বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র বিক্রি করতে চায় তুরস্ক!

তুরস্ক সরকার এবং ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানকে উদীয়মান রফতানি বাজার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দেশটির বাণিজ্য বিষয়ক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘তুর্কি ব্যবসায়ী ও পণ্যের জন্য এই তিন দেশ এখন সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বাজার।’

পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন তুর্কি কূটনীতিক বলেছেন যে তিনটি এশীয় দেশের সাথে তুরস্কের “মসৃণ, বন্ধুত্বপূর্ণ, সমস্যা-মুক্ত রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে”। তার দাবি এই তিন দেশই তুর্কি সংস্থাগুলিকে রফতানি চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তুরস্কের বিনিয়োগ বোর্ড ও পণ্য সামগ্রী এক্সিবিসন কমিটির চেয়ারম্যান হাকান কুর্ট পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানকে তুর্কি প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ শিল্পের “হট মার্কেট” হিসাবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, এক দশক আগেও আমাদের প্রতিরক্ষা পণ্য সামগ্রী উৎপাদনে যে সমস্যা ছিল তা কাটিয়ে উঠেছি।

তাতে এখন বলা যায় আমাদের পণ্যের বিক্রয়যোগ্য প্ল্যাটফর্মের অভাব আর নেই।
কুর্ট আশা করেন আগামী ১০ বছরে এই তিন দেশে ৫ বিলিয়ন ডলার সমমানের তুরস্কের তৈরি প্রতিরক্ষা পণ্য এবং মহাকাশ সম্পর্কিত পণ্য রফতানি করতে পারবে।

তবে আঙ্কারার এক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এশিয়া এই বাজারগুলি সম্পর্কে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান “এই দেশগুলির হার্ডওয়্যার প্রয়োজন। তুরস্কের সাথে তাদের ভালো রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

তবে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কারণে নগদে পণ্য কেনার অবস্থায় অনেক সময় তারা থাকে না। আবার অনেক সময় তুরস্কের তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে অন্য দেশের লাইসেন্স চুক্তি থাকে তাতে পণ্য বিক্রি করতে সমস্যার সৃষ্টি হয়’।

উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ২০১৮ সালে তুরস্ক এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (টিএআই) পাকিস্তানের কাছে ৩০ টি ওয়ান টুয়েন্টি নাইন এটাক হেলিকপ্টার বিক্রি করার জন্য দেড় বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। তবে চুক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রফতানির লাইসেন্স চুক্তি সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

এ ক্ষেত্রে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, দেশটি সম্পূর্ণ নিজেদের তৈরি নৌযান, টহল নৌকা, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, ড্রোন এবং সাজোঁয়া যান পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানকে অনায়াসেই বিক্রি করতে পারে। তাতে কোন ধরনের সমস্যা তারা দেখছেন না।

তারা আরও জানাচ্ছেন এতে করে এই মুসলিম দেশগুলো যে কোন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তুরস্কের পাশেই থাকবে। বিনিময়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সবল করে নিতে পারবে বলে অভিমত দিয়েছেন দেশটির আন্তর্জাতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ডিফেন্স নিউজ ডট কম, ভাষান্তর: শাশ্বত সত্য

তুরস্কের সহায়তা চাইল ফিলিস্তিন

ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ সংহতি প্রচেষ্টা ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় তুরস্কের সহায়তা চেয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মাহমুদ আব্বাস।

এ সময় তিনি ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ধর্মনিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি দল ফাতাহর সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার ব্যাপারে এরদোয়ানকে অবগত করেন।

এছাড়া ফিলিস্তিনি নাগরিক ও অন্যান্য দলগুলোর ওপর মার্কিন প্রশাসনের চাপ প্রয়োগের ব্যাপারেও আলোচনা করেন তারা।

টেলিফোনে আলোচনার সময় মাহমুদ আব্বাস তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ফিলিস্তিনের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যন্তরীণ বিভাজনের অবসানে ঐক্যমতে পৌঁছায়। অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের নীতিতেও রাজি হয় তারা।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

যেভাবে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক সম্পর্ক!

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, পাকিস্তানের সামিরক নির্ভরতা পুরোপুরি ছিল পাশ্চাত্য বিশ্বের ওপর। অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তান বুঝতে পারে যে পাশ্চাত্য দুনিয়ার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।

বিশেষ করে পাকিস্তানের কাছে এফ-১৬ বিক্রি বাতিল করার জন্য প্রেসলার অ্যামেন্ডমেন্টের অধীনে এফ-১৬ চুক্তির ওপর মার্কিন অবরোধের সময় বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। ওই অবরোধ আবার পাকিস্তানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দেশটি বুঝতে পারে যে সামরিক উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে, বিশেষ করে দুর্বল অর্থনীতি ও প্রতিটি ফ্রন্টে শত্রু থাকায়।

ছয় বছরের ব্যবধান ও সাশ্রয়ী জঙ্গিবিমান ক্রয়ের চেষ্টায় পাকিস্তান দেশীয় জঙ্গিবিমানের ডিজাইনের জন্য চীনে যায। এর ফলে চতুর্থ প্রজন্মের জেএফ-১৭ জঙ্গিবিমানের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

১০ বছর পর এখন পাকিস্তান চীন থেকে কিছু ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এনে নিজেরাই পুরোপুরিভঅবে জেএফ-১৭ নির্মাণ করতে পারে। জেএফ-১৭ দিয়ে বিমানবাহিনীল ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে কী হবে?

নৌবাহিনীর ফ্রিগেট, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ও ড্রোনের জন্য চীনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল পাকিস্তান। কিন্তু চীন নিজে রুশ প্রযুক্তিতে নৌবাহিনীর বিকাশ ঘটাচ্ছে।

তা ব্যয়বহুল এবং দেশীয় নয় পুরোপুরি। ২০১৮ সালে পাকিস্তান ১৭ হাজার টনের ফ্লিট ট্যাঙ্কার ক্রয়াদেশ দেয় তুরস্ককে। এটি তুর্কি একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানির মাধ্যমে করাচি শিপিয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে।

এটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর পাকিস্তান চারটি অপেক্ষাকৃত কম ফিচারের ছোট ফ্রিগেট কোরভেটের ক্রয়াদেশ দেয়। তুরস্কের সাথে এ নিয়ে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি হয়।

ওই সময়ের তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী নুরেত্তিন কানকলির মতে, ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ওই চুক্তিটি তুর্কি সামরিক ইতিহাসে বৃহত্তম। দুটি এডিএ ক্লাস কোরভেট নির্মিত হবে তুরস্কে, আর বাকি দুটি তৈরি করা হবে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি অনুযায়ী করচি শিপিয়ার্ডে।

পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র সরিয়ে দেয়ার পরও দেশটি আবার মার্কিনিদের কাছে গিয়েছিল অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার জন্য। এবারও যুক্তরাষ্ট্র এসব হেলিকপ্টার বিক্রি করতে অস্বীকার করে।

ফলে পাকিস্তানকে পুরনো এএইচ-১ কোবরা হেলিকপ্টার পরিবর্তনের জন্য বিকল্প চিন্তা করতে হয়েছে। অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য পাকিস্তান দুটি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বাছাই করে : চীনা জেড-১০ ও তুর্কি-১২৯ অ্যাটক।

বেলুচিস্তানের উত্তপ্ত মরুভূমি থেকে উত্তরের শীতলতম স্থানে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ব্যবহারের কয়েক মাসের প্রবল প্রয়াসের পর পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নেয় তুরস্কের টি-১২৯ অ্যাটক হেলিকপ্টার কেনার। কারণ এর ইঞ্জিন অনেক বেশি শক্তিশালী।

আর তা যুক্তরাষ্ট্রের নক্সায় তৈরী। ২০১৮ সালের ২৫ মে পাকিস্তান ৩০টি টি-১২৯ অ্যাটক হেলিকপ্টারের ক্রয়াদেশ দেয়। তবে এসব হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের রফতানির লাইসেন্স দিতে যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকৃতি জানানোর কারণে দুই বছর পরও এগুলোর উৎপাদন শুরু হয়নি।

কেবল এটিই নয়, পাকিস্তানের সাথে এফ-১৬ চুক্তি করতেও অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে পাকিস্তানকে পুরনো ব্লক ১০/১৫ এফ-১৬এ/বি আধুনিকায়নের জন্য তুরস্কের দ্বারস্থ হয়। এর আওতায় পাকিস্তানের এফ-১৬কে সর্বশেষ এফ-১৬ মানের আধুনিকায়ন করে দেয় তুরস্ক। এছাড়া পাকিস্তানের তিনটি সাবমেরিনও হালনাগাদ করে দিচ্ছে তুরস্ক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। কারণ পাকিস্তান সামিরক ড্রোন, রাইফেল ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রয়াদেশ দিতে পারে।

সূত্র: দুনিয়া নিউজ

ভারতের উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় চীনের হামলা!

সীমান্ত উত্তেজনার পাশাপাশি ভারতের উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় নজর পড়েছে চীনের।

মার্কিন এক সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভারতের উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে একাধিকবার আক্রমণ চালিয়েছে চীন। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২০১৭ তেও একই ধরনের হামলা চালানো হয়।

আমেরিকার চায়না এরোস্পেস স্টাজিড ইনস্টিটিউটের (সিএএসআই) রিপোর্টে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে।

২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তুলে ধরে ১৪২ পাতার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সিএএসআই।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাকাশে উপগ্রহ প্রতিরোধ প্রযুক্তি রয়েছে চীনের। তার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মহাকাশ প্রযুক্তি এবং নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবীকে অনুসরণ করে চলা উপগ্রহের উপর হামলা চালায় তারা।

এর আগে ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সংস্থা কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের প্রকাশিত একটি রিপোর্টেও একই দাবি করা হয়।

কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘে এরদোগানের বক্তব্যকে স্বাগত জানালো পাকিস্তান

কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘে এরদোগানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের ৭৫তম অধিবেশনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের উদ্বেগ প্রকাশকে ভারত ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বললেও কাশ্মীরি জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলায় এরদোগানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। -দ্য হিন্দু, ডন

এরদোগানের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টুইটে বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাশ্মীরের মানুষের অধিকার নিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ভাষণকে গভীরভাবে স্বাগত জানাই।

তুরস্কের নিরবিচ্ছিন্ন সমর্থন কাশ্মীরিদের অধিকার ও সংগ্রামের শক্তির উৎস। বিশেষ অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় এরদোগান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রধান অন্তরায় হল অমীমাংসীত কাশ্মীর সমস্যা।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আমরা জাতিসংঘের শর্তাবলীর প্রেক্ষিতে এবং কাশ্মীরের স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আলোচনার মাধ্যমে এই জ্বলন্ত সমস্যার সমাধানে আগ্রহী।

এদিকে মঙ্গলবার জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমতি টুইটে তুরস্কের অবস্থানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কাশ্মীর প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মন্তব্য আমরা দেখেছি। এতে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

এরদোগানের কড়া ভাষণে অধিবেশন ত্যাগ করল ইসরাইল

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের কঠোর সমালোচনার মুখে অধিবেশন ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ইসরাইলের একজন প্রতিনিধি।

আগের রেকর্ড করা এ বক্তব্যে এরদোগান ইসরাইলকে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে দখলদার, আগ্রাসী এ সন্ত্রাসী পলিসি গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেন। খবর আনাদুলো এজেন্সির।

ইরাসাইলের নোংরা হাত জেরুজালেরমের পবিত্রতা ও গোপনীয়তা ধ্বংস করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনটি ধর্মের পবিত্র এ স্থানের দিকে ক্রমেই ইসরাইল হিংসাত্মক হয়ে ওঠছে। গত আর্ধশতাব্দী ধরে ফিলিস্তিনের জনতা ইসরাইলেরর জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ চালিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন এরদোগান।

১৯৬৭ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে বলেও মনে করেন তিনি। ফিলিস্তিনের সম্মতি ছাড়া কোন ধরণের চুক্তিকে সমর্থন দিবেন না বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক বৃদ্ধির মধ্যেই এরদোগানের এ বক্তব্য নতুন করে উ’ত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

ফিলিস্তিনকে নতুন করে গড়তে তুরস্কে হামাস ও ফাতাহর বৈঠক

আন্তঃ ফিলিস্তিন পুনর্মিলনকে ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনার জন্য ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ফাতাহের প্রতিনিধিদের মধ্যে তুরস্কে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা খলিল আল-হাইয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এই মাসের শুরুর দিকে রামাল্লাহ ও বৈরুতে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবারের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, হামাস ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য একটি বিস্তৃত ও জাতীয় কৌশল অর্জনের প্রত্যাশায় জাতীয় ঐক্য অর্জনে আগ্রহী।

এর আগে ফাতাহর মুখপাত্র মাওনির আল-জাগৌব এক টুইট বার্তায় বলেন, ফিলিস্তিনের আন্তঃবিভেদ শেষ করতে এবং গত ৩ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য হামাস প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবে ফাতাহর প্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাদের বৈঠক চলাকালীন হামাস ও ফাতাহ আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের দ্বন্দ্ব নিরাময় করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নীতি প্রতিষ্ঠাসহ অনেকগুলি বিষয়ে একমত হন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সীমান্ত এলাকাকে আবারো অশান্ত করছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য জাতিসঙ্ঘের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে মিয়ানমারকে। অভিযোগ রয়েছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের আবাসস্থল ধ্বংস করা হয়েছে।

রাখাইনসহ সীমান্ত অঞ্চলকে আবার অশান্ত করে তুলছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। যা এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। সেই সাথে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল।

প্রায় এগারো লাখের মতো রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের কথায় উঠে আসে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ। যাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে জাতিসঙ্ঘ।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম যেখানে ছিল সেখানে এখন সরকারি এবং সেনাবাহিনীদের জন্য ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে পুলিশের ঘাঁটিও তৈরি করেছে মিয়ানমার সরকার।

উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সদস্য সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। শুধু মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের পরে রাখাইনে আরাকানিদের বিরুদ্ধে অপারেশন শুরু করেছে মিয়ানমার বাহিনী। গত কয়েক মাসে অন্তত ২০টি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা। এক লাখেরও বেশি আরাকানি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গৃহহারা হয়েছে।

মিয়ানমারে আগামী নভেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ পরিস্থিতিতে রাখাইন অশান্ত হলে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলো এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরেও সমস্যা আরো প্রকট হবে।

এ বিষয়ে প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির মহাসচিব এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর ফলে পাশের দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে এখন গণতন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংসলীলা চালানো হচ্ছে।

দীর্ঘদিন দমন-পীড়ন করে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশকে তারা বলপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে সেখানে শূন্যস্থান দখল করে আরাকানিরা।
তিনি বলেন, ‘এখন মিয়ানমার বাহিনী আরাকানিদের বিরুদ্ধে অপারেশন চালাচ্ছে যা পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করবে।’

মিয়ানমার বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল আরাকানি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। এ কারণে তারা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে বিতাড়ন করে কিন্তু এটি একটি ভয়ঙ্কর কৌশল। কারণ এর ফলে ওই এলাকার অর্থনীতি ও রাজনীতি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাখাইনে ধান চাষ, মাছ উৎপাদনসহ আরো সেসব কৃষিকাজ রোহিঙ্গারা করত এখন যেখানে এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড না থাকার কারণে মিয়ানমার অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘকে আরো বেশি তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গফুর এই মহাসচিব বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘকে আরো বেশি স্বচ্ছ ও জবাবদিহি হতে হবে।

মিয়ানমারের বৌদ্ধরা যদি বাংলাদেশে পালিয়ে আসে তবে এখানে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের সাথে তাদের জাতিগত দাঙ্গা হওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ ২০১২ ও ২০১৭ সালে আরাকানিরা রোহিঙ্গাদের অত্যাচার করেছে।’

নতুনভাবে মিয়ানমারের মানুষ বাংলাদেশে আসলে এটি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হবে বলে তিনি মনে করেন।

সবচেয়ে বেশি রক্তঝরা সীমান্তের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত অন্যতম

বৈঠকের পরে বৈঠক চলে, স্বাক্ষর হয় নানাবিধ চুক্তি সমঝোতাও, কিন্তু কোনোভাবেই বন্ধ হয় না সীমান্ত হত্যা। এ দেশে ‘সীমান্ত হত্যা’র সংজ্ঞাই হলো ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নিরস্ত্র মানুষের হত্যাকাণ্ড।

প্রতি বছরের মতো এবারও দু’দেশের ৫০তম সীমান্ত সম্মেলনে আবারও সেই পুরনো ঘোষণা এলো- শূন্যে নামবে এমন হত্যা। যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এখন পর্যন্ত একটি হত্যারও বিচার হয়নি বলেই এই অমানবিকতা বন্ধ হয় না।

দুনিয়া কাঁপানো ফেলানী হত্যার বিচার ৯ বছর ধরে কেনো ঝুঁলে আছে, সেটি জানা যায় নি-আজও। বলা হয়ে থাকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ।

কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর প্রথম ছ’মাসেই বিএসএফ এর হাতে নিহত হয়েছেন ২৫ বাংলাদেশি। আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১১ বছরে এই সংখ্যা ৫ শ’র কাছাকাছি।

এমনকি চলতি মাসেই বিএসএফ’এর হাতে নিহত বাংলাদেশীর সংখ্যা ৪। এই পরিসংখ্যানের উপর দাঁড়িয়েই সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো দু’দেশের সীমান্ত সম্মেলন।

যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি কেউ চোরাকারবারিও হয় তবুও তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। সীমান্তে গুলি চালিয়ে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে, যারা মারছে। এখানে ভারতীয়রা যখন উদ্যোগ নেবে তখনই এসব বন্ধ হবে।

আইনবিদরা মনে করেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুদেশের রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভারত যেমন বৃহৎ রাষ্ট্র, তেমনি এই হত্যা বন্ধে তাকে মহৎ হতে হবে।

ফেলানী হত্যা মামলার আইনজীবী অ্যাড. এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, বাংলাদেশ তার প্রত্যেকটা বৈঠকে সীমান্তকে প্রাইয়োরিটি দিচ্ছে। তারা যদি মনে করে বাংলাদেশ বর্ডার কাশ্মীর, তাহলে সেটা ভুল হবে। পৃথিবীর যেসব সীমান্তে সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝড়ে তার মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত অন্যতম। সময় টিভি

বাগদাদের মাটিতে দূতাবাস খুললে ইসরায়েল নিজেই তার পতন ডেকে আনবে

ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া আলেম মুক্তাদা আস-সাদর বলেছেন, বাগদাদের মাটিতে ইসরায়েল দূতাবাস খুললে নিজেই তার প’ত’ন ডেকে আনবে। ইরাকের অভ্যন্তরে ইসরায়েল একটি কূটনৈতিক মিশন দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসার পর মুক্তাদা এ হুঁশিয়ারি দিলেন।

