পাকিস্তান কাঁপাচ্ছে তুর্কি সিরিয়াল ‘দিরিলিস : এরতুগ্রুল’

দুর্দান্ত তুর্কি সিরিয়াল ‘দিরিলিস : এরতুগ্রুল’ রমজানে পাকিস্তানে উর্দু ভাষায় ডাবিং করে পিটিভিতে দেখানো শুরু হয়। এরপর থেকেই দারুণ সাড়া ফেলেছে উসমানি খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম উসমানের পিতার জীবনীভিত্তিক এই সিরিয়াল। ইতোমধ্যেই এটি ইউটিউবের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

তুরস্কের নির্মিত ঐতিহাসিক এই সিরিয়ালটি মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছে। যা এখন মুসলিম বিশ্বের জন্য এক রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি তরুণরা বিশেষভাবে এই সিরিয়ালের প্রতি ঝুঁকেছে। শুধু ইউটিউবেরই এটি ২৪০ মিলিয়ন বারের বেশি দেখা হয়েছে।

ইসলামাবাদের বাসিন্দা ইফতারের পর তার ভাতিজাদের নিয়ে সিরিয়ালটি দেখতে গিয়ে বলেন, বাচ্চাদের এই সিরিয়ালটি দেখার প্রয়োজন। এই সিরিয়াল তাদের বাস্তব জীবনে কাল্পনিক সুপার হিরোর বদলে সত্যিকারের সুপার হিরোর কাহিনী দেখাবে।

পাকিস্তানে রমজানের প্রথমদিন থেকেই শুরু হওয়া ‘দিরিলিস : এরতুগ্রুল’ তার দর্শকদের বেশ ভালো ভাবেই আকর্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে নায়কের সাহসিকতা, গল্পের ধরণ, উচ্চ মানের সূচনা দিন দিন দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছে।

পকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তরুণদের মধ্যে ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সিরিয়াল সম্প্রচারের বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছেন।

পাঁচ মৌসুমের এই সিরিজটিতে উসমানিয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম উসমানের পিতা এরতুগ্রুলের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, যারা ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে ৬০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করেছিল।

আরো পড়ুন-গাড়ির যন্ত্রাংশ দিয়ে করোনার ভেন্টিলেটর বানিয়ে অবশেষে সফল হলেন আফগান মেয়েরা

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশেষ পুরস্কার জিতে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল আফগানিস্তানের একদল কিশোরী। সেই মেয়েরাই এবার বাস্তবতার সঙ্গে লড়ে সাফল্য দেখাল।

করোনায় আক্রান্ত দেশকে ভেন্টিলেটর উপহার দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে বাজারে আসলে এ ভেন্টিলেটর অনেক কম দামে পাওয়া যাবে।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের প্রায় ৪ কোটি মানুষের জন্য আছে মাত্র ৪০০ ভেন্টিলেটর। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। অথচ দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ইতিমধ্যে ৭ হাজার ৬৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে।

মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের। দেশটির স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত ভঙ্গুর হওয়ায় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। ভেন্টিলেটর তৈরি করা দলটির নাম ‘আফগান ড্রিয়েমার্স’। তাদের অন্যতম সদস্য ১৭ বছরের নাহিদ রাহিমি বার্তা সংস্থা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের চেষ্টার মাধ্যমে অন্তত একটি জীবনও রক্ষা করতে পারি তবে সেটাও অনেক গুরুত্বপূ্র্ণ।

এ দলটির সবার বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সে। তারা যে ভেন্টিলেটর তৈরি করছে তাতে ব্যবহার করা হয়েছে পুরনো টয়োটা করোলা গাড়ির মটর এবং হোন্ডা মোটরসাইকেলের চেইন ড্রাইভ।

তারা বলছে, শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যায় থাকা রোগীদের সাময়িক স্বস্তি দেবে তাদের এই ভেন্টিলেটর। যতক্ষণ ভালো মানের একটি পাওয়া না যায়। দল নেতা সুমাইয়া ফারুকি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরা এ সময়ে দেশের হিরো। তাদের সহযোগিতায় কিছু করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি।’

বর্তমানে বিশ্বে বাজারে ভেন্টিলেটরের মারাত্বক সংকট রয়েছে। আর যা বিক্রি হচ্ছে তার দাম পড়ছে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার। আর আফগান এ মেয়েরা যে ভেন্টিলেটর তৈরি করেছে তার দাম পড়বে ৬০০ ডলারের কম।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা রয়া মাহবুব, ‍যিনি টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী উদ্যোক্তার একজন হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষায় সফলতাও এসেছে। মে মাসের শেষ দিকে এটি বাজারে আসবে।’
সূত্র: বিবিসি