করোনা ভ্যাকসিন অতঃপর বাঙ্গালীর চিন্তাধারা – উমর আলী

ঝুঁকি নিন, যদি আপনি জেতেন তাহলে নেতৃত্ব দিবেন, আর হারলে অন্যদের সঠিক পথ দেখাতে পারবেন।””স্বামী বিবেকানন্দ”””

******বিশ্ব যখন বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে এর থেকে মুক্তি পেতে। তাদের তৎপরতার অংশীদার হয়ে নয়, দায়িত্বানুভূতির অবস্থান থেকে একটা আশার আলো আমাদের জন্য।

স্বামী বিবেকানন্দের এই কথাটা জানিয়ে দেয় এটা কোন জীবনের ঝুঁকি নেয়া নয় বরং এই কথাটা দ্বারা দায়িত্ব অনুভূতি জাগ্রত করার জানান দেয়।

কথাটি দ্বারা আমাদের তৎপরতা গুলো আন্দোলিত করার ভাবার্থ প্রকাশ করে । সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী মহা আতঙ্কের এক নাম করোনা ভাইরাস।

মহাবীর রাষ্ট্রগুলো যখন তাদের সাধ্যের বাইরে সামান্য ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে। যখন ক্ষমতার শহর আমেরিকা নিরুপায়! চিকিৎসার নগরী সুইজারল্যান্ড যখন হাহাকার –!!!
তখনি – একটি আশার মূহুর্ত, একটি গর্বের মূহুর্ত।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

“ওরা যদি পারে, আমরাও পারবো।”

“We cannot afford to lose people” বলতেই আসিফ মাহমুদের (ইনচার্জ, গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড) চোখ ছলছল করে উঠাটা হয়তো অনেকেরই নজর এড়িয়ে গিয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে দেশের মানুষের জন্য কতোটা ভালোবাসা ছিলো তা সহজেই অনুমান করা যায়।

আসিফ মাহমুদ ভাই যখন বলছিলেন যে আমরা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছি, কথাটি বলতে বলতেই উনার কাঁন্না চলে আসছে!। সত্যি আমি শুনে নিজেই শিহরিত হয়েছি বুকভরা আশা ও সাহস, মনের এক কোণে বিচরণ করে হ্যাঁ এবার পারব।

আমার মতো দেশের অগণিত মানুষ তাকিয়ে আছে সম্ভাবনার দিকে যার সফলতা এনে দিবে এক সম্ভাবনার নতুন দ্বার। ড. আসিফ মাহমুদের কথাগুলির সাথে মিশে আছে জন্মভূমির জন্য কিছু একটা করার তাড়না।

উপহাস করা প্রতিবন্ধী প্রজন্ম শুধু হাসির রিয়েক্ট দিতেই পারবে। ওনার যোগ্যতা শুধু শিক্ষা বা গবেষণা নয়। এদেশকে কিছু দেয়ার তাড়না, দেশকে ভালোবাসা ❤
এই উদ্যোগের সফলতা সবার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাক।

সফলতা আসুক বা নাই আসুক কেউ একজন এগিয়েছে। বলেছে “ওরা যদি পারে, আমরাও পারবো।”

গ্রামবাংলায় কথিত আছে
“””বাড়ীর ষাঁড় বাড়িতে খায়না,

এদেশে জ্ঞানী অনেক জন্মায় কিন্তু সমাদর পায়না, যতক্ষণ পর্যন্ত বিদেশে না যাচ্ছে। আবার বিদেশে সমাদৃত হলেও, দেশে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা হয়।

আমাদের দেশের একটা সমস্যা হলো আমরা যে কোন কাজে নিজে তো কিছু করতে পারবেনা.. অন্যকে যখন দেখে তার থেকে ১০০ ধাপ এগিয়ে গেছে, তখন হিংসা শরীর জ্বলে ওঠে চাল চোর, গম চোরদের… নিজেরা তো সারাজীবন চুরি করে খেয়েছে, ভালো মানুষ কিছু করতে গেলে বাংলাদেশের কিছু পাগলা বেয়াদব দের কারনে ট্রল এর শিকার হয়। ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার জলজ্যান্ত উদাহরন?…. কোন দেশে বসবাস করি হায়রে কপাল!!

মিডিয়া পাড়ারও এমন একটা ভাব যেন এটা মিথ্যা দাবী, তারা মানতেই খুব একটা রাজি নয়, তাদের বিশ্বাসই হয় না!! দেশের একটি প্রতিষ্ঠান করোনা’র ভ্যাক্সিন আবিষ্কারে প্রাথমিক সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছে, তা কম কিছু? তাদের উৎসাহ দিন, টেনে নিন, এ নিয়ে অনেক নাটক আমরা লক্ষ্য করেছি আফসোস!

কিটের মতো দুরে ঠেলে দেবেন না! অথচ, দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের এমন প্রাথমিক অর্জনে আপনি কৃপনতা দেখাচ্ছেন!
আসিফ মাহমুদরা সফল হোক, আর ব্যর্থ হোক সেটা পরের বিষয়। পরবর্তী কাউকে রাস্তা দেখিয়ে দিলেন এই মানুষটা।

হয়তো তার থেকেও ভালো গবেষক আছে কিন্তু আসিফ মাহমুদের এই অসামান্য তৎপরতা সবাইকে জাগিয়ে দিলো আগামীর সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করতে। আফসোস! যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ রেজাল্টধারীরা তথাকথিত দলীয় পরিচয়ের ট্যাগ দিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে আমাদের দেশের কিছু সুবিধাভাগী !

তাহলে তাদের থেকে কি বা আশা করা যায়। যেদেশে স্বনামধন্য ডাক্তার মঈনের মতো মানুষ সামনের কাতারে থেকে সেবা দিলেন অথচ তার সাথে এদেশের আচরন আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমরা কতটা নির্লজ্জ।

ডাক্তার মঈনের মত মানুষকে দলীয় ট্যাগ লাগিয়ে ঝড়ে দিলো এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারাকে। এই ভাইরাসের কঠিন মুহুর্তে মেডিকেল বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য সবাই প্রশংসার দাবীদার। এই মুহুর্তে এরা জাতির ক্রান্তিলগ্নে সেবা প্রদান যা জাতির কাছে চিরঋনী।

বাংলাদেশের অনেক মেধাবী সন্তান পৃথিবীর অনেক উন্নত রাষ্ট্রের ভালো ভালো পজিশনে কাজ করে।দুঃখজনক তাদের মেধাকে বাংলাদেশে কাজে লাগানোর সুযোগ হয় না। এদেশে জ্ঞানী জন্মায় কিন্তু পরিচর্যার অভাবে বাহিরে চলে যায়।

আজকাল সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে অনায়াসে সব খবর মুহুর্তে পৌছায় সবার কাছে। কিন্তু আজব পাবলিক আমরা যাই ঘটুক দেশে কিছু করলে যাচাই-বাছাই না করে যা তা ছড়িয়ে দেই যা অনায়াসে ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। এগুলো থেকে সচেতন হওয়া সময়ের দাবী।

আবার কিছু কিছু মানুষের এইসব বাজে মন্তব্য আর থার্ড ক্লাস ট্রল খুবই স্বাভাবিক। কারন আমরা মোটামুটি সব ব্যাপারে বিশ্বসেরা জ্ঞান পাপী। আমরা যে বিষয়টি পড়ি তার সম্পর্কে তো জ্ঞান রাখিই। যেটা পড়ি না সে সম্পর্কে ১০ গুন বেশি জ্ঞান রাখি।

আর সবচেয়ে বেশি জ্ঞান রাখি যেটা নিজে পাড়িনা সেটা সম্পর্কে। তাই আমাদেরকে দিয়ে এইসব ট্রল খুবই স্বাভাবিক। নির্লজ্জ এবং আত্মসন্মানহীন আমরা বেশিরভাগ বাংলাদেশীই। যতক্ষন আমার স্বার্থ আছে ততক্ষণ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক।

স্বার্থ শেষ বা স্বার্থের সংঘাত, সব ভুল এবং নষ্ট। তখন একমাত্র আমিই ঠিক। এটাই আমরা।
আমি বলছি না, গ্লোব বায়োটেক’র এটি চুড়ান্ত সাফল্য।

তাতে গ্লোব ব্যার্থ হলেও অন্যরা চেষ্টা করতে উৎসাহ পাবে। বিশ্ব জানবে, আমরাও চেষ্টা করেছি…. আমরাও পারি। কেননা আবিষ্কারটা এখনো প্রথমিক পর্যায়ে এখনো অনেক পথ বাকি তবুও এটা আমার কাছে অনেক বড় অর্জন।

যে অর্জনের বর্ননা দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গবেষনা কর্মকর্তার চোখে পানি এসে যায় সে অর্জন আমাদেরকে আশা জাগায়।

আজ প্রি-ক্লিনিকেল ট্রায়ালে সফল হয়েছে। যদি এর পর ওনারা আর সফলতা নাও পান তবুও আমরা গর্বিত। কারন কাল ওনাদের দেখানো পথ ধরেই কেউনা কেউ ক্লিনিকেল ট্রায়াল ১ এ সফল হবে। পরশু আরেক দল ক্লিনিকেল ট্রায়াল ২ এ সফল হবে।

তর্সু ওনাদের সকলের দেখানো পথ এবং সাহসে ভর করেই ক্লিনিকেল ট্রায়াল ৩ এ সফল হবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সন্মানিত করবে। গৌরবে আরো একবার মাথা উঁচু করে জানান দিবে বাংলাদেশ আরো হাজার বারের জন্য “আমরাও পারি”।

আমরা বাংগালী জাতি নিজেকে অতিমাত্রায় জ্ঞানী ভাবতে ভালোবাসি তাই গুনীজনরা আমাদের কাছে শুধুমাত্র হাসির পাত্র হয়েই থাকে আর অন্য দেশের কাছে তারা হয়ে উঠে অমূল্য সম্পদ আফসোস কখন আমাদের জাতিসত্তা জাগ্রত হবে এবং আমরা আমাদের গুনীজনদের সম্মান দিতে শিখব।

সব কিছু নিয়ে ট্রল করি। আসল সোনা গুলির দাম দিতে জানি না। স্যালুট! নিজস্ব অর্থ দিয়ে এমন জিনিস নিয়ে গবেষণার জন্য।
এটা আমাদের বড় পাওয়া।

এই দেশের মানুষ দেশীয় মেধার কদর বুঝেনা। যখন সারা পৃথিবী করোনা ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের কথা বলল তখন আমরা ছিলাম উচ্ছ্বসিত ।
আর আজ আমাদের দেশে একটা কোম্পানি ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করতে যাচ্ছে,তখন আমরা নিশ্চুপ।

আজ ভারত বা অন্য দেশ একটা কিছু বানাইলেও এইদেশে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। অথচ আমাদের দেশে বিপরীত দেখা যায়।
কেউ ভালো কিছু করলে তার গুন দেখি না, শুধু কোথায় একটু চুলকানি আছে সেটাই খুঁজে।

আমি বিশ্বাস করি আপনি আরো অনেক দূর যাবেন। সফল হবার ক্ষেত্রে কখনও বিফল হয় কিন্তু সুলতান মাহমুদ গজনবিরা কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফলতার স্বর্ণ শিখরে পৌঁছেই যায়। শুভ কামনা রইল।

আশা করি আপনার-ই এনে দেবেন এক মহামারী মুক্ত পৃথিবী।
দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে নিজেকে যিনি বিলিয়ে দিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন তাকে স্যালুট না করে পারা যায় কি?

স্যালুট বীর বাঙালি, এগিয়ে যাক বাংলাদেশ,গর্বিত বাঙ্গালী জাতি।

বিশিষ্ট কলামিস্ট উমর আলী