ভারত ঘেরাও; বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর করেছে চীন

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের কাছে তার দেশের কোম্পানিগুলোকে ঢাকা নিয়ে আসাই শুধু অগ্রাধিকারের বিষয় নয়। তার সুস্পষ্ট লক্ষ্যগুলোর মধ্যে আছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত শেষ করা। এগুলোর একটি হলো কক্সবাজারের পেকুয়ায় অত্যাধুনিক সাবমেরিন ঘাঁটি বিএনএস শেখ হাসিনা নির্মাণ।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পদচ্ছাপ জোরদার করার প্রচেষ্টায় চীন এরই মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দুটি সাবমেরিন সরবরাহ করেছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ করে তোলার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন পেশাদার কূটনীতিক লি জিমিং (৫৮)।

গত বছর দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনা শুধু জিনপিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-কেই সমর্থন করেননি, তিনি প্রতিরক্ষা শিল্প জোরদারে চীনের পরিকল্পনার সঙ্গেও একমত হন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা।

নয়া দিল্লীর সঙ্গে শেখ হাসিনার উষ্ণ সম্পর্ক বিরাজ করলেও বেইজিং ভর্তুকিমূল্যে বন্দর, বিমানবন্দর বা কক্সবাজারে সাবমেরিন ঘাঁটির মতো অবকাঠামো নির্মাণ করে উপমহাদেশে তার উপস্থিতি জোরদার করতে চাচ্ছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আইএএনএসকে জানায়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান পলি টেকনলজিস ইনক (পিটিআই)-কে সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ দেয়া হয়েছে। এটি পরিপূর্ণভাবে নির্মাণে ব্যয় হয় হবে বাংলাদেশ মুদ্রায় ১০,৩০০ কোটি টাকা।

নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সাবমেরিন ঘাঁটিতে হরফ, ব্যারাক, গোলাবারুদের ডিপো ও মেরামত ডেকের মতো সুবিধাগুলো থাকবে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানায়, কক্সবাজারের ঘাঁটিসহ বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে রাষ্ট্রদূত লি-কে দায়িত্ব দিয়েছে বেইজিং।

লি এর আগে ইউনান প্রদেশের সরকারে কাজ করেছেন। তার সঙ্গে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএএন) শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি নিজেই সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ তদারকি করছেন। তিনিই বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে চীনের তৈরি যুদ্ধ জাহাজ (করভেট) দ্রুত সরবরাহের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন কেনে। বর্তমানে এগুলো কক্সবাজারের অস্থায়ী ঘাঁটি থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। সাবমেরিনগুলো সংগ্রহের পর এগুলো পরিচালনার জন্য একটি অত্যাধুনিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে বেইজিংকে অনুরোধ করে ঢাকা।

ঢাকা পটুয়াখালী জেলাতেও নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে। সেখানেও সাবমেরিন নোঙ্গর করা ও অভিযান চালানোর সুবিধাদি থাকবে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন সমুদ্রবন্দর পায়রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই নৌঘাঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মাসে চীন থেকে কেনা করভেট বিএনএস সংগ্রাম কমিশন করেন। তবে প্রতিবেশির সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য রাখতে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদানেরও প্রশংসা করেন। হাসিনা দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেন কীভাবে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান সীমিত সম্পদ নিয়ে নতুন স্বাধীন হওয়া দেশটির যাত্রা শুরু করেছিলেন। সূত্র: আইএএনএস

মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো মুসলিম প্রার্থী দিলো এনএলডি, তালিকা ঘোষণা

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমক্রেসি (এনএলডি) বৃহস্পতিবার আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছে। এই তালিকায় দলের বর্তমান এমপি ও মুখ্যমন্ত্রীদের বেশিরভাগ স্থান পেয়েছেন। তবে এবারই প্রথম দেয়া হয়েছে মুসলিম প্রার্থী। বেড়েছে নারী প্রার্থী সংখ্যা।

আগামী ৮ নভেম্বর মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের তিন মাস বাকি থাকতে দলটি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলো। তালিকায় ১,০০০-এর বেশি প্রার্থীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশের মতো বর্তমান এমপি, যারা ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

ওই নির্বাচনে সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)-কে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে ২০১৬ সালে সরকার গঠন করে এনএলডি।

বৃহস্পতিবার নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রতি এক ভিডিও বার্তায় এনএলডি চেয়ারউইমেন ও স্টেট কাউন্সিল দাও অং সান সু চি স্বীকার করেন যে তালিকায় নতুন মুখ কম।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে নির্বাচনী অভিজ্ঞতা থেকে দল ‘আনুগত্য’ ও ‘অভিজ্ঞতা’কে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তবে আগের চেয়ে এবার বেশি নারী প্রার্থী দিয়েছে এনএলডি। প্রার্থীদের মধ্যে ২০ শতাংশ নারী। ২০১৫ সালে এই হার ছিলো ১৫ শতাংশ।

এবারই প্রথম দুইজন মুসলিম প্রার্থী দেয়া হয়েছে। এরা হলেন দাও উইন মিয়া ও কো সিথু মং। দুই জনই সাবেক রাজনৈতিক বন্দী। তারা মান্দালে ও ইয়াঙ্গুন অঞ্চল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

জাতিগত এলাকাগুলোতে স্থানীয় জাতিগত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয় এনএলডি।

সূত্র: দ্য ইরাবতী

আয়া সোফিয়ায় আজ প্রথম জুমা; উপস্থিত হয়েছেন হাজার হাজার মুসল্লি

আয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে রূপ দেয়ার পর প্রথমবারের মতো সেখানে জুমার নামাজ আদায় হতে যাচ্ছে। ইস্তানবুলের গভর্নর আলী ইয়ারলিকায়া বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় বলেন, মুসলমানরা আবেগে আনন্দিত। তারা সেখানে প্রথম জুমায় অংশ নিতে অধীর হয়ে আছেন।

দেড় হাজার বছরের পুরনো ইউনেস্কোর এই বিশ্ব ঐতিহ্যটি ১৯৩৪ সালে জাদুঘর বলে ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে আয়া সুফিয়ার জাদুঘরের মর্যাদা বাতিল ঘোষণা করেন একটি তুর্কিশ আদালত।

রায়ে বলা হয়, এই ভবন মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার সম্ভাব্য বৈধ হবে না। পরে ২৪ জুলাই থেকে সেখানে জুমা আদায় করা হবে বলে ঘোষণা আসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের কাছ থেকে।

তবে ভবনটি অমুসলিম ও বিদেশি পর্যটকদের জন্যও খোলা রাখার কথা তিনি জানিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সমালোচনাও এসেছে।

অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের ক্যাথেড্রাল হিসেবে নির্মিত আয়া সোফিয়া মসজিদে রূপান্তরিত হয় নবম শতকে উসমানীয় বিজয়ের পরে।

টেলিভিশনে দেয়া ঘোষণায় গভর্নর বলেন, জুমা পড়তে আসা মুসল্লিদের ফেস মাস্ক পরতে হবে। সঙ্গে একটি জায়নামাজও নিয়ে যেতে হবে।

সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরাও থাকবেন বলে জানিয়েছেন মেয়র আলী। তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আলী এরবিস বলেন, মসজিদটিতে একসঙ্গে এক হাজার লোক জামাতে অংশ নিতে পারবেন।

দেশটির বিভিন্ন ইসলামপন্থী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জাদুঘরটিকে মসজিদে রূপ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। কিন্তু বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা তার বিরোধিতায় সরব ছিলেন।