বন্ধু কাদিরকে হারিয়ে শোকে কাতর ইমরান খান

পাকিস্তানের কিংবদন্তি লেগস্পিনার আব্দুল কাদির (৬৩) মা’রা গেছেন। শুক্রবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তার মৃ’ত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পাক ক্রিকেটে। শোকাচ্ছন্ন বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা।

তবে বেশি মন কাঁদছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। বন্ধু পরপারে চলে যাওয়ায় শোকে কাতর তিনি। কাদিরের ক্রিকেটে উঠে আসার গল্পটা ছিল রূপকথার মতো।

যে সময় ওয়ানডে ক্রিকেটে লেগস্পিনাররা পাত্তাই পেতেন না, ঠিক সে সময়ে আবির্ভাব ঘটে তার। এসেই কাঁপাতে থাকেন সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানদের। সমানতালে টেস্টে ত্রাস, আতংক ছড়াতে থাকেন তিনি।

তাতে নড়েচড়ে বসে ক্রিকেট বিশ্বের দলগুলো। তাকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হয় তাদের। তার হাত ধরেই মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায় লেগস্পিন। পরে যেটাকে জাগিয়ে তোলেন শেন ওয়ার্ন, মুশতাক আহমেদরা। এক পর্যায়ে সেটিকে শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে দেন তারা।

যার হাত ধরে বেঁচে যায় লেগ স্পিন, সেই কাদিরকে তুলে এনে বিশ্ব ক্রিকেটকে ঋণী করে দেন ইমরান খান। ৮০’র দশকে টেস্ট ও ওয়ানডে-দুই সংস্করণে তার সঙ্গে ভয়ংকর জুটি গড়ে তোলেন তিনি।

খেলোয়াড়ি জীবনের সেই সতীর্থকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সপ্তাহখানেক পরই ৬৪ বছর বয়সে পা রাখতেন কাদির। এর আগেই অসংখ্য ভক্ত, গুনগ্রাহীকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন তিনি।

এক শোকবার্তায় ইমরান বলেন, আমি খুব ভালো একজন বন্ধু হারালাম। আর আমরা খোয়ালাম দুর্দান্ত এক ক্রিকেটারকে, যে দেশের হয়ে নিজেকে সর্বদা নিংড়ে দিতেন। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ।

এরপর দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ইমরান। কাদিরের মৃত্যুকে এ সময়ে বড় আঘাত বলে মনে করছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া টুইটারেও শোক প্রকাশ করেছেন ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

ইমরান বলেন, কাদিরের চলে যাওয়া আমাকে খুব পীড়া দিচ্ছে। তার পরিবারের প্রতি আমার দোয়া ও সমবেদনা রইল। সে ছিল এক অপার রহস্য, তুখোড় প্রতিভা, সর্বকালের সেরা অন্যতম লেগস্পিনার। কৌতুক-রসের কথা বলে সবসময় দল ও ড্রেসিং রুম চাঙা রাখত ও।

১৯৭৭-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ৬৭ টেস্ট খেলে ২৩৬ উইকেট শিকার করেন কাদির। ১০৪ ওয়ানডেতে দখল করেন ১৩২ উইকেট। তাকে বলা হয় কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন, মুশতাক আহমেদের গুরু।

১৯৮৭ সালে লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ইনিংসে ৫৬ রানে ৯ উইকেট নেন তিনি। এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। ইমরানের নেতৃত্বেই এ অর্জন করেন কাদির। ইমরানের নেতৃত্বেই এ অর্জন করেন কাদির।

কাশ্মির ইস্যুতে সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়া দেখানোর ঘোষণা ইমরান খানের

ভারত অধিকৃত কাশ্মির নিয়ে নয়া দিল্লির অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদ ‘সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কাশ্মির নিয়ে কোনো

‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ তৈরি হলে তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায়ী থাকবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষা দিবসে দেয়া বিবৃতিতে ইমরান এসব বলেছেন।

১৯৬৫ সালে ভারতের সাথে যুদ্ধে অংশ নেয়া পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের স্মরণে ইসলামাবাদ প্রতি বছর দিবসটি পালন করে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই সমগ্র কাশ্মিরের মালিকানা দাবি করলেও, দুটো দেশই এর পৃথক দু’টি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

নয়া দিল্লি সম্প্রতি তাদের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে দেয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে উপত্যকাটিকে দু’টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দেয়ার পর পাকিস্তান এর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালিত রেডিওতে দেয়া বিৃতিতে ইমরান বলেন, ‘পাকিস্তান যে যুদ্ধ চায় না, বিশ্বকে সে কথা জানিয়েছিলাম আমি। একই সাথে পাকিস্তান তার নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার ওপর চলে আসা প্রতিবন্ধকতায় মুখ বুজে থাকবে না।

শত্রুকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত আমরা। এর পরে যেকোনো বিপর্যয়কর পরিণতির জন্য ব্যর্থ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই দায়ী থাকবে।’ এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানের এ

প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। পাকিস্তান প্রথমে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপে জড়াবে না বলেও আশ্বাস ছিল তার।

এক দিন আগে এক টুইট বার্তায় কাশ্মির ইস্যুতে আবারো ভারতের তীব্র সমালোচনা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ উপত্যকায় মানবাধিকারবিষয়ক আইন লঙ্ঘিত হলেও বিশ্ব সম্প্রদায় নীরব থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ইমরান খান টুইট বার্তায় বলেন, ‘মোদি সরকারের দখলদার ভারতীয় বাহিনী দ্বারা জম্মু-কাশ্মিরকে অবরুদ্ধ করে রাখার ৩২ দিন পার হলো। এই অবরোধের মধ্যে ভারতীয় বাহিনী হত্যা করেছে,

আহত করেছে (বন্দুকের গুলি দিয়ে), কাশ্মিরি নারী, পুরুষ ও শিশুদের অপব্যবহার করেছে। বহু কাশ্মিরিকে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে নেয়া হয়েছে।’ কাশ্মিরের হাসপাতালগুলোতে মেডিক্যাল সাপ্লাই শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন,

‘কাশ্মিরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে মৌলিক প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সাপ্লাই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর থেকেও ভয়াবহ খবর পাওয়া যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।’ অন্য টুইট বার্তায় ভারতের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন,

মানবাধিকার আইনসহ আন্তর্জাতিক আইনগুলো লঙ্ঘন করছে ভারত, যা বিশ্ব দেখছে। তারপরও বিশ্ব নীরব কেন?’ ইমরান আরো বলেন, আসাম ও কাশ্মিরে যে ‘জাতিগত নিধন’ চলছে তা দেখছে বিশ্ব।

হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মির নিয়ে নয়া দিল্লির ওপর চাপ বাড়াতে ইমরান যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রের নেতাদের সাথে দফায় দফায় কথা বললেও কাজ হয়নি। এ দিকে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রতিরক্ষা দিবসের

এক আয়োজনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার আহমেদ বাজওয়া বলেছেন, ‘পাকিস্তান কখনোই কাশ্মিরকে ত্যাগ করবে না। তিনি বলেন, কাশ্মিরি ভাইদের জন্য আত্মত্যাগে শেষ বুলেট, শেষ সৈন্য ও শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত; এ জন্য যতখানি যেতে হয় আমরা প্রস্তুত।’