আসুন মুসলিম বিশ্বের জন্য আমরা ইতিহাস তৈরি করে নিই: ইমরান খানকে এরদোগান

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রজব তাইয়েব এরদোগান আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সংসদে ভাষণ দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তুর্কি রাষ্ট্রপতির সাথেই ছিলেন। এরদোগান বলেন, আমি কখনও পাকিস্তানে অপরিচিত বা একাকীত্ব অনুভব করিনি।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে অবস্থানকালে সবসময় মনে হয় আমি নিজের বাড়িতেই রয়েছি। এসময় তিনি পাকিস্তানি ও তুর্কিদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার প্রশংসা করেন। জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার তুর্কি রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন,

এরদোগান পাকিস্তানের সত্যিকারের বন্ধু এবং ইসলামী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তুর্কি প্রেসিডেন্ট ভাষণের জন্য আসলে সংসদের সদস্যগণ ডেস্কে পাথর মেরে তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর পার্লামেন্টে পাকিস্তান ও তুরস্কের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

রাষ্ট্রপতি এরদোগান সিনেটরদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। তিনি সংসদে ইমরান খানকে লক্ষ্য করে বলেন, আসুন মুসলিম বিশ্বের জন্য আমরা ইতিহাস তৈরি করে নিই।

এরদোগানকে নিয়ে নিজেই গাড়ি চালালেন ইমরান খান!

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান দু দিনের সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন। দু দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং অর্থনৈতিক সর্ম্পক জোরদার করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।

তুরস্ক থেকে সস্ত্রীক এরদোগান পাকিস্তানের সেনাশহর রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে এসে পৌঁছালে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ সময় পাকিস্তান মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরে পাকিস্তানের একটি চৌকস সেনাদল প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে গার্ড অব অনার ও লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়। পরে বিমানবন্দর থেকে এরদোগানকে নিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাকিস্তান সফরে তুর্কি প্রেসিডেন্টের সাথে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল রয়েছে যাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং তুরস্কের বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা রয়েছেন।

গত ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মুসলিম দেশগুলোর অংশগ্রহণে যে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাতে ইমরান খানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত সৌদি চাপের কাছে নতিস্বীকার করে তাতে যোগ দেন নি।

ওই সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে তুরস্ক, ইরান ও কাতারের রাষ্ট্র প্রধানরা যোগ দিয়েছিলেন। এ নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে তা ঠিকঠাক করতে যখন চেষ্টা চলছে তখন তুর্কি প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সফরে গেলেন।

কুয়ালালামপুর সম্মেলনকে সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের মধ্যে নতুন একটি জোট গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছিল। তবে, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তান সৌদি আরবের অভিযোগ তখন নাকচ করে দেয়। সূত্র: পার্সটুডে