আফ্রিকার টিম্বাকটুয়ে প্রাচীন পাণ্ডুলিপির সমাহার

ইথোপিয়ায় বর্তমানে প্রায় দুই লক্ষ ৫০ হাজারের মতো প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়, যা টিম্বাকটু গ্রন্থাগার থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া কাসর ইবরাহিমের দক্ষিণ মিশরীয় শাখায় প্রাচীন সুদানের মুকুরিয়া সম্রাজ্যের হাজারের বেশি নথিপত্র পাওয়া যায়, যা ৮ টি ভাষায় লিখিত। আফ্রিকার অন্যান্য শহরেও এ ধরনের অনেক প্রাচীন নথিপত্র ও পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে।

এদিকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির তথ্য মতে, শুধুমাত্র টিম্বাকটুতে সাত লক্ষের বেশি পাণ্ডলিপি সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া অগ্নিকাণ্ড, ছিনতাই ও পোকার কামড় থেকে রক্ষা পেয়ে গিনি ও ঘানার দক্ষিণাঞ্চলে ভূমধ্য সাগরের উপকূলে প্রায় এক মিলিয়নের মতো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়।

টিম্বাকটুকের সাধারণ পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও ৬০ টিরও বেশি লাইব্রেরি পরিচালনা করে। এর অনেকগুলো শহরের যুদ্ধাবস্থা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১৬ ও ১৭ শতাব্দির প্রখ্যাত চিন্তাবিদ আহমাদ বাবার নামে ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আহমাদ বাবা ইনস্টিটিউট। আফ্রিকায় প্রাচীন পাণ্ডুলিপির জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত এটি। তবে ফরাসি ঔপনিবেশিকতার সময়ে এখান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন গ্রন্থ হারিয়ে যায়।

মূলত, এ অঞ্চলে ফরাসি ভাষার আধিপত্য শুরু হওয়ার পর অনেকে পাণ্ডুলিপির ভাষা বোঝার দক্ষতা হারিয়ে ফেলে। তবে ১৯৮৫ সালের পর থেকে আবার আফ্রিকার অধিবাসীরা নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নিজের ভাষায় উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়।
ইসলামের মৌলিক গ্রন্থাবলি, কোরআন, হাদিস ও বিখ্যাত মনীষীদের গ্রন্থাবলি পাণ্ডুলিপির মধ্যে আছে। এছাড়া ইসলামি আইন, ইতিহাস, গণিত, ভূগোল ও বিজ্ঞানের বিষয়েও বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি আছে।

সূত্র: দ্য আফ্রিকান হিস্ট্রি

আরও সংবাদ

কুয়েতে বাংলাদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল
গালফ নিউজ ও আল-কাবাস- এর রিপোর্ট

কুয়েত কারাগারে বন্দি বাংলাদেশের এমপি শহিদুল ইসলাম পাপুলের দুর্নীতি মামলার পর তার সঙ্গে যোগসাজস থাকার কারণে কুয়েতের বেশ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। এরপর কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসটেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল শেখ মাজেন আল জারা স্বাক্ষরিত বাংলাদেশিদের নিয়োগ পত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে গালফ নিউজ ও আল-কাবাস।

কুয়েতে সাড়ে ৩ লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েক হাজার এমপি পাপুলের কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। এদের কতজনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে সে সম্পর্কে কুয়েত সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে বলা হয়েছে পাপুলের কোম্পানি যেসব অবৈধ নিয়োগ পত্র দিয়েছে এবং যেসব কাগজে জেনারেল শেখ মাজেন স্বাক্ষর দিয়েছেন তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাপুলের কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগকৃত বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট, ভিসা ও নিয়োগ সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব বাংলাদেশিদের অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে যেগুলো পাপুলের কোম্পানির মাধ্যমে দেশটিতে নিয়োগপত্র পেয়েছে এবং জেনারেল শেখ মাজেন সম্পৃক্ত রয়েছেন।

আল-কাবাসের খবরে বলা হয়, জেনারেল শেখ মাজেন বেশ কিছু সিরিয় নাগরিককে কুয়েতের ভিসাপত্রে স্বাক্ষর করেন। যদিও সিরিয়ার নাগরিকদের আগেই কুয়েতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেনারেল শেখ মাজেনের বিরুদ্ধে এমপি পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ট্রাভেল এজেন্সির এক পরিচালককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে এমপি পাপুল দু’জন কুয়েতি সংসদ সদস্য সাদাউন হাম্মাদ ও সালা খোরশিদকে ৫ লাখ ৭০ হাজার কুয়েতি দিনার ঘুষ দেয়ার কথা স্বীকার করার পর তাদের গ্রেফতারের অনুমতি চেয়েছেন দেশটির বিচারবিভাগ। গত ১ জুলাই দু’জন কুয়েতি সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় ১০ জন কুয়েতি কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।