দক্ষিণ সুদানে আবারো সাম্প্রদায়িক সংঘাত: প্রাণ গেল ৩০০ জনের

উত্তর আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘাতে কমপক্ষে ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জংলে রাজ্যে ওই সহিংসতায় শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস, নারীদের অপহরণ ও গবাদি পশু লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে তিনজন দাতব্য কর্মীও আছেন। বৃহস্পতিবার বিবিসি খবরটি নিশ্চিত করেছে।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ সুদানের ছয় বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। কিন্তু তারপরও দেশটিতে বেশ কয়েকবার আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের সংঘাতে দেশটিতে প্রায় ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

সর্বশেষ গত শনিবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাইরি এলাকার মহিষ পালক ও খামারের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে যায়। এতে হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

সংঘাতে প্রায় ৩০০ জন মারা গেছেন জানিয়ে স্থানীয় এক স্বাস্থ্য কর্মী বলেন, নিহতদের অনেকের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। চিকিৎসার জন্য আহতদের অনেককে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী জুবায় নেয়া হয়েছে।

সংঘাতে মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার্সের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটিতে নিয়োজিত জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে জানতে শান্তিরক্ষীরা সেখানকার মানুষের জবানবন্দি নিচ্ছেন।

দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেভিড শেরার বলেন, দুই গ্রুপের এই সংঘাত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। দেশটিতে রাজনৈতিক সংঘাত কমে এলেও আন্তঃসাম্প্রদায়িক লড়াই বাড়ছে। কয়েক বছরের গৃহযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মানুষ এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছে। এখন এ ধরনের সংঘাত ব্যাপক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে অন্তত ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সালবা কির নেতৃত্বে গত মাসে ফেব্রুয়ারিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা রিক মাচারের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কিন্তু প্রতিনিয়ত সংঘাতের কারণে সেই শান্তিচুক্তি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি