বাংলাদেশের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই: তুরস্ক

তুরস্কে সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক পরবর্তি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বাংলাদেশকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য কষ্ট হবে ভেবেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জায়গা দেওয়ার জন্য তুরস্ক বাংলাদেশের প্রশংসা করে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আজ সোমবার তুরস্কের শীর্ষ এ কূটনীতিক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জায়গা দেওয়ার প্রচেষ্টার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেছেন – “আমরা জানি যে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল বোঝা এবং বিশাল দায়বদ্ধতা যে ৪ মিলিয়নেরও বেশি শরণার্থীদেরকে তাদের রাখতে হচ্ছে। সুতরাং এটি তাদের কাঁধে একটি বিশাল দায়িত্ব” আমরা তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করি এবং তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

একই সাথে তিনি উল্লেখ করে বলেন যে, তুরস্ক তার সমস্ত সামর্থ্য নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শততম বার্ষিকীর শুভেচ্ছাও জানান।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন যে, তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার তবে তা এখন ২ বিলিয়ন ডলার করা উচিত।

এর আগে সোমবার তাদের বৈঠকে দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এরদোগানকে সপরিবারে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে সপরিবারে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমি আশা করি শিগগিরই তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসবেন। একই সাথে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আসবেন। এছাড়াও আমি বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানাই বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে।

আমি বিশেষভাবে আশাবাদী তিনি আমাদের বাংলাদেশ সফর করবেন। একই সাথে আমি আরো আশাবাদী, তার সাথে ফার্স্ট লেডিও (এরদোগানের সহধর্মিনী আমিনা এরদোগান) আসবেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের আঙ্কারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান গণভবন হতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু।

তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ২০১২ সালে রজব তাইয়েব এরদোগানের আমন্ত্রণে তার তুরস্কের আঙ্কারা সফরের কথাও বর্ণনা করেন।

২০১২ সালে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু হয়। সেসময় এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে।

তুরস্কের আঙ্কারার বাংলাদেশ মিশন জানায়, আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।