বার্তা সংস্থা পার্সটুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, মুক্তাদা সাদর সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আল্লাহর শত্রু। তার মাথায় ইরাক নিয়ে কূটচিন্তা রয়েছে। ইরাকে দূতাবাস খুলে তিনি তাঁর সে কূটকৌশল বাস্তবায়ন করতে চান।’

মুক্তাদা সাদর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি তিনি এমন কাজ করেন তাহলে পবিত্র কুরআনের বাণী অনুসারে দখলদার এ শক্তির পতন হবে।

সম্প্রতি আরব দেশ বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে এক চুক্তির মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয়।

এ ঘটনাকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বি’শ্বা’স’ঘাতকতা হিসেবে দেখছে মুসলিম দেশগুলো। এ সম্পর্কে মুক্তাদা সাদর বলেন, ই’হু’দিবাদী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এ পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে তাঁরা শুধু অপমানিত হবেন।

দীর্ঘ ৬ মাস পর ওমরাহ পালনের জন্য কাবাঘর খুলে দিচ্ছে সৌদি

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ ৬ মাস পর ওমরাহ পালনের জন্য কাবা ঘর খুলে দিচ্ছে সৌদি সরকার। আগামী ৪ঠা অক্টোবর থেকে মুসল্লিরা আবারও ওমরাহ পালন করতে পারবেন। মঙ্গলবার সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ মাস থেকেই কাবা ঘর বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ৬ মাসের বেশি সময় পর অবশেষে ওমরাহ পালনের জন্য কাবার দরজা উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে সৌদি প্রশাসন।

দীর্ঘদিন ধরে কাবা ঘর বন্ধ করে রাখায় এ বছর ওমরাহ পালন নিয়ে অনেকটাই হতাশায় ছিলেন মুসল্লিরা। তাদের জন্য এটা আনন্দের খবর যে এ বছরই তারা ওমরাহ পালন করতে পারবেন।

তবে প্রথমেই হয়তো সৌদির বাইরের নাগরিকদের ওমরাহ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রথম ধাপে শুধুমাত্র সৌদির নাগরিক ও বাসিন্দারা ওমরাহ পালনের অনুমতি পাবেন বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, আগামী ৪ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন সৌদির ৬ হাজার নাগরিক ও বাসিন্দা ওমরাহ পালনের অনুমতি পাবেন।

তবে সৌদির বাইরের বিদেশি পর্যটকরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে কাবা ঘরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার হজযাত্রীকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হবে।

এর আগে সৌদির হজ্জ ও ওমরাহ মন্ত্রী মোহাম্মদ সালেহ বেন্তেন বলেছেন, জনস্বাস্থ্য এখনও অবধি রয়ে গেছে রাজ্যের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসাবে, তারপরও ধীরে ধীরে ওমরাহ পালনের জন্য একটি তিন-পর্যায়ের পরিকল্পনা নিয়েছে সৌদি সরকার। প্রথম পর্যায়ে সৌদি নাগরিক এবং সৌদিতে বসবাসকারী প্রবাসীদের ওমরাহ করার অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে ওমরাহ সেবা স্বাভাবিক ক্ষমতার ৪০ শতাংশ কাজ করবে। দ্বিতীয় ধাপে এটি ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং তিন পর্যায়ে তিনটি সম্পূর্ণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হবে এবং রাজ্যের বাইরে থেকে আসা ওমরাহ পালনকারীদের ফিরে আসতে দেওয়া হবে। তিনটি পর্যায়ের সময়, মন্ত্রণালয় বলেছে, কঠোর স্বাস্থ্য সতর্কতা প্রয়োগ করা হবে।

জাতিসংঘ আবারো ব্যর্থ হয়েছে: এরদোগান

করোনা ইস্যুতে জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান বলেছেন, জাতিসংঘ আবারো ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পরে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোয়ান বলেন, ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কয়েক সপ্তাহ পরে জাতিসংঘ করোনার অস্তিত্বের বিষয় স্বীকার করে। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ তারা নেয়নি বা বলেনি।

তিনি বলেন, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের মানবিক সংকট সমধানে প্রতিটি পদক্ষেপে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটিতে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো সংঘাত কবলিত এলাকার পরিস্থিতি উন্নয়নেও ব্যর্থ হয়েছে। মহামারির সময় আবারো ব্যর্থ হলো জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের ৭৫তম অধিবেশনের আগের দিন তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় তুরস্ক একা ১৪৬টি দেশে চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে। যাতে জাতিসংঘের নিস্ক্রিয়তা আবারো প্রমাণ করে।

করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাস সংক্রমণরোধে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় যেসব দেশ এগিয়ে ছিল তাদের মধ্যে তুরস্কও ছিল বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান।

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে তুরস্কে আটটি ভ্যাকসিন পরীক্ষাধীন। আগামী বছরের কয়েক মাসের মধ্যে সেগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে আশাবাদী তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

‘কাবা শরিফের আদলে নির্মাণ হতে পারে অযোধ্যার মসজিদ’

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় অনুযায়ী বাস্তবায়িত হতে যাওয়া মসজিদটি প্রচলিত আঙ্গিকে নয় বরং ভিন্ন আদলে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের (আইআইসিএফ) সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র আতহার হুসেইন।

আতহার হুসেইন জানান, মসজিদের প্রথাগত আদলের বাইরে গিয়ে নির্মাণ হবে এটি। সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফের আদলে এটি নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আতহার জানান, নতুন মসজিদটি কোনও সম্রাট বা বাদশাহের নামে নামকরণ করা হবে না। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন বিবাদের আইনি ইতি টেনে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, অযোধ্যার বিতর্কিত ওই ২ দশমিক ৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। আর অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে ৫ একর জমি। মন্দির ও মসজিদ নির্মাণে হিন্দু ও মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের আলাদা দুটি সংস্থাকেও দায়িত্ব দেয় আদালত।

রায় অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গত আগস্টে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে শুরু করেছে রাম মন্দির নির্মাণ। আর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেয় রাজ্য সরকার। l

সেখানে মসজিদ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করতে ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে উত্তর প্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড।

ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেইন জানান, ধন্নিপুর গ্রামে নির্মাণ হবে ১৫ হাজার বর্গফুটের মসজিদ। এটি বাবরি মসজিদের আকারের সমান।

তিনি বলেন, মসজিদটির আদল হবে অন্য মসজিদগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। স্থপতি এসএম আখতার ইঙ্গিত দিয়েছেন এটির আদল মক্কার কাবা শরিফের মতো বর্গাকৃতির হতে পারে।

কাবা শরিফের মতো ধন্নিপুরের মসজিদটিও গম্বুজ ও মিনার ছাড়াই নির্মাণ হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আতহার হুসেইন বলেন, সেটা একটা সম্ভাবনা হতে পারে। এই বিষয়ে স্থপতিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেইন বলেন, মসজিদটির নাম বাবরি মসজিদ হবে না।

কোনও বাদশাহ কিংবা সম্রাটের নামেও এটির নামকরণ হবে না। আমার ব্যক্তিগত মত হলো এটিকে ধন্নিপুর মসজিদ নাম দেওয়া উচিত হবে।

মসজিদ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে জাদুঘর, হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানান আতহার হুসেইন। এজন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্দেশে ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট বানানোর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। ওই ওয়েবসাইটে ভারতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের লেখা থাকবে বলেও জানান আতহার।

তিনি বলেন, পোর্টালের কাজ এখনও কিছুটা বাকি রয়েছে আর সে কারণে অনুদান সংগ্রহ শুরু করা যায়নি।

উল্লেখ্য, অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী ‘করসেবকেরা’ ভেঙে ফেলে। তাদের দাবি, ওই স্থানেই ছিলো প্রাচীন রাম মন্দির।