ভারতকে আরও ‘জটিল পরিস্থিতির’ হুঁশিয়ারি দিল চীন

বেশ কিছুদিন ধরেই ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনার পারদ জমছিল। তা কমানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই হঠাৎ সংঘর্ষ। লাদাখে গালোয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনার সংঘর্ষ ঘিরে এখন ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে অশান্তির পারদ। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আবারও হুঁশিয়ারি দিল বেজিং।

বুধবার (১৭ জুন) চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিঝিয়ান বলেন, ভারতীয় বাহিনী যেন সীমান্ত পেরুনো বা এক তরফা পদক্ষেপের মতো কিছু না করে, তার ফলে আরও জটিল হতে পারে সীমান্ত পরিস্থিতি।

তার মতে দুই দেশই শান্তিরক্ষার জন্য উত্তেজনা প্রশমন করতে আলোচনা চালাচ্ছিল। শান্তি বিঘ্নিত করে সংঘর্ষের দায় কার্যত ভারতের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর চীনের বিদেশমন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানায়, ভারতীয় বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে চীনা বাহিনীর উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল।

সেই হামলার পাল্টা উত্তর দিতেই চীন আক্রমণ করে, দাবি বেজিংয়ের। সেই সঙ্গে বেজিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় না গিয়ে নয়াদিল্লি যেন কোনও নতুন পদক্ষেপ না নেয়, সে বিষয়েও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, লাদাখে গালোয়ান উপত্যকায় চীন-ভারত সংঘর্ষ নিয়ে মঙ্গলবার রাত্রে আলোচনায় বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চার হেভিওয়েট মন্ত্রী। ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ছিলেন ভারতীয় সেনার চিফ জেনারেল এমএম নারাভানে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মৃত্যুকে ছাড়িয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র!

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৪ জনে দাঁড়ালো। যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দেশটির মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১৬ সেনার প্রাণহানি ঘটে। বিগত দুই দিন ধরে দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪শ’র নিচে নামলেও নতুন করে সে সংখ্যা আবার বাড়ল।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুসারে দেশটিতে গত একদিনে নতুন করে আরও ২৩ হাজার ৩৫১ জন আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ছাড়ালো।

করোনায় বিশ্বে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের। সূত্র: ফরচুন, এনডিটিভি

কাঁটা জড়ানো রড দিয়ে ভারতীয়দের ওপর হামলা চালিয়েছিল চীন!

সোমবার সন্ধ্যাবেলা পূর্ব লাদাখে চীন সেনার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ভারতীয় বাহিনীর। মঙ্গলবারই ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, গালওয়ানে এই সংঘর্ষে ২০ জন জওয়ান নিহত হয়েছেন। এখন জানা গেছে, আরো চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তবে ভারতীয় সৈন্যরাও আচড় কেটেছে বিপক্ষেও। সূত্রে খবর, অন্তত ৪৫ জন চীনা সেনা মারা গেছে সংঘর্ষে। যদিও চীন স্বীকার করেনি। কিন্তু কেন এমন ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ শুরু হল হঠাৎ? ভারতের‌ এক সেনা অফিসার জানিয়েছেন সংঘর্ষের আসল কারণ।

চীনের একটি ঘাঁটি নিয়েই বচসা শুরু হয় দু’‌পক্ষের। গালওয়ান নদীর দক্ষিণ তীরে একটি ঘাঁটি করে চীন সেনাবাহিনী অবস্থান শুরু করে। ওই অংশটি ‘‌বাফার জোন’‌ বা ‘‌নো ম্যানস ল্যান্ড’‌ এর অন্তর্ভুক্ত।

অর্থাৎ ভারত বা চীন কারো ভূখণ্ডেই পড়ে না। ভারতীয় সেনাসদস্যরা ঘাঁটি সরাতে বলে। আপত্তি জানায় চীন সেনা। সেই নিয়ে লড়াই বাঁধে। ভারতীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়, এর পরই চীন সেনা হামলা চালায়।

গালোয়ান উপত্যকায় এখনো হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা। এই অবস্থায় ভারতীয় সেনাদের নদীতে ফেলে দেয়। তীব্র ঠান্ডায় মারা যান বহু সেনা সদস্য। পরে নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে। এখানেই থামেনি প্রতিপক্ষ। পাথর, রড নিয়ে আক্রমণ করে। রডে আবার প্যাচানো ছিল কাঁটা।

ভারতীয় মিডিয়ার খবর পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনাসদ্যরাও। অত উচ্চতায় অক্সিজেনের এমনিতেই অভাব থাকে। এই অবস্থায় হাতাহাতি করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই হয়েছে দু’‌পক্ষের সেনার।

লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘিরে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ চলছিলই। সীমান্তের দুই পারে নিজেদের দিকে ভারত–চীন দু’‌জনেই সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছিল। তাবলে এত হতাহত!‌

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এখনো বিবৃতি দিয়ে কারণ জানায়নি। চীন বারবার দাবি করেছে, ভারতীয় সেনা সদস্যই নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে চীন ভূখণ্ডে ঢুকে আক্রমণ চালিয়েছে। ভারত এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। জানিয়েছে, ‘‌চীনই একতরফা সীমান্তে স্থিতাবস্থা নষ্ট করেছে।’‌ সূত্র: আজকাল