মুসলিম বিদ্বেষী বিজ্ঞাপন; শ্রীঘরে ভারতীয় ব্যবসায়ী

মুসলিম বিদ্বেষী বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রেফতার ভারতের চেন্নাইয়ের এক বেকারির মালিক। অভিযুক্ত বেকারির মালিক সোশ্যাল মিডিয়ায় দোকানের বিজ্ঞাপন দেওয়ায় দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।

চেন্নাইয়ের টি নগরের পার্থসারথি পুরমে অনলাইনেই বেকারির ব্যবসা করেন এক জৈন সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। লকডাউনের জেরে বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকায় তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজের ব্যবসার পসার বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।

তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে বিজ্ঞাপণে মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য লেখায় সকলের রোষাণলের শিকার হন।

বিপণীর মালিক লেখেন, “জৈনদের দিয়ে বানানো হয়, এখানে কোনো মুসলিম কর্মীরা কাজ করেন না।” বিপণি মালিকের এই বিজ্ঞাপন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফলে বেকারি মালিকের বিরুদ্ধে ওঠে সমালোচনার ঝড়।

প্রশ্ন ওঠে, লকডাউনের আবহে ভারতে জাতি-ধর্ম-বর্ণের উর্ধ্বে গিয়ে সকলকে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সেখানে কী করে একজন বেকারি মালিক শুধুমাত্র নিজের ব্যবসার বৃদ্ধিতে মুসলিম বিরোধী বিজ্ঞাপন দিতে পারেন?

স্থানীয় থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জাতি বিদ্বেষী বিজ্ঞাপন দিয়ে সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

গত মাসেই চেন্নাইয়ের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের ১০০ প্রাক্তন আমলা চিঠি লেখেন। তারা অনুরোধ করেন করোনা আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমদের উপর অত্যাচার বন্ধ করতে। মানুষের মন থেকে ‘মুসলিমরাই করোনা সংক্রমণের উৎস’ এই ধারণা দূর করা প্রয়োজন বলে জানান।

কারণ কোনো রোগ সংক্রমণের পূর্বে কোনো মানুষের জাত বা ধর্ম দেখে না। সেখানে সকলেই এক। সংবাদ প্রতিদিন।

এবারের ঈদে পোশাক না কিনে সে টাকায় গরিব অসহায়দের ত্রাণ দিন: ইলিয়াস কাঞ্চন

এবার ঈদে পোশাক না কিনে সে টাকায় অভাবী-অনাহারি মানুষের ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন-নিসচার এই চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিবছর ঈদুল ফিতরে যাকাত দেওয়া হয়। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি পুরো ভিন্ন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রচুর মানুষ বেকার।

তাদের হাতে কাজ নেই। ঘরে নেই খাবার। এ ধরনের অভাবী ও অনাহারি মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়াটাই এখন মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করেন চিত্রজগতের অন্যতম এই তারকা। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন-নিসচার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি অর্থবানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ঈদে হাজার হাজার টাকার কেনাকাটা না করে সেই টাকার সমপরিমাণে ত্রাণ সহায়-সম্বলহীন মানুষকে দিন। ধর্মেও আছে, দান-খয়রাত করলে ৭০ গুণের বেশি সুফল আখেরাতে মিলবে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিন সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসা এই অভিনেতা আরও বলেন, গরিব ও শ্রমজীবী মানুষ এখন খেতে পারছে না। এসব মানুষের ঘরে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছানো দরকার। মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে ও খাদ্যসহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ানোই এখন আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। এই মানসিকতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ালে করোনার দুর্যোগ চলে যাবে।