মাণ করা মুসলিমরা হজ্জ ও উমরার জন্য মসজিদুল হারামে যান।

হজ্জের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম। অপরদিকে মসজিদে নববী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা বর্তমান সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত।

গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়। নির্মাণের পর অনেকবার পুণ-নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হয়েছে মুসলমানদের এই পবিত্র দুটি মসজিদ।

আর মক্কার মসজিদুল হারাম কিংবা মদিনার মসজিদে নববীর সংস্কারে একজন মিশরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি অনেক ভূমিকা রেখেছেন যিনি খ্যাতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেছিলেন। তাই তিনি আজো অনেকেরই অজানা। সেই মহান ব্যক্তিটির নাম ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাঈল।

তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ব্যক্তি। এবং রয়েল স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়া এবং স্নাতক অর্জন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিও ছিলেন তিনি। সবচেয়ে কম বয়সে ইসলামী আর্কিটেকচারে তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রাপ্তির জন্য ইউরোপে গিয়েছিলেন।

এছাড়াও তিনি রাজার কাছ থেকে নীলে স্কার্ফ এবং আয়রন র‌্যাঙ্ক প্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। এছাড়াও তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনিই প্রথম প্রকৌশলী যিনি মক্কা ও মদীনা মসজিদ সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন।

বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন এবং স্থাপত্যকর্ম তদারকির জন্য কোনো প্রকার অর্থ গ্রহণ করতে রাজী হননি। তাদের লক্ষ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়ে বাকের বিন লাদানকে তিনি বলেন, আমি কেন পবিত্র দুটি মসজিদে আমার কাজের জন্য অর্থ গ্রহণ করব্?

তাহলে আমি কীভাবে বিচার দিবসে আল্লাহকে মুখ দেখাব? তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী একটি পুত্রের জন্ম দিয়ে মারা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি এবং তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ সময় নিবেদিত করেছিলেন।

তিনি গণমাধ্যমের যশ, খ্যাতি এবং অর্থের থেকে দূরে থেকে তিনি দুটি পবিত্র মসজিদের সেবায় ব্যয় করেছিলেন। এই প্রতিভাবান ব্যক্তিটির মসজিদুল হারাম এর মার্বেলের কাজ সম্পর্কিত একটি চমকপ্রদ গল্প রয়েছে। তিনি তাওয়াফকারিদের জন্য হারাম মসজিদের মেঝেটি ঢাকতে চেয়েছিলেন।

আর এই বিশেষ তাপ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন মার্বেল কেবল গ্রীসের একটি ছোট পর্বতে পাওয়া যেত। তিনি গ্রীস ভ্রমণ করেন এবং হারামের জন্য প্রায় অর্ধেক পাহাড়ের পরিমাণে মার্বেল কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন এবং মক্কার দিকে ফিরে আসতেই সাদা মার্বেল চলে এসেছিল।

এবং প্রকৃতপক্ষে মক্কার পবিত্র মসজিদের মেঝেতে মার্বেলের স্থাপন সমাপ্ত হয়েছিল। এর ১৫ বছর পরে, সৌদি সরকার তাকে মদীনার পবিত্র মসজিদে অনুরূপ মার্বেল স্থাপন করতে বলে। এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ কামাল বলেন, যখন বাদশাহ তাকে নবীজির মসজিদটিকেও একই মার্বেল দিয়ে ঢাকতে বললেন,

তখন আমি খুব বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম, কারণ এই ধরণের মার্বেল পাওয়ার জন্য পৃথিবীতে কেবলমাত্র একটি জায়গা ছিল। এটি ছিল গ্রীস এবং আমি এরইমধ্যে তার অর্ধেক কিনে নিয়েছি। এরপর তিনি গ্রিসের একই সংস্থায় গিয়ে সিইওর সাথে দেখা করেছিলেন এবং তার প্রয়োজনের পরিমাণ সম্পর্কে জানিয়েছিলেন।

সিইও বলেছিলেন যে, ১৫ বছর আগে তিনি চলে যাবার পরে এটি বিক্রি করা হয়ে গিয়েছিল। এতে কামাল খুব মন খারাপ করেন। তিনি সভা ছেড়ে চলে গেলেন এবং অফিস থেকে বেরোনোর সময় তিনি অফিস সেক্রেটারির সাথে দেখা করলেন এবং তাকে অনুরোধ করলেন বাকী পরিমাণ মার্বেল কিনেছেন তার অবস্থান সম্পর্কে জানাতে।

জবাবে ওই ব্যক্তি বলেছিলেন যে এত পুরানো রেকর্ড থেকে জানা কঠিন হবে। তবুও কামালের অনুরোধে তিনি পুরানো রেকর্ড অনুসন্ধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কামাল তাকে হোটেলের ঠিকানা ও নম্বর দিয়েছিলেন এবং পরের দিন তার সাথে আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অফিস ছাড়ার সময় তিনি ভাবছিলেন; আমি কেন জানতে চেয়েছি কে কিনেছে? নিজেকে তিনি নিজেই বলছিলেন, আল্লাহ দারুণ কিছু করবেন। পরদিন, বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে, কামাল একটি ফোন কল পেয়েছিলেন যাতে বলা হচ্ছিলো যে তিনি ক্রেতার ঠিকানা পেয়েছেন।