মোংলায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হলেন এক স্কুল শিক্ষিকা

ওয়াসিম আরমানঃ মোংলায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগকরে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক স্কুল শিক্ষিকা শর্মিষ্ঠা মিত্র। বর্তমানে তার নাম রাখা হয়েছে মোসাঃসেজুতি বেগম।হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হওয়ার কারনে তার পূর্বের স্বামী তাকে সন্মান হানী করছে এমন অভিযোগ করেছেন নব মুসলিম মহিলা সেজুতি বেগম।

এ সম্পর্কে সেঁজুতি বেগম জানান স্কুল জীবন থেকেই মুসলিম ধর্মের প্রতি আমার দুর্বলতা কাজ করতো।আমার কাছে মুসলমান ধর্মের সকল নিয়ম কানুন আচার আচরণ ভালো লাগতো।কিন্তু হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহন করায় তখন মুসলমান ইচ্ছা থাকলেও সমাজের কথা ভেবে তা কখনো বাস্তবায়ন করতে পারি নাই।

২০০৮ সালে আমার মোংলার ব্রাম্মনমেঠ গ্রামের সুশান্ত’র সাথে বিয়ে হয়।স্বামীর সংসারে মোটামুটি ভালোই চলছিলো আমার দাম্পত্য জীবন । কিন্তু কিছুদিন পর হঠাৎ স্বামী সুশান্ত আমার সাথে বিভিন্ন অযুহাতে খারাপ ব্যবহার শুরু করে।দিন দিন তার খারাপ ব্যাবহারের মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে।সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করা ও শুরু করে দেয়।

আমি তখন গর্ভবতী হওয়ায় অনাগত সন্তানের কথা ভেবে সব নির্যাতন মেনে নিয়ে সংসার করতে থাকি।এরই মধ্যে আমাদের কোল জুড়ে আসে একটি পুত্র সন্তান। সন্তানের মুখের দিক তাকিয়ে ভেবেছিলাম হয়তো আমার স্বামী ভালো হয়ে যাবে।কিন্তু না তা হলো না উল্টো বেড়ে গেলে নির্যাতন এর মাত্রা।আমি একজন স্কুল শিক্ষিকা তাই সমাজের কথা ভেবে নীরবে সব সহ্য করে যেতাম।

সবকিছু স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল হঠাৎ একদিন আমি জানতে পারলাম আমার উপর নির্যাতন এর রহস্য।জানলাম আমার স্বামী অন্য এক মেয়ের সাথে পরকীয়ায় আসক্ত,প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম।

পরে যখন দেখলাম ঘটনা আসলেই সত্য তখন আমি রাগ করে আমার বাবার বাড়ি চলে যাই,কিছুদিন বাবার বাড়ি থাকার পর আমার স্বামী সুশান্ত আমার বাবার বাড়ী আসে এবং আমার কাছে তার পূর্বের কৃতকর্মের জন্য ভূল স্বীকার করে।আমিও সন্তানের মুখের দিক তাকিয়ে পিছনের কথা ভূলে গিয়ে ওর কথাই সায় দিয়ে আবার স্বামীর বাড়ি ফিরে আসি।

কিছুদিন যেতে না যেতে আবারও আমাকে মানুষিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে আমার স্বামী সুশান্ত। আমার চাকরির বেতনের টাকা পর্যন্ত নিয়ে যেত সে,এবং টাকা দিতে না চাইলে খারাপ ব্যাবহার করতো, তারপরও আমি আমার সন্তানের কথা ভেবে সকল যন্ত্রণা সইতে থাকি।

একসময় আমি আর সইতে পারছিলাম না।তখন আমি তাকে সেচ্ছায় কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দেই। এরপর আমি সেচ্ছায় কোর্টের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করি।কারন পূর্বে থেকেই আমার ইসলাম ধর্মের প্রতি আলাদা টান ছিলো।মুসলমান ধর্ম পালনের বেশ কিছুদিন পর আমি মুসলমান ধর্মের নিয়ম রীতি অনুযায়ী মুসলমান একটি ছেলেকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করি।ভালোই কাটছে আমার বর্তমান সময়।

এটা সহ্য করতে পারছে না আমার পূর্বের স্বামী সুশান্ত। সে এখন বিভিন্ন ভাবে সমাজের কাছে আমাকে হেয় করার চেস্টা করছে।আমার নামে নানান রকমের খারাপ কথা রটাচ্ছে।আমি এখন তার কারনে সমাজের কাছে দোষী হয়ে উঠেছি।সমাজের কাছে আমার সন্মান হানি করছে আমার পূর্বের স্বামী সুশান্ত।

আরও পড়ুন

আরো পড়ুন-বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআনের অনুবাদ পড়ানোর প্রস্তাব পাস করল পাকিস্তান

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ শিক্ষাদানের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ।

সোমবার দেশটির সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আলী মোহাম্মদ খানের উত্থাপিত প্রস্তাবট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় বলে জিয়ো নিউজ উর্দূর খবরে বলা হয়েছে।

স্পিকার আসাদ কায়সারের সভাপতিত্বে চলা জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাবনা পেশ করেন।

এতে বলা হয়, কোরআনের উর্দূ অনুবাদ পাঠদানের মাধ্যমে আমাদের প্রজন্মের সামনে জ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এ জন্য যেসব প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুবাদসহ কোরআন পড়ানো হয় না সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থসহ কোরআন পড়ানো উচিত।

পরে সংসদ বিষয়কমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবটি সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুবাদসহ পবিত্র কোরআন শিক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

জিয়ো নিউজ জানিয়েছে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিগ্রি অর্জনের জন্য অনুবাদসহ কোরআন অধ্যায়ন একটি অপরিহার্য শর্ত।

আরো পড়ুন-এবার আল-আকসা উদ্ধারের ঘোষণা এরদোগানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান আয়া সোফিয়াকে আবারো মসজিদে পরিণত করার পর এবার ইসরাইলের কাছ থেকে “আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করার” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত শুক্রবার তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য জেরুসালেম পোস্ট।

গীর্জা থাকার পর আয়া সোফিয়াকে ১৪৫৩ সালে মসজিদে রুপান্তরিত করেন উসমানিয় সুলতান মেহমুদ আল ফাতিহ। পরে ১৯৩৪ সালে তা যাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছিল। আয়া সোফিয়াকে আবারো মসজিদে রুপান্তরের ঘোষণা দেয়া হয়।

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার ঘোষণার পর আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করার বার্তা দেয়া হয়েছে তুর্কি প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে।

বলা হয়েছে, আয়া সোফিয়ার পুনরুত্থান হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের আবারো কতৃত্বের প্রথম পদক্ষেপ…আয়া সোফিয়ার এই উত্থান নিপীড়িত, শোষিত মুসলমানদের আশার আলো।

ভাষণটির আরবি অংশে বলা হয়েছে, আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করা আল-আকসা মুক্তির অংশ। জেরুজালেমের পুরানো শহর যেখানে আল-আকসা মসজিদ রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ থেকে ইসরাইলকে বিতাড়িত করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

এরদোগান ইসরাইলের চরম সমালোচক হিসেবেই পরিচিত